সময়ের সঙ্গে এখন তো আপনি আরও ক্ষমতাবান হয়েছেন। এই সময়ে দাঁড়িয়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কী কাজ করছেন?

আমার পরে অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। এখন তো এটা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। যেটা আমার স্বপ্ন ছিল। তবে বলিউড তারকা হিসেবে আমিই প্রথম নিজের মানসিক বিষণ্নতা, হতাশা, আত্মহত্যার প্রবণতা—এগুলো নিয়ে কথা বলেছি। ‘ছপাক’ সিনেমার শুটিংয়ের পুরোটা সময় আমি থেরাপিস্ট নিয়ে কাজ করেছি। ‘মালতী’ চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার সেটে নিয়মিত ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হতো। ক্লাস্টোফোবিক (বদ্ধতা ভীতি) হয়ে পড়তাম। সেই সময় আমার থেরাপিস্ট আমার হাত ধরে থাকত। এভাবেই আমি শুটিং শেষ করেছি। ‘গেহরায়িয়া’ সিনেমার শুটিংও আমি একইভাবে করেছি। মেন্টাল ব্রেকডাউন হতো। আর এটা যে আমি কেবল ব্যক্তিগতভাবে করেছি, তা নয়। আমি এখন অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেছি। আমার সেটে পুরোটা সময় থেরাপিস্ট থাকেন।

default-image

বলা হয়, বলিউডে একজন পুরুষ যা পান, নারীকে তা পেতে দ্বিগুণ দিতে হয়। আপনিও কি এমন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন?

কেবল বলিউডে নয়—ঘরে-বাইরে, যেকোনো কর্মক্ষেত্রে—ভারতের প্রায় সর্বক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের এই বৈষম্য বিরাজমান। নারী পুরুষের চেয়ে অনেক সহনশীল, অনেক পরিশ্রমী, অনেক সৃজনশীল। তবু নারী পুরুষের তুলনায় অনেক বৈষম্যের শিকার হন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। আমি বা আমার বোনের বড় হওয়া, বেড়ে ওঠার ভেতর ‘তুমি নারী’ ব্যাপারটাই ছিল না। আমরা কোনো দিন নিজেকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করতে শিখিনি। আমরা যেটার যোগ্য, আদায় করতে শিখেছি। আমার চ্যালেঞ্জ ছিল স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বলিউড তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, দক্ষিণ ভারতীয় উচ্চারণ থেকে শুদ্ধ হিন্দিতে কথা বলা। বহিরাগত থেকেও নিজের যোগ্যতা অনুসারে পারিশ্রমিক নিয়েছি। আর সেটা বেশির ভাগ সময়ই আমার পুরুষ সহকর্মী থেকে বেশি। ‘রাম লীলা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, প্রতিটি সিনেমায় আমি রণবীর সিং থেকে কয়েক গুণ বেশি পারিশ্রমিক গুনেছি।

default-image
default-image

লুই ভিতোঁর সঙ্গে এত বড় একটা চুক্তিতে যুক্ত হয়ে কেমন লাগছে?

আমি ছোটবেলা থেকে বাবার (প্রকাশ পাড়ুকোন) মতো ব্যাডমিন্টন খেলতাম। ১৮ বছর বয়সে আমি হঠাৎ করেই ব্যাডমিন্টন ছেড়ে মডেলিং শুরু করি। মডেলিংকে পেশা হিসেবে নিই, আয় করা শুরু করি। আর একজন মডেলের কাছে লুই ভিতোঁ সব সময়ই স্বপ্ন, যে স্বপ্ন সে গায়ে পরতে চায়, পায়ে পরতে চায়, কাঁধে করে ঘুরতে চায়। তখন যখন লুই ভিতোঁর সংগ্রহের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতাম, চোখ চকচক করত। মনে হতো, আমি এসব চাই। তার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হতো, কোনো দিনই হয়তো সামর্থ্যে কুলিয়ে উঠতে পারব না। তবে আমার রুচি সব সময়ই লুই ভিতোঁর উচ্চতার ছিল। এবার যখন ওরা আমাকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করল, আমি নিজের গায়ে চিমটি কেটেছি। সত্যি তো? হ্যাঁ, এটা সত্যি!

default-image

আপনার ফ্যাশনের সঙ্গে লুই ভিতোঁ যায় বলছেন?

একদম। শুধু যায় না, এটা আমার ভেতর সব সময়ই ছিল। আমি নিয়মিত ওভারসাইজড টি-শার্ট আর সোয়েটারে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছি। আবার আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় ফ্যাশনেবল রেড কার্পেটে অংশ নিয়েছি। অন্য সবার মতোই আমি ঘরে একেবারে পায়জামা পরি। আবার নিয়ন সবুজ রঙের গাউনে লালগালিচায় দেখা দিই। যার ভেতর দিব্যি দশজন ধরে যাবে। কালো বডি হাগিং গাউনগুলোও আমার প্রিয়। এদিকে কিছুদিন শাড়ি না পরলেও মন কেমন কেমন করে। রঙের ক্ষেত্রে যদিও আমি নিউট্রাল রঙের (বিঞ্জ, আইভরি, গ্রে, ক্রিম, সাদা, কালো, তামাটে) প্রতি দুর্বল। তবে সবুজ আর গোলাপির পপ ব্যাপারটাও ভালোবাসি। উল্টো করে বললে হয়, লুই ভিতোঁর ফ্যাশনও অনেকটা আমার মতো।

default-image

এই প্রশ্ন দিয়ে শেষ করি। আপনি সেটে খুবই সিরিয়াস একটা মানুষ। তবে আপনার ইনস্টাগ্রাম দেখলে মনে হয় ‘অল ফান’। এটা কি আপনার ব্যক্তিত্বের দুই দিক?

তা তো বটেই। আরও অনেক দিক আছে। যেগুলো আমি নিজের কাছে রেখে দিই। ক্যামেরার সামনে আনতে চাই না। একটা মানুষ সব জায়গায় কেবল একই রকম থেকে যাওয়া ব্যাপারটা যথেষ্টই একঘেয়ে। আপনি অনেক রকম। আর এটাই আপনার সৌন্দর্য।

default-image
ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন