পোশাকে কে ক্র্যাফটের প্রকৃতি সিরিজ: পাখি
পোশাকে কে ক্র্যাফটের প্রকৃতি সিরিজ: পাখিছবি: কে ক্র্যাফট

করোনাকাল আমাদের নানা অভিজ্ঞতা দিয়েছে। অনেক কিছু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েও দিয়েছে। এর মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রকৃতি। কারণ, প্রকৃতির ওপর আমাদের অত্যাচার সীমাহীন। তাই লকডাউনের দিনগুলোয় প্রকৃতি তার মতো করেই বেঁচেছে। প্রাণ পেয়েছে। সেসব উদাহরণ আমাদের সামনেই রয়েছে।

default-image

আবার অনেকেই মনে করেছেন, প্রকৃতির প্রতি অবিচারেরই ফল করোনার অভিশাপ। তবে সে যা–ই হোক, করোনা কিন্তু আমাদের ভাবনাকে প্রসারিত করেছে। অনেকেই নানা মাত্রায়, নানা আঙ্গিকে ভাবছেন। তার প্রতিফলনও আমরা দেখছি। এই যেমন দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটের কথাই ধরা যাক। এই ফ্যাশন হাউসের সাম্প্রতিক সংগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রকৃতির প্রেরণায়। এর নামও দেওয়া হয়েছে প্রকৃতি সিরিজ। আর এই ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে পাখি, তা–ও বিশেষভাবে বাংলাদেশের পাখি।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে পাখি নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়েছে। প্রচুর গাছ কাটার কারণে আবাস হারিয়েছে। শিকারিদের ফাঁদ তো আছেই। অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ আর শিল্পায়নসহ নানা কারণে অনেক প্রজাতিই এখন বিলুপ্তপ্রায়। অথচ বাংলাদেশে রয়েছে কয়েক শ প্রজাতির পাখি। সুন্দর সব নাম সেগুলোর। দেখতেও ভারি চমৎকার।

default-image

এগুলোর আকার আর আকৃতিও বৈচিত্র্যময়। এগুলোর রয়েছে নানা বৈশিষ্ট্যও আর ডাকও হৃদয়গ্রাহী। পাখির বাসা তৈরিও এক নান্দনিক শিল্পকর্ম। পাখি প্রকৃতির ফুড পিরামিডের ভারসাম্য রক্ষায়ও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নানা রং আর গড়নের এসব পাখি বাংলার প্রকৃতিরই অলংকার।

সে জন্য প্রকৃতি সিরিজ কে ক্র্যাফট শুরুই করেছে পাখি দিয়ে। এই সিরিজ আসলে যতটা ফ্যাশন, ততটাই সচেতনা সৃষ্টির প্রয়াস। কারণ, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পাখি শিকার বন্ধ, পরিযায়ী পাখির অবস্থান নিরুপদ্রব করার ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার অভিপ্রায় থেকেই কে ক্র্যাফটের এই প্রয়াস, এমন বলছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান।

default-image

তিনি জানালেন, এই সিরিজে স্থান পেয়েছে মোট ১৪টি পাখি। এগুলো হলো বক, মাছরাঙা, মোহনচূড়া, মুনিয়া, ফুলঝুরি, শ্যামা, পানকৌড়ি, কমলা বউ, ফুটফুটি, হাঁড়িচাঁছা, টুনটুনি, বুলবুলি, বাবুই, পায়রা।

বিজ্ঞাপন

তবে এই সংগ্রহের বিশেষত্ব হলো, প্রতিটি পাখি ও তার পরিবেশ আর প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ নিয়ে একটা সম্পূর্ণ ছবির কথা ভাবা হয়েছে। এরপর সেই ছবি হাতে আঁকা হয়েছে। এই আঁকা ছবিগুলোকে স্ক্রিন প্রিন্ট করা হয়েছে কাপড়ের জমিন অলংকরণে। অর্থাৎ প্রতিটি পোশাকের ডিজাইন লেআউট এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে স্ক্রিন প্রিন্ট করার পর কাপড়ের ওপর সম্পূর্ণ ডিজাইন যেন নিটোলতা পায়, হয় দৃষ্টিনন্দন। কাপড়ের রংগুলোও সেভাবে ভাবা হয়েছে। ফলে পেইন্টিংগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে।

default-image

এই কালেকশনে রয়েছে তিন ধরনের পোশাক। শাড়ি, লংটপ আর ক্যাজুয়াল শার্ট। সুতি, লিনেন, জর্জেট ও ভয়েল কাপড় দিয়েই তৈরি করা হয়েছে পুরো কালেকশন। নকশার স্বকীয়তায় এই পোশাকগুলো হয়ে উঠেছে অনন্য। উপস্থাপনা আর নিখুঁত স্ক্রিন প্রিন্টের কারণে যে কেউ চট করে এগুলোকে হ্যান্ড পেইন্টেড পোশাক ভেবে বসবেন।

তবে এই কালেকশন শীতের মধ্যে লঞ্চ করা হলেও এটাকে আসলে ফল কালেকশন বলাই শ্রেয়। কারণ, শীত একটু কমতে শুরু করলে এই পোশাক হবে দারুণ সময়োপযোগী।

default-image

সাদা, অফ হোয়াইট, বিস্কুট, জলপাই সবুজ, সবুজ, হালকা কমলা, হলুদ, হালকা হলুদ, গ্রে, সিলভার, আকাশি, গোলাপি, নীল, বাদামি, সোনালি ও সমুদ্র সবুজের মতো রং ব্যবহার করা হয়েছে এই সংগ্রহের নকশা ফুটিয়ে তুলেতে। এ ছাড়া এই সংগ্রহে রয়েছে সিরিজ পোশাক, যুগল পোশাক, শিশুদের পোশাক, সিঙ্গেল পোশাক।

আর এই সংগ্রহই ক্রে ক্র্যাফটের অনুরাগী, তথা ফ্যাশন অনুরাগীদের জন্য নতুন বছরের উপহার। যেমন ফ্যাশনের সঙ্গে গলাগলি করে রয়েছে প্রকৃতি সচেতনতা। এই সিরিজ ছোটদের মধ্যেও আগ্রহের সৃষ্টি করবে। বড়দের পরতে দেখে তারও কৌতূহলী হবে পাখিগুলো সম্পর্কে জানতে।

আসছে ফাল্গুন আর ভ্যালেন্টাইনের হংসমিথুনদের জন্য দারুণ উপযোগী হবে কে ক্র্যাফটের এই প্রকৃতি সিরিজের পাখি সংগ্রহ।

default-image

প্রকৃতি সিরিজ শুরু হয়েছে পাখি দিয়ে। এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও জানালেন তিনি। সঙ্গে আগাম জানান যে পরবর্তী সিরিজের বিষয়বস্তু হবে সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য।

ক্রয়সাধ্যের মধ্যে থাকা এই সিরিজের সংগ্রহ কেনা যাবে কে ক্র্যাফটের সব আউটলেট থেকে। এছাড়াও অনলাইন শপ (www.kaykraft.com) ও ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি অর্ডার করা যাবে এই সংগ্রহের পোশাক।

বিজ্ঞাপন
ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন