ঈদে সাফার সারা বেলা

অভিনেত্রী সাফা কবিরের সাজ–পোশাক থেকে অন্দরসাজ, ঈদের দিন সবকিছুতেই থাকবে উৎসবের আমেজ।ছবি: কবির হোসেন

এবারের ঈদুল আজহার দিনটিও হয়তো বাড়িতে থাকতে হবে। তারপরও একটু বিশেষভাবে ঈদের সময়টা কাটাতে চান অভিনেত্রী সাফা কবির। নতুন পোশাক, ঘর সাজানো, নিজের হাতে রান্না সবকিছুই করবেন তিনি।

বছরজুড়েই কাজের ব্যস্ততা তাঁর। অবসর কমই। এ জন্য ঈদ এলে বাড়তি আনন্দের মাত্রা যোগ হয় তাঁর মনে। একে তো ঈদের আনন্দ, সঙ্গে যোগ হয় নিজের মতো করে কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগ। আর সেই সুযোগ পুরোই কাজে লাগান জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির।

সাফা বলছিলেন, ‘এবারও যেহেতু করোনাকালেই আসছে ঈদুল আজহা, তাই হয়তো বাসাতেই কাটাতে হবে দিনটি।’ ঈদ ঘিরে পরিকল্পনাগুলোও তাই বাসাকেন্দ্রিক, জানালেন তিনি।

যেহেতু কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই কাছের মানুষদের সঙ্গে ভিডিও বার্তায় কথা বলেই শুরু হবে তাঁর ঈদের দিন। ‘আসলে সময়টা তো ভালো নয়। এর মধ্যেই যতটুকু নিজেকে ভালো রাখা যায়, ততটুকু আয়োজনের চেষ্টা থাকবে’, মুঠোফোনে বলছিলেন সাফা।

ঘরোয়াভাবে রূপচর্চা করেন সাফা, সময় পেলেই
পোশাকে স্বাচ্ছন্দের বিষয়টি প্রাধান্য দেবেন সাফা

ঈদের দিন সকালে সাফা পরবেন নেট সুতির পোশাক। রংটা হবে একটু পেস্টাল শেডের। দুপুরের দিকে পরবেন গাঢ় সবুজ রঙের অর্গ্যান্ডা কাপড়ের পোশাক। তবে প্রতিবার ঈদেই পোশাকের ব্যাপারে সাফার রয়েছে নিজস্ব স্টাইল। প্রতি ঈদের পোশাকেই রাখতে চান স্বকীয়তা।

ঈদের রাতে যে পোশাক সাফা পরেন, সেটি প্রতিবছর নিজেই নকশা করে বানান। এবারও তাই। এবার সাফা নকশা বানিয়েছেন র‍্যাফল শাড়ি। ম্যাজেন্টা রঙের এই পোশাকের সঙ্গে সাফার সাজটাও হবে নিজের মতো।

সাফা বললেন, ‘সব সময় শুটিংয়ে ভারী মেকআপ নিয়ে থাকতে হয়, তাই ঈদের দিন একটু নিজের মতো সাজার চেষ্টা করি। চোখে মাসকারা, হালকা ব্লাসন আর লিপস্টিকের ব্যবহার ছাড়া খুব একটা বেশি সাজের পরিকল্পনা নেই।’ বরাবরই চুলটা একটু কোঁকড়া রাখতে ভালোবাসেন। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।

এদিকে সাফার হাতের রান্নার বেশ সুখ্যাতি তাঁর পরিবারে। সাফা বলেন, ‘তবে ঈদের দিন সাধারণত আম্মুই রান্নাঘরটা সামলান। ঈদের পরদিন আমি ঢুকি রান্নার কাজে।’ ঈদুল আজহার সময় প্রতিবারই সাফা রান্না করেন বিফ তেহারি। এই খাবার শুধু পরিবারের সদস্যদেরই নয়, সাফারও বেশ পছন্দের। ‘আসলে আমার হাতের বিফ তেহারি সবাই বিশেষ পছন্দ করে।’ কী বিশেষত্ব? সাফা বলেন, ‘যখন থেকে রান্না শিখি, তখন থেকে এই খাবারটি রাঁধতে রাঁধতে হাত বিশেষভাবে পাকিয়েছি। তাই এর স্বাদটাও বেশ নিখুঁত হয়।’

ঈদে িনজের নকশা করা পোশাক পরেন সাফা। এবার এটা পরবেন

বিফ তেহারির সঙ্গে সাফা আরও রাঁধবেন শর্ষেবাটা দিয়ে মুরগির রোস্ট ও আলুর কিমা চপ। তাঁদের পরিবারে খাবার মেন্যুতে সবার বিশেষ পছন্দের তালিকায় থাকে ডেজার্ট। এবারে ঈদুল আজহার সময় বাজারে আম থাকছে, তাই সাফা আমের মিষ্টান্ন তৈরি করবেন। গতবার বানিয়েছিলেন আমের পুডিং আর এবার বানাবেন ম্যাঙ্গো চিজ কেক।

সাজগোজ আর রান্নার পাশাপাশি ঘর সাজানোর দিকেও ঈদের সময় সাফার থাকে বাড়তি মনোযোগ। নিজে যেমন গুছিয়ে থাকতে ভালোবাসেন, তেমনি সব সময়ই ঘর পরিপাটি রাখাও সাফার নিত্য অভ্যাস। অন্দরসাজে একটু ফিউশন সাফাকে টানে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে একটু ফিউশনের সামঞ্জস্য রেখে সাজিয়েছেন নিজের ঘরগুলো। দেয়াল রাঙিয়েছেন গাঢ় রঙে। কিছুটা পাশ্চাত্য আবার কিছুটা দেশীয় ঘরানার সংমিশ্রণ দেখা যায় সর্বত্রই।

ঈদের দিন সবাইকে নিজ হাতে রেঁধে খাওয়ানোর পাশাপািশ টেবিল সাজােতও ভালোবাসেন সাফা কবির

‘আমার বাসায় বেড়াতে এলেই সবার মন যাতে সতেজ হয়ে যায়, এমনভাবেই ঘর সাজানোর চেষ্টা করেছি।’ বললেন সাফা। ঘরে আরও সতেজ ভাব আনতে ঈদের দিন ঘরে রাখেন সুগন্ধি মোম। এমনকি খাবার টেিবল সাজাতেও েমামের ব্যবহারকে প্রাধান্য দেন। এ ছাড়া এই মোমের আলোও সাফার বিশেষ পছন্দ। এই করোনাকালে ঈদের দিন বাইরের কেউ না এলেও মোমের এই আলোকচ্ছটাই যেন সাফার ঘরে নিয়ে আসবে উৎসবের আমেজ।