বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দীপা মূলত পাঞ্জাবি। তাঁর পরিবার চেন্নাইয়ে থিতু হওয়ার আগে প্রথম ছয় মাস কেটেছে দিল্লিতে। তারপর তিনি একটা ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হয়ে যান। আর এখন পুরো বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন নেদারল্যান্ডসে। ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার দীপার ওজন ৪৯ কেজি। ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নামডাক আছে তাঁর। প্রশংসা কুড়িয়েছেন সামাজিক কাজ করেও। ২০১৮ সালে দীপা আইনজীবী ও নেদারল্যান্ডসের কূটনীতিক ওলেগ বুলারকে বিয়ে করেন। ভারতের উদয়পুরে হওয়া সেই বিয়ে নানা কারণে আলোড়ন তুলেছিল ফ্যাশন বিশ্বে।

default-image

কেউ যদি কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে ভিন্ন এক দুনিয়ায় ডুব দিতে চায়, তবে ভোগ ইন্ডিয়ার পরামর্শ, দীপার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঢুঁ মেরে আসার। সেখানে নাকি মিলবে সত্যিকারের এক জীবনের সতেজ, রঙিন পরশ। পাওয়া যাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন তারকা, আইনজীবী, ইনফ্লুয়েন্সার, মডেল, মা, উদ্যোক্তা আর কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারের আন্দোলনের প্রথম সারির এক সমর্থককে।

default-image

সম্প্রতি দীপা সৌন্দর্যচর্চার নিজস্ব ব্র্যান্ড চালু করেছেন। প্রথমেই সেটি নিয়ে কথা বলেছেন ভোগ ইন্ডিয়ার সঙ্গে—‘আমার মা একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। আমি ছোটবেলা থেকেই ত্বকের যত্ন নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। আজ হোক বা কাল, বিউটি ব্র্যান্ড তো আমি করতামই।’

দীপার কোম্পানির মূলে রয়েছেন চার নারী। তাঁদের একজন দীপা নিজে, তাঁর রয়েছে ১৫ বছরের মডেলিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ত্বক আর চুল নিয়ে পিএইচডি করেছেন, এমন এক নারী রয়েছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞও আছেন। আর অবশ্যই তাঁর মা, আর্য়ুবেদিক ডাক্তার।

default-image

দীপার জীবনসঙ্গী ওলেগ বুলার নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিক। দীপা আর ওলেগের বিয়ের পর তাঁরা ‘পোস্ট ফর চেঞ্জ’ নামে একটি এনজিও খোলেন। নারীর সমতা, নারীর যৌনতার অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য—এসব নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করে এই এনজিও।

মা হওয়া, নিজের বিউটি ব্র্যান্ড নিয়ে হাজির হওয়া, রেড কার্পেট আর ম্যাগাজিনে দেখা দেওয়া—এগুলো সব একসঙ্গেই চলেছে। দীপা বলেন, ‘আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আমি সবই চাই। আর আমার ধারণা, আমার মেয়েও ছোটবেলা থেকেই ওগুলো শিখবে। আড়াই মাসের মেয়েকে নিয়ে আমি ফিট হয়ে কানের রেড কার্পেটে হেঁটেছি। সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টা আগেও আমি নিজের ব্যবসা নিয়ে মিটিং করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি চান, তাহলে সব সম্ভব। অজুহাতের সীমা নেই। আপনি সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কাজ করবেন না অজুহাত তৈরি করবেন।’

default-image

এটুকু পড়ে অনেকেই হয়তো ঠোঁট উল্টে বলবেন, ‘দীপা সুবিধাপ্রাপ্ত। আমাদের জীবন দীপার মতো নয়।’ এঁদের জন্য দীপা বলেছেন, ‘কারও জীবনের চলার পথ অন্য কেউ তৈরি করে দিয়ে যায় না। নিজেকেই তৈরি করতে হয়। আমিও চলার পথে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। পড়ে গেছি, উঠে দাঁড়িয়েছি। উত্থান–পতন এটা প্রতিটি সফল জীবনের অংশ। প্রতিটি সফল মানুষকেই নিজের পথ নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। মানুষ বড় চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে আসে বলেই সে বড় আর শক্তিশালী হয়।’

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন