বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জ্যাকুলিন কেনেডি

default-image

অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সহধর্মিণী জ্যাকুলিন কেনেডি ছিলেন একেবারেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল। প্রকৃতিপ্রদত্ত সৌন্দর্যের সঙ্গে সোনায় সোহাগা যোগ করেছিল তাঁর অত্যন্ত সুচারু সাজপোশাক। পোশাক-আশাক, চুলের স্টাইল আর ব্যতিক্রমী অনুষঙ্গের ব্যবহার তাঁকে সর্বকালের সেরা মার্কিন ফ্যাশন আইকনদের একজনে পরিণত করেছে। ‘পার্ল ইজ অলওয়েজ অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’ বা মুক্তার উপযোগিতা সব সময়ই—এটা ছিল তাঁর বিখ্যাত উক্তি। সাহসী কাট ও ডিজাইনের চোখে লাগার মতো উজ্জ্বল পোশাকের সঙ্গে তিন লহরী মুক্তার মালায় জ্যাকি কেনেডি হয়ে উঠেছিলেন আমেরিকান সুইটহার্ট।

default-image

এখানে লক্ষণীয়, তিনি বেশির ভাগ সময়েই ঝকঝকে সাদা ফক্স পার্ল বা কৃত্রিম মুক্তার মালাতেই নিজেকে সাজাতেন। এ ব্যাপারে তাঁর নীতি ছিল, ফক্স পার্লের দরদাম কম হওয়ায় যেন খেটেখাওয়া শ্রেণির নারীরাও পার্লের ফ্যাশনে নিজের শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারে। সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি ও বারবারা বুশ ও জ্যাকুলিন কেনেডির এই স্টাইলকে অনুসরণ করেছেন।

কোরাজন আকিনো

default-image

ফিলিপাইনের দুই দশকের স্বৈরশাসক মার্কোসের বিরুদ্ধে যুগান্তকারী প্রতিরোধ আর আন্দোলন গড়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হওয়ার পর সে দেশের প্রতাপশালী রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সর্বজন নমস্য কোরাজন আকিনো। তাঁর স্বামী বিখ্যাত রাজনীতিবিদ বেনিনো আকিনো আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে উত্থান ঘটা এই শক্তিধর নারীর সাজপোশাকে কখনোই বাহুল্য বা সচেতনভাবে স্টাইলিংয়ের তেমন ছাপ দেখা যায়নি। কিন্তু জীবদ্দশায় একমাত্র যে প্রিয় অলংকারটি তাঁকে পরতে দেখা যেত তা হলো, শ্যানেলের একটি বড় মুক্তায় গাঁথা এক লহরি মালা। আর এই সাধারণ মুক্তার সাজেই জনপ্রিয় কোরি আকিনোর শক্তিমত্তার দ্যুতি ফুটে উঠত তাঁর ব্যক্তিত্বে।

কমলা হ্যারিস

default-image

মুক্তার গয়নাকে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে একেবারে অন্য উচ্চতায় যে প্রতাপসম্পন্ন নারী রাজনীতিবিদ নিয়ে গেছেন, তিনি নিঃসন্দেহে বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। পূর্বতন মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন আর মিশেল ওবামার মতোই একেবারে আধুনিক ও ফিউশনধর্মী মুক্তার গয়নার ধারা বজায় রাখলেও কমলা হ্যারিসের কাছে মুক্তার মালা মানে খুব গভীর কিছু। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের পারস্পরিক বন্ধনের মন্ত্রে দীক্ষিত একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে ২০টি মুক্তায় একই সূত্রে গাঁথা ‘সিস্টারহুড’ বা ভগ্নিসুলভ নৈকট্য ও নির্ভরতার কথা বলা হতো। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্যময় সব মুক্তার গয়নায় দেখা যায়।

নিজের অফিশিয়াল পোর্ট্রেট তৈরির সময়সহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে তিনি নিজ প্রদেশের নারী জুয়েলারি ডিজাইনার আইরিন নিউওয়ার্থের তৈরি মুক্তা আর স্বর্ণের সমন্বয়ে ঝলমলে লিংক চেইন পরেছেন। কংগ্রেসে শপথ নেওয়ার প্রাক্কালে উপযুক্ত ভাবগাম্ভীর্য অনুযায়ী তিনি বেছে নিয়েছেন প্রাকৃতিকভাবে গাঢ় বর্ণের তাহিতিয়ান মুক্তার গয়না। আবার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পরার জন্য মুক্তার নেকপিস ডিজাইন করতে দেন তিনি তাঁরই মতো অভিবাসী বাবা–মায়ের সন্তান এবং বিখ্যাত জুয়েলারি ডিজাইনার উইলফ্রেডো রোজাডোকে। বিশালাকৃতির সাউথ সি পার্লগুলোকে এখানে খুবই সূক্ষ্ম ধাতব সংযোগে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সামান্য হিরের কারুকাজে।

default-image

মিশেল ওবামা যেমন আধুনিক পোশাকের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মুক্তার গয়নায় দীপ্ত পদচারণে কাঁপিয়েছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের ফ্যাশনজগৎ। অন্যদিকে কমলা হ্যারিসের প্যান্ট, স্যুট, টি–শার্ট আর কনভার্স জুতোর সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে নজরকাড়া ডিজাইনের আগলভাঙা সব মুক্তার গয়না। মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যোগসূত্র ধরে সারা দেশের নারীরা মুক্তা পরে উদ্‌যাপন করেছেন ‘ওয়্যার পার্লস টু ইনগোরেশন ডে’। বহু মার্কিন নারী মুক্তার গয়না পরে ভোট দিতে গেছেন কমলা হ্যারিসের প্রতি অন্তরের ভালোবাসা থেকে।

আবার আমাদের উপমহাদেশের নারী রাষ্ট্রনায়কেরা বহুকাল আগে থেকেই ক্ষমতাশালী ও দক্ষ বলে জনসমাদৃত হয়েছেন বিশ্বে। পৃথিবীর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—সবাই মুক্তার এক লহরি কালোত্তীর্ণ

default-image

ডিজাইনের মালায় তাঁদের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছেন ও ঘটাচ্ছেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আবার বেশ বড় আকৃতির মুক্তায় গাঁথা মালা পরতেন, যা তাঁকে বিশিষ্ট এক রূপ দেয়। শ্রীলঙ্কার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গের মুক্তার মালাটি এদিকে বেশ লম্বা আকারের, যা তাঁর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে অত্যন্ত নজরকাড়ে।

default-image

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকেও প্রায়ই মুক্তার বড় টপ পরতে দেখা যায় কানে। এ ছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্সেস ডায়ানা, ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনও প্রায়ই সূক্ষ্ম কারুকাজের মুক্তার ব্রোচ ও গয়না পরেছেন ও পরেন।

মুক্তা আসলে অন্য সবকিছু থেকে একেবারেই আলাদা। এর মধ্যে ঝাঁ–চকচকে ভাবের বদলে আছে এক অন্য রকম দ্যুতি, আছে সৌম্য রূপ। ঝিনুকের ভেতরে বালুকণা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই মুক্তার মালা তাই যুগে যুগেই সবার কাছে আদরণীয়। মুক্তার গয়না যেন ক্ষমতা আর শক্তির পরোক্ষ প্রতীক। বিশেষ করে মুক্তার মালায় অনন্য হয়ে উঠেছেন বিশ্বের ডাকসাইটে আর দাপুটে নারীরা।

লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন