শৈশবে কখনো কখনো রাজ্যের যত বিস্ময় চোখে নিয়ে বাবার পিঠে চড়ে, কিংবা মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে এক দুঃসাহসী কিশোর হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি মাঠে-প্রান্তরে। আমার চাঞ্চল্য কখনোই তাঁকে বিরক্ত করেনি। বরং পেয়েছি তাঁর এবং তার কর্মসংশ্লিষ্ট মানুষগুলোর আদর ও ভালোবাসা। যখন বড় হচ্ছি, তখন বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের এসআইটি গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা শুরু করেন তিনি। পরে দেশে ফেরেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসেবে। এখন তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সব কর্মক্ষেত্রেই বাবা চেষ্টা করেছেন মানুষের অন্তরে শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে। বাবা হয়তো জানেনই না, তাঁর কর্মজীবন ও চিন্তা আমাকে কতটা অনুপ্রাণিত করেছে।

বাবা চেয়েছিলেন আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হই। কিন্তু এদিকে আমি তো বাবার কাজ ও আদর্শে মন্ত্রমুগ্ধ, আমার চিন্তাচেতনা তো অনুপ্রাণিত তাঁরই কাজে এবং জীবনাদর্শে। তাই আমি মেডিকেলে না পড়ে বাবার মতোই যাত্রা শুরু করি অর্থনীতিতে।

অর্থনীতিকে অনেকেই অর্থের বিদ্যা মনে করলেও অর্থনীতির মূল বিষয় হলো মানুষ। মানুষের চিন্তাধারা ও মানুষের সিদ্ধান্ত। বাবা যেমন অর্থনীতির জ্ঞান কাজে লাগিয়েছেন মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে, আমি কাজ করছি মানুষের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে। বাবার পিএইচডি সম্পন্ন করার ঠিক ৪০ বছর পর আজ আমি আমার পিএইচডি শেষ করার পথে আছি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি। অর্থনীতির পড়াশোনার লম্বা এই পথে আমার যাত্রা কেবল শুরু এবং আমার জীবনে আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য বাবার কাছে আমি চিরঋণী।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন