শনাক্ত করবেন কীভাবে

বেশির ভাগ অ্যাজমা রোগীর শৈশব বা অল্প বয়স থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি, অতি সংবেদনশীলতার ইতিহাস থাকে। এ ধরনের রোগের ইতিহাস থাকে পরিবারেও। কারও যদি হাঁপানির লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও ইতিহাস বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে অ্যাজমার অ্যাটাক হলে বুকের এক্স–রে করানো উচিত। রক্তে অ্যালার্জির মাত্রা, ফেনো, স্পাইরোমেট্রি বা শ্বাসের পরীক্ষা ইত্যাদি করাতে হতে পারে।

চিকিৎসা কী

হাঁপানির চিকিৎসা জীবনব্যাপী চলবে, কারণ এই রোগ কখনোই পুরোপুরি সেরে যায় না। কিন্তু এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। হাঁপানির ওষুধ প্রধানত দুই প্রকার। উপশমকারী: যেমন সালবিউটামল এবং প্রতিরোধকারী যেমন লিউকোট্রিন অ্যান্টাগনিস্ট, স্টেরয়েড ইনহেলার, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালি সংকোচন রোধক ইনহেলার, ডক্সিসাইক্লিন ইত্যাদি। এ ছাড়া রোগীকে এই রোগের সঙ্গে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে শিখতে হবে। একে বলা হয় শ্বাসযন্ত্রের পুনর্বাসন। এর মধ্যে আছে রোগটি সমন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ। রোগটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। যেসব কারণে রোগের মাত্রা বাড়ে, সেগুলো পরিহার করতে হবে আর শ্বাসযন্ত্রের ব্যায়াম করতে হবে।

মনে রাখতে হবে যে হাঁপানি নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। তবে নিয়মিত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের গতি নিম্নমুখী করা সম্ভব। নিয়মিত এবং আপৎকালীন ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইনহেলারভীতি অনেক। যথানিয়মে ইনহেলার গ্রহণ নিরাপদ এবং হাঁপানি থেকে সুস্থ থাকার জন্য জরুরি। এ ছাড়া হাঁপানির রোগীকে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা নিতে হবে এবং সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল পালমনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ সোসাইটি (বিপস)।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন