বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৮ মে মুক্তি পায় ক্রাইম কমেডি-নির্ভর ডিজনির লাইভ অ্যাকশন মুভি ‘ক্রুয়েলা’। বহু প্রতীক্ষিত মুভিটি ১৯৫৬ সালের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দ্য হান্ড্রেড অ্যান্ড ওয়ান ডালমেশিয়ানস’-এর তৃতীয় লাইভ অ্যাকশন সংস্করণ। ক্রেগ গিলেস্পি পরিচালিত মুভিটির মূল চরিত্রে (ক্রুয়েলা ডি ভিল) অভিনয় করেছেন তিনবার একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে (অস্কার) মনোনীত অভিনেত্রী এমা স্টোন।

default-image

এ ছাড়া ব্যারোনেস চরিত্রে সাহসী অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন এমা থমসন। সহশিল্পী হিসেবে আরও ছিলেন জোয়েল ফ্রাই, পল ওয়াল্টার হোসার, এমিলি বিশামসহ আরও অনেকে। ছবিটি কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ, সংগীত এসবের জন্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও সর্বোচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছে সৃজনশীলতা, স্টাইল ও ফ্যাশন সচেতনতার জন্য। আর এই প্রশংসার বিশেষ দাবিদার ছবির কস্টিউম ডিজাইন জেনি বিভান ও তাঁর টিম। মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে তাঁরা এই ছায়াছবির জন্য মোট ২৭৭টি কস্টিউম তৈরি করেন।

default-image

তার মধ্যে মূল চরিত্র ‘স্টেলা থেকে ক্রুয়েলা’ পর্যন্ত ৪৭টি মাস্টারপিস সৃষ্টি করেছেন। সিআরবি নিউজের এক সাক্ষাৎকারে জেনি বলেন, ‘আমি ফ্যাশন ডিজাইনার নই, আমি হলাম পোশাক মাধ্যমের গল্পকথক। এমনকি আমার বাস্তব জীবনেও পোশাক নিয়ে খুব আগ্রহ নেই, কিন্তু আমি পোশাকের মাধ্যমে গল্প বলতে পছন্দ করি।’
দেড় থেকে দুই মিনিটের ট্রেলারে প্রকাশিত স্টেলা, ক্রুয়েলা এবং ব্যারোনেসের পোশাক দর্শকদের চোখধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো বিস্ময়কর। সত্তর দশকের লন্ডনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে সেই সময়কার নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ট্রেন্ডের কথা চিন্তা করেই প্রতিটি চরিত্রের পোশাক সাজানো হয়েছে।

রেড ডি ভিল: জেনি বিভান ক্রুয়েলার জন্য প্রধানত তিনটি রং বেছে নেন—লাল, কালো ও সাদা। তিনি বলেন, ‘ক্রুয়েলা চরিত্রের জন্য লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিটি ভিন্টেজ দোকান থেকে বিভিন্ন আইটেমের এক স্তূপ কাপড় জোগাড় করেন। এমা স্টোনের তাক লাগানো পার্টিতে সেই লাল গাউনের ব্যাপারে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার চার্লস জেমসের ‘ট্রি ড্রেস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভান এই কস্টিউম বানান; এর বডিতে মোড়ানো অংশের জন্য তাঁকে বেশ সময় ব্যয় করতে হয়েছিল।

default-image

মিলিটারি আউটফিট: স্টেলার ভেতর বড় মাপের ফ্যাশনিস্তা হওয়ার জেদ ছিল, যা ধীরে ধীরে ‘ক্রুয়েলা’তে বেশ ভালোভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর খ্যাতি লাভের ভয়ানক প্রচেষ্টা, অধিক আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা, দুঃসাহসী রূপ সবকিছু কাহিনির ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পোশাক-আশাকে ফুটে ওঠে। কখনো কালো ও লাল ঘেরওয়ালা স্কার্টের সঙ্গে সেলুলয়েডের ফিটেড জ্যাকেট আর ডক মারটেন্স, আবার কখনো মিলিটারি জ্যাকেটের কাঁধে ছোট ছোট মূর্তি বসানো—যেন পুরো বিশ্ব তাঁর কাঁধে।
মোটরবাইক লুক: দুর্ধর্ষ এই বাইকের দৃশ্যের জন্য এমাকে দেখা যায় লেদার জ্যাকেট এবং গ্লিটারি বাইকার প্যান্টে। মুখের ওপর করা ‘দ্য ফিউচার’ গ্রাফিতি লুকে ষোলআনা পূর্ণতা আনে।

ডালমাটিন স্পোর্ট: গ্লিন ক্লোজের ক্রুয়েলার দিকে কিছুটা নজর দিয়ে জেনি বিভান আধুনিক ক্রুয়েলার জন্য ও ডালমাটিন স্পোর্টের একটা কস্টিউম তৈরি করেন এবং স্পষ্ট করে বলেন, এটার জন্য কোনো প্রাণীকে আঘাত করা হয়নি। কাপড় ছিল প্রিন্ট করা।

default-image

গারবেজ গাউন: ৪০ ফিট ট্রেন বিশিষ্ট এই গাউন ট্রেলারেই দর্শককে তাক লাগিয়েছে। স্বয়ং অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর।’ এক দৃশ্যে দেখা যায়, ময়লার ট্রাক থেকে হুট করে উদ্ভূত হন এমা। তারপর সাপের লেজের মতো ৪০ ফিটের ট্রেন, পরে ট্রাকের পেছনে করে চলে যান।

default-image

অন্যদিকে ব্যারোনেসের স্টাইল ছিল খুব স্ট্রাকচার্ড, নিঁখুত। জেনি বলেন, ‘ব্যারানেসের কস্টিউম বালাঁসিয়াগা, শিয়াপারেল্লি, ডিওরের স্টাইলে মিশ্রণ রয়েছে। জেনি ‘ক্রুয়েলা’তে ডিজাইনের প্রেরণা পেয়েছেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার আলেকজান্ডার ম্যাককুইন, আধুনিক পাংক রক ফ্যাশন আইকন ভিভিয়েন ওয়েস্টউড আর সত্তর দশকের পাংক কালচার থেকে। এমনকি তিনি অনুসরণ করেছেন ব্রিটিশ গায়ক গীতিকার ডেভিড বোয়ি এবং ফরাসি সম্রাজ্ঞী মারি আতোয়াঁনেতকেও।

ছবি: সিনেমার পোস্টার

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন