বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যদিও প্রথমে এর নাম ‘মেট গালা’ ছিল না। এলেনর ল্যাম্বার্ট নিউইয়র্কের অভিজাত শ্রেণিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ‘পার্টি অব দ্য ইয়ারে’! যেখানে প্রবেশমূল্য ছিল মাত্র ৫০ ডলার। আর ড্রেস কোড? নিজের মতো করে সেজে আসতে পারবেন যে কেউ। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরের ওয়ালড্রর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আনুষ্ঠানিক মেট গালা। আর এর পুরো আয় চলে যায় কস্টিউম ইনস্টিটিউট তহবিলে। প্রথম বছরের সাফল্য দেখে প্রতিবছরই একইভাবে ‘পার্টি অব দ্য ইয়ার’ আয়োজন করতে থাকে কস্টিউম ইনস্টিটিউট ও মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়া মেট গালার সংজ্ঞা পাল্টে দেন ফ্রেঞ্চ-আমেরিকান ফ্যাশনিস্তা ডায়ানা ভ্রিল্যান্ড।

default-image

১৯৭৩ সালে কস্টিউম ইনস্টিটিউটের বিশেষ পরামর্শক হয়ে আসেন ডায়ানা ভ্রিল্যান্ড। এসেই নানা রকম পরিবর্তন আনতে থাকেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনেন ভেন্যুতে। প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভেন্যুর জন্য যুদ্ধ না করে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টকে স্থায়ী ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করেন তিনি। সেই সঙ্গে নিউইয়র্কের অভিজাতদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেন বিনোদন জগতের তারকাদেরও। প্রবেশমূল্য বাড়িয়ে করা হয় ১০০ ডলার। আর ডিসেম্বর থেকে সরিয়ে মেট গালাকে নিয়ে আসেন এপ্রিল-মে মাসে।

default-image

আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় বছরের থিম। অনুরোধ করা হয় যাতে সবাই সে অনুযায়ী ড্রেস পরে আসেন। ১৯৭৩ মেট গালার থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয় ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অব ব্যালেন্সিয়াগা’। আর সেখানে ডায়ানা রস, চের, এল্টন জন, অ্যান্ডি ওয়ারহল থেকে শুরু করে উপস্থিত ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার, জ্যাকলিন কেনেডির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। ‘এলিট পার্টি’ থেকে ‘ফ্যাশন নাইট’ হওয়ার প্রথম দিন ছিল সেদিন।

default-image

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে কাজ করেছেন ডায়ানা ভ্রিল্যান্ড। ১৯৮৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পর মেট গালাকে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে যান ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের এডিটর ইন চিফ অ্যানা উইন্টর। ১৯৯৫ সালে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মেট গালাকে পুরোপুরি বদলে ফেলেন অ্যানা। প্রতিবছরই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে প্রবেশমূল্য। কিন্তু তাই বলে লোকজনের আগমন থেমে থাকেনি। ১৯৯৮ সালে প্রবেশমূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ডলারে। এখন সেটা ৩৫ হাজার ডলার বা ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিজ হাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা পরিমার্জন করেন তিনি।

default-image

মেট গালার লালগালিচা যতটা জনপ্রিয়, ঠিক ততটাই জনপ্রিয় তাদের ডিনার পার্টি। লালগালিচার কথা, ছবি যেমন সবার সামনে চলে আসে, ডিনার পার্টির ব্যাপারটা তেমন নয়। সেখানে জারি আছে ‘নো সোশ্যাল মিডিয়া’ বিধি। ২০১৫ সাল থেকে নিজেদের ডিনার পার্টির ওপর এই নিয়ম জারি করে তারা। যে কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের সব ছবিই থাকে হয় লালগালিচার, নয়তো ডিনার পার্টির ওয়াশরুমে।

অভিনেতা, অভিনেত্রী, ডিজাইনার, রাজনীতিবিদ, সংগীতশিল্পী থেকে শুরু করে এমন কেউ নেই; যাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না মেট গালায়। তবে একটা নিয়ম কয়েক বছর ধরে মেনে চলছে মেট গালা কর্তৃপক্ষ। ১৮ বছরের নিচে কোনো তারকাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এই কারণেই বিখ্যাত সংগীতশিল্পী বিলি আইলিশ কিংবা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’খ্যাত মিলি ববি ব্রাউনের মতো তারকারা প্রবেশপত্র পাননি। তবে বিশেষ বিবেচনায় মা-বাবার সঙ্গে মেট গালার আসতে পারেন তরুণ তারকারা।

default-image

এত কিছুর পরও যে লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল মেট গালা, সেখান থেকে সরে আসেনি তারা। ফোর্বসের মতে, এখন পর্যন্ত মোট ১৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে কেবল প্রবেশমূল্য হিসেবে। শুধু ২০১৯ সালেই এই ইভেন্ট থেকে দান করা হয়েছে ১৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৩০ কোটি টাকা। যদিও দুই বছর ধরে মহামারির কারণে আয়ে একটু ভাটা পড়েছে, কিন্তু ২০২২ সালের মেট গালা জানান দিয়েছে, এই ভাটা পুষিয়ে নেওয়া কোনো বিষয়ই নয়!

default-image
ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন