কদিন আগে ফ্যাবল্যাবে গিয়ে দেখা গেল, থ্রিডি প্রিন্টারে শিক্ষার্থীরা রোবটের যন্ত্রাংশ প্রিন্ট করছেন। কেউ কেউ তার দিয়ে যন্ত্রের সঙ্গে মেলাচ্ছেন। একই দপ্তরের তৃতীয় তলার পাঠাগারে প্রোগ্রামিং কর্মশালা পরিচালনা করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। জানা গেল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষক হিসেবে একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন।

ফ্যাবল্যাবে কর্মরত শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে থ্রিডি প্রিন্টার, লেজার প্রিন্টার, কম্পিউটার, রাস্পবেরি পাই, মাইক্রোকন্ট্রোলার, বেসিক ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ, রোবট তৈরির সরঞ্জামসহ নানা কিছু আছে। দুটি থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে রোবটের বডি প্রিন্ট করা হচ্ছে। চলছে ভয়েস ও ইমেজ রিকগনিশন, ইমেজ ডিটেকশন, জেন্ডার ও ইমোশন ডিটেকশন এবং গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনের কাজ। এখানে নানা কার্যক্রমে যুক্ত আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম রোবটিকসের একটি দল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র সঞ্জিত মণ্ডল জানান, ‘সারা দিনই এখানে কাজ চলে। হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে ছয় পাখার একটা ড্রোন তৈরি করেছে, রোবট তৈরি করছে। নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন রোবট বানাচ্ছে। কুমিল্লার প্রত্যন্ত পল্লির শিক্ষার্থীরাও রোবট তৈরির দিকে ঝুঁকছে।’

নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, ‘রোবটিকস প্রতিযোগিতায় আমাদের স্কুলের এক শিক্ষার্থী পুরস্কার পেয়েছে। স্কুল পর্যায়ে রোবট তৈরির প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করেছে।’

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের শিক্ষার্থী ফারিহাল আবেদনীন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। এই আগ্রহ কাজে লাগাতে পারলে বিজ্ঞানের চর্চা আরও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্র ফয়সল আহমেদ জিলানী বলেন, ‘নাঙ্গলকোট ও লাকসামের শিক্ষার্থীদের রোবটিকসের প্রতি ভীষণ আগ্রহ। গ্রামের ছেলেমেয়েরা বেশ মজা পাচ্ছে। আশা করি কুমিল্লাবাসী এর সুফল পাবে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রোবটিকস শেখানো হয়। বাংলাদেশেও এই চর্চা থাকা উচিত বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কুমিল্লার মেঘনা, লাকসাম, চান্দিনা, নাঙ্গলকোট, ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, দাউদকান্দি, তিতাস, লালমাই ও বুড়িচং উপজেলায় রোবট তৈরি ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ চলছে। আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলায় এক হাজার রোবট, এক হাজার ফ্রিল্যান্সার এবং এক হাজার প্রোগ্রামার গড়ে তোলা। প্রতি উপজেলায় একটি প্রোগ্রামিং স্কুল হচ্ছে। ইতিমধ্যে কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে রোবটিকস ও প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি।’