বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাউথ ডাকোটার এক স্কেটিং রিঙ্কে মেলভিন আর ন্যান্সির পরিচয়। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যান মেলভিন। এই গল্পের পরের অংশটা সরল। একটি বলপার্কে ডেকে ন্যান্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন মেলভিন। আর ন্যান্সিও দেরি না করে বলে দেন ‘হ্যাঁ’। সেই ‘ইয়েস’ ‘আই ডু’তে বদলাতে সময় লাগেনি। এই প্রেমিক জুটি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১৯৫২ সালের ৬ জানুয়ারি। বিয়ের সময় ন্যান্সির বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর আর মেলভিনের ২০।

default-image

বিয়ের সমস্ত খরচ তাঁরা নিজেরাই বহন করেন। অবশ্য বিয়ের আংটি নিয়ে মজা করতে ছাড়েন না মেলভিন। বলেন, ন্যান্সিকে পরিয়ে দেওয়া বিয়ের আংটি তিনি নাকি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন! আর বিবাহ–পরবর্তী অভ্যর্থনায় তাঁরা আইসক্রিম আর কেক খাইয়ে মিষ্টিমুখ করান উপস্থিত সবাইকে। সম্প্রতি তাঁরা বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেন নিজেদের বাড়ির সামনের বাগানে। আর সেখানে ফটোগ্রাফার হিসেবে ছিলেন তাঁদের সবচেয়ে ছোট নাতনি আনা। মজার ব্যাপার হলো, আনা নিজে একজন পেশাদার ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। আর বিশেষ ফটোশুটের মাধ্যমে আনাই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন।

default-image

দাদির বিয়ের এই অপূর্ব আয়োজন নিয়ে আনা বলেন, ‘আমার দাদা-দাদির কাছে তাঁদের বিয়ের হাতে গোনা কয়েকটি ছবি আছে। আমিই বিয়ের পোশাকে দাদিকে ওয়েডিং ফটোশুটে রাজি করানোর গুরুত্বদায়িত্ব পালন করেছি। অবশ্য এ ব্যাপারে আমার মা মেলিসাও সাহায্য করেন। তিনি দাদার জন্য তাঁর কোরিয়া যুদ্ধে পরা আর্মি স্যুট খুঁজে দেন।’

default-image

‘আমার বিয়ের পোশাক সব সময়ই আমার কাছে বিশেষ আবেগ বহন করে। তাই আমি এতগুলো বছর যত্নে রেখেছিলাম পোশাকটি’—৭০ বছর আগের বিয়ের পোশাক নিয়ে অনুভূতি জানান ন্যান্সি। আরও বলেন, ‘এই পোশাক আমাকে আমাদের বিয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিয়ের পোশাকটি আমার গায়ে এত দিন পরেও ঠিকঠাক ফিট হওয়ায় নিজেকে সম্মানিত লাগছিল। আমাদের বিয়ের দিনের স্মৃতিগুলো ভাবতে সত্যিই খুব ভালো লাগছিল। আর আমাদের ফটোশুটটাও খুব মজার ছিল।’

default-image

অন্যদিকে ন্যান্সিকে বিয়ের পোশাকে দেখার পর মেলভিন যেন ফিরে গিয়েছিলেন সেই তরুণ বয়সে। উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘ওকে বিয়ের পোশাকে দেখে আমার সব ভালো স্মৃতি ফিরে এসেছে।’ নিজেদের পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এই দম্পতি জানান, বিয়ের পর তাঁরা হানিমুনে যাওয়ার কোনো সুযোগ পাননি। কারণ, বিয়ের তিন সপ্তাহ পরেই মেলভিনকে কোরিয়া যুদ্ধে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি আট মাস ট্যাংক কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন।

default-image

ফিরে আসার পর মেলভিন বিক্রয়কর্মী হিসেবে এবং ন্যান্সি একটি মুদিদোকানে কাজ শুরু করেন। মেলভিনের একটি শখের ফার্মও ছিল। আর এভাবেই তাঁরা তাঁদের সন্তানদের বড় করে তোলেন। মেলভিন ও ন্যান্সি লুবার্স জুটির পাঁচ ছেলে–মেয়ে, আর নাতি-নাতনি আছে ১২ জন।

default-image

আর একসঙ্গে সংসার করার প্রায় ছয় যুগের হাজারো স্মৃতি তো রয়েছেই। ৭০ বছর একসঙ্গে কাটানোর পর এই জুটি ভাগ করে নিয়েছেন তাঁদের দীর্ঘ ও সুখী দাম্পত্যজীবনের রহস্য। মেলভিন বলেন, ‘সব সময় আপনি সব ব্যাপারে একমত হতে পারবেন না। মতবিরোধ থাকবেই। যখন কোনো ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করবেন, তখন একসঙ্গে বসুন। এ ব্যাপারে কথা বলুন এবং একটা সমাধানে পৌঁছান। একবার সমাধানে পৌঁছে গেলে এরপর এ নিয়ে আর কথা বলবেন না।’ ন্যান্সি যোগ করেন, ‘আপনি একমত না হলেও একে–অন্যকে সম্মান করুন। ভালোবাসুন, সম্পর্কের ব্যাপারে যত্নবান হোন। ক্ষমা করুন আর ভুলে যান। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আপনার সামনে অনেকগুলো অপশন খোলা থাকবে। আপনি সেরাটাই বেছে নিন।’

default-image
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন