default-image
বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনকে মাত্রা দিচ্ছে আমাদের অনেকের ছোট–বড় নানা অর্জন। বিশেষত, তরুণ প্রজন্মের সাফল্য ও স্বীকৃতি আনন্দকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। আমাদের জানার পরিধির বাইরেও রয়েছে নানা ক্ষেত্র। যেখানে আমাদের তরুণেরা তাঁদের মেধা আর যোগ্যতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বন্ধুদের পাশাপাশি জায়গা করে নিচ্ছে।

default-image

এই যেমন নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন শহরের ওটাগো মিউজিয়ামের বিশেষ ফ্যাশন এক্সিবিশনের কথাই ধরা যাক। ‘ফ্যাশন ফরোয়ার্ড: ডিজরাপশন থ্রু ডিজাইন’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তারা। সেখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের নবীন ফ্যাশন ডিজাইনার রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণার ডিজাইন করা একটি পোশাক।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে ২৬ মার্চ। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ২৭ মার্চ থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। নিজেদের পোশাক–নকশায় সমাজকে যাঁরা নাড়িয়ে দিতে পেরেছেন, তাঁদের সৃজনকর্ম স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। যেখানে আছে পুরোনো দিনের পোশাকের পাশাপাশি কতুর এবং একেবারে হালের ডিজাইন। এটি বলতে গেলে একটি মিশ্র প্রদর্শনী।

default-image

এখানে মিউজিয়ামের নিজস্ব সংগ্রহ থেকে বাছাই করা দারুণ সব পোশাক উপস্থাপিত হয়েছে। এর সঙ্গে আছে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ সারির ডিজাইনারদের সংগ্রহও। আবার একই সঙ্গে স্থান দেওয়া হয়েছে নতুনদের সৃষ্টিসম্ভারও। যেমন আইডি ইন্টারন্যাশনাল এমারজিং ডিজাইনার প্রতিযোগিতার শুরু থেকে এ পর্যন্ত যাঁরা ফাইনালিস্ট হয়েছেন, তাঁদের পোশাকও স্থান পেয়েছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের আলোয় সমসময়ের উদ্ভাবনকে উপস্থাপন করতে চায়। এ জন্য ফ্যাশন ডিজাইনের নানা পরত উন্মোচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে এ আয়োজনে।

বিজ্ঞাপন

আইডি ইন্টারন্যাশনাল এমারজিং ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০০৫ সাল থেকে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নবীন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিবছর অন্তত ৩০ ডিজাইনারকে মনোনয়ন করা হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত গত ১৬ বছরে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ফাইনালিস্টদের একটি করে পোশাক এ প্রর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এখানে আছে বাংলাদেশের রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণাও।

default-image

২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত হয়েছিলেন রোকাইয়া আহমেদ। সেবার তিনি ডানেডিন ফ্যাশন শোতে অংশ নেন এবং এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেন। সেবারের প্রতিযোগিতায় তিনি পাঁচটি পোশাক দিয়েছিলেন। সেখান থেকে একটি পোশাক এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

default-image

সৃজনশীল ব্যক্তিদের কাজই হলো সমাজের অন্ধকার দূর করা। কুসংস্কারের পাথর সরানো। বদ্ধমূল সেই সব ধ্যানধারণা, যা আমাদের নাগপাশে আবদ্ধ করে সেসব ছিঁড়ে ফেলা। মানুষের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবীর বার্তা দেওয়া। ফ্যাশন ডিজাইনও এর বাইরে নয় বলেই ওটাগো মিউজিয়াম চমৎকার এ আয়োজন করেছেন। সেখানকার মানুষকে তো বটেই বিশ্ববাসীকেও উদ্বুদ্ধ করতে এ আয়োজন।

এ প্রদর্শনী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার, পপ-আপ ফ্যাশন ইভেন্ট, কর্মশালা ইত্যাদি।

অদ্ভুত এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। মানুষও নানাভাবে অভিযোজিত হচ্ছে অতিমারির মধ্যে। ফলে নতুন পরিবর্তনও সূচিত হচ্ছে। এ প্রদর্শনী সেই বদলের কথাও বলছে।

default-image

এমনই একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে নিজের ডিজাইন করা পোশাক স্থান পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত পূর্ণা বললেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে এটা আমার জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এ সম্মান দেশের জন্য বয়ে আনতে পেরেছি। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আর একই দিনে এ প্রদর্শনী উদ্বোধন হওয়ায় আমি ভীষণ আনন্দিত। মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নিজের কাজগুলো মুক্তচিন্তা থেকে করতে শিখেছি। নিউজিল্যান্ডের ওটাগো মিউজিয়ামের এক্সিবিশন আমার জন‍্য অন্য রকম অনভূতির।’

কালেকশন ভাবনা

সব সময় গতানুগতিক ধারার ফ‍্যাশনধারার বাইরে গিয়েই কাজ করতে পছন্দ করেন পূর্ণা। যেখানে থাকে বাংলাদেশের শিকড়—এখানকার মানুষ, শিল্প–সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য। ওটাগো মিউজিয়ামে প্রদর্শনীর পোশাকে তিনি আমাদের দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বয়নকে তুলে ধরেছেন। তাই তিনি কোমরতাঁতে বোনা কাপড় দিয়ে করেছেন কনটেম্পোরারি ডিজাইন।

default-image

ডিজাইন শুধু কয়েকটি কাপড়ের সংযুক্তি নয়, বরং এর সঙ্গে থাকে অনূভুতি, বোধ, গল্প ও ইতিহাস। আর আদিবাসী বয়নে রয়েছে নারীদের একান্ত আবেগ। এটা তাদের যেমন আয়ের উৎস, তেমনি ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার মাধ্যমও। তাদের বয়নকৌশল, বয়নের নকশা ও বয়নের দক্ষতা একজন ডিজাইনারকে উদ্বুদ্ধ করে। পূর্ণা প্রেরণা পেয়েছেন তাঁর কাজের।

পাশাপাশি তাদের আলাদা করে দেখারও যে কিছু নেই, বরং তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার এটা একটা প্রয়াস নবীন এই ডিজাইনারের। তাঁর এই কাজকে দেশের আদিবাসী বয়ন ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উপহার বলেই মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন