কিছু শিশু সব সময় নির্জীব থাকে। খেলাধুলা করতে চায় না, পড়াশোনায়ও অমনোযোগী থাকে তাঁরা। এসব শিশুর আয়োডিনের ঘাটতি থাকতে পারে। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় এই সমস্যার শুরু হয়। মায়ের আয়োডিনের ঘাটতি থাকায় শিশুর মস্তিষ্কের পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না।
গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরে থাইরক্সিন হরমোনের অভাব দেখা দেয়। তখন গর্ভস্থ শিশুও থাইরক্সিন পায় না। এতে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন সম্পূর্ণ হয় না। মায়ের থাইরক্সিনের অভাব দেখা দেয় আয়োডিনের অভাবে। আয়োডিনের অভাবে কেবল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুই জন্ম নেয় না। গর্ভাবস্থায় শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে আয়োডিন বঞ্চিত হলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, খর্বকায় হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। আয়োডিনের অভাব তীব্রতর হলে গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগ হয়।
•ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় আট কোটি মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু পরিমাণে আয়োডিনের অভাব রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষের আয়োডিনের অভাব দৃশ্যমান। আয়োডিনের অভাবে পাঁচ লাখ লোক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত হচ্ছে।
আয়োডিন প্রাকৃতিকভাবে মাটি ও পানিতে পাওয়া যায়। যে সব প্রাণী ও উদ্ভিদ মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমেও আয়োডিন পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বন্যার ফলে মাটি হতে এই আয়োডিন ধুয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
আয়োডিনের ঘাটতি জনিত সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই বাড়তি আয়োডিন খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আয়োডিন যুক্ত লবণ গ্রহণ করা। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ, মাছের যকৃতের তেল যেমন কডলিভার, শার্ক লিভার অয়েল, সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং ছাগলের দুধে আয়োডিন পাওয়া যায়।
আয়োডিন দেহে বেশি পরিমাণে সংরক্ষণ করা যায় না। তাই নিয়মিত এবং পরিমাণ মতো আয়োডিন গ্রহণ করতে হবে। একজন মানুষের দৈনিক ১০০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন হলেই চলে। কিন্তু ১০০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন খেলে ৮০ মাইক্রোগ্রামই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তাই বিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষের প্রায় ৫০০ মাইক্রোগ্রাম বা পাঁচ মিলিগ্রাম আয়োডিন প্রতিদিন খাওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।
লেখক, প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল