ফুসফুসের প্রধান শত্রু কে

ধূমপান যে ফুসফুসের প্রধান শত্রু, এ কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ক্রনিক ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের প্রদাহ আর ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম কারণ ধূমপান। তামাকের ধোঁয়ায় থাকে ক্যানসার উৎপাদক বিভিন্ন উপাদান। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের বায়ুপথের শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ দেয়ালের আবরক কলায় দেখা দেয় অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এ পরিবর্তিত কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে ফুসফুসের ক্যানসার। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। আবার ধূমপান করেন না অথচ ধূমপায়ীর সংসর্গে থাকেন, তাঁরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপানের ফলে অন্যান্য স্থান, যেমন মুখ, জিহ্বা, বাক্‌যন্ত্র বা ল্যারিঙ্কস, খাদ্যনালি ও মূত্রথলিতেও ক্যানসার হতে পারে।

ফুসফুসের ক্যানসারের উপসর্গ নির্ভর করে আকার ও অবস্থানের ওপর। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগে কোনো উপসর্গ না–ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বুকের এক্স–রে পরীক্ষায় ধরা পড়ে। এ পর্যায়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্যানসার ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। ফুসফুসে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়, তা হলো স্থায়ী কাশি ও শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, রক্তরঞ্জিত শ্লেষ্মা, ওজন কমা ও স্বরভঙ্গ। যদি বয়স ৪০ বছরের ওপরে হয় এবং উল্লিখিত উপসর্গ দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা তিনভাবে করা যায়। তা নির্ভর করে ক্যানসারের আকার, ব্যাপ্তি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার (কোষের ধরন) ওপর। কখনো কখনো একাধিক চিকিৎসাপদ্ধতি সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

সার্জারি: এতে আক্রান্ত ফুসফুসের অংশটি শরীর থেকে অপসারণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের ও ক্ষুদ্রাকৃতি ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটা করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার নিরাময়ে সম্ভাবনা থাকে বেশি।

রেডিওথেরাপি: এ পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে উচ্চশক্তির বিকিরণ রশ্মি প্রয়োগ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক্স–রে মেশিন, লিনিয়ার অ্যাক্সিলেটর, কোবাল্ট ইউনিট ইত্যাদি যন্ত্র।

কেমোথেরাপি: চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্যানসারবিধ্বংসী ওষুধ। অধিকতর অগ্রসর বিশেষ ধরনের ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়।