লক্ষণ কী কী

কতগুলো লক্ষণ আছে যেগুলো শিশুর মধ্যে দেখা গেলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলোই হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ।

নাক থেকে রক্ত পড়া: শিশুর নাকের সম্মুখভাগে সূক্ষ্ম রক্তনালি থেকে রক্তপাত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কমে যায়। কিন্তু যদি না কমে বরং ঘন ঘন রক্তপাত হয় তাহলে সচেতন হতে হবে।

দেরিতে ক্ষত শুকানো: শিশুর শরীরের কোথাও কেটে গেলে ক্ষত সারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে কি না, খেয়াল রাখুন। সময় বেশি লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া: ব্যায়াম বা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই যদি শিশুর ওজন কমে যেতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

চোখের মণি সাদা হয়ে যাওয়া: চোখের মণি সাদা হয়ে যাওয়া এবং রাতে বিড়ালের চোখের মতো দেখা চোখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ।

শ্বাসকষ্ট: শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা ছোট ছোট শ্বাস নেওয়া শিশুর ক্যানসারঝুঁকির অন্যতম উপসর্গ।

ঘন ঘন জ্বর: অকারণে ঘন ঘন জ্বর শিশুর লিউকেমিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

চাকা বা মাংসপিণ্ড: পেটের যেকোনো পাশে চাকা বা টিউমার অনুভূত হলে কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

মাথাব্যথা: শিশুর অস্বাভাবিক মাথাব্যথা মস্তিষ্কের ক্যানসারের লক্ষণ।

অচেতন হওয়া: তীব্র জ্বর বা যথাযথ কারণ ছাড়া শিশু যদি হুটহাট অচেতন হতে থাকে, তাহলে তা ব্রেন টিউমারের উপসর্গ হতে পারে।

হাড়ে ব্যথা: কোনো আঘাত ছাড়াই হাড়ে তীব্র ব্যথা, খুঁড়িয়ে হাঁটা প্রভৃতি হাড়ের ক্যানসারের লক্ষণ।

দুর্বলতা: অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা শিশুদের লিম্ফোমা নামের ক্যানসারের সাধারণ লক্ষণ।

শিশুর ক্যানসারের কারণ

শিশুর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বংশগত কারণই প্রধান। এ ছাড়া বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, অভিভাবকের ধূমপানের অভ্যাস, গর্ভকালে মায়ের ভুল খাদ্যাভ্যাস, শিশুর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবারের সদস্যদের ভুল জীবনধারা, হেপাটাইটিস বি, হিউম্যান হার্পিস এবং এইচআইভি ভাইরাসও শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিরোধে করণীয়

অভিভাবকের সচেতনতাই শিশুকে বাঁচাতে পারে মরণব্যাধি ক্যানসার থেকে। পরিবারের জীবনধারার পাশাপাশি শিশুর জীবনধারাতে সাধারণ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

  • শিশুকে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।

  • তাজা ফল, সতেজ শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  • খেলাধুলা, ছোটখাটো কাজ প্রভৃতির মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  • শিশুকে সরাসরি সূর্যের আলোতে বেশিক্ষণ রাখবেন না।

  • শিশুকে চর্বিজাতীয় খাবার কম খাওয়ান। নিয়মিত ব্যায়াম প্রভৃতির মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • অভিভাবক নিজে যেমন ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করবেন, তেমনি শিশুও যেন এই অভ্যাসে না জড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

  • ছোটবেলাতেই হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন দিতে হবে।

লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলোজি, ল্যাবএইড ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন