এ জন্যই দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফ্রেশ টিস্যুর উদ্যোগে কয়েক বছর ধরেই আয়োজিত হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যানসার বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এ বছরেও চলমান ‘ফ্রেশ বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন ইতিমধ্যেই যাত্রা করেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্রি স্ক্রিনিং সুবিধা নিয়ে।

ব্রেস্ট ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে শনাক্তকরণ। এবং এ জন্য সেল্ফ এক্সামিনেশনের কোনোই বিকল্প নেই বলে মনে করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনী বিভাগের লেকচারার ও ফিজিওলজি বিশেষজ্ঞ ফারহানা রহমান। তিনি বলেন, সকল নারীর প্রতি মাসেই স্বনিরীক্ষা বা সেল্ফ এক্সামিনেশনের মাধ্যমে নিজের স্তনযুগলে যেকোনো রকমের পরিবর্তনের ব্যাপারে লক্ষ্যে রাখতে হবে। নিয়মিত এভাবে স্তন নিরীক্ষা করলে তা স্তনের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে, আর যদি ব্রেস্ট ক্যানসারের সামান্যতম লক্ষণও থাকে তা এর মাধ্যমে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও রোগীর আশু চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে অনেকটাই।

ব্রেস্ট কেয়ার সেল্ফ এক্সামিনেশন বা স্বনিরীক্ষা বলতে আসলে নিজেই নিজের স্তন যুগল ও তৎসংলগ্ন এলাকা চোখে দেখে ও নির্দিষ্ট ধাপে ধাপে স্পর্শের মাধ্যমে পরীক্ষা করা বোঝায়। এতে করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার ফলে যেকোনো সময়ে যেকোনো সামান্য অস্বাভাবিকতা বা পরিবর্তনও লক্ষ্যে বা শনাক্ত করা যায়। বিশ বছরের পর থেকে প্রতি মাসেই এই ব্রেস্ট কেয়ার সেল্ফ এক্সামিনেশন করতে হবে সকল নারীকে। নিজের স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতি মাসে একবার, ঋতুমতী নারীদের মাসিক শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করলে ভালো হয়। কারণ, সে সময় স্তন কিছুটা হালকা থাকে এবং ব্যথা কম হয়।

যেভাবে পরীক্ষা করতে হবে

প্রথমত, পরিষ্কার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত আলোয় নিজের শরীরের দিকে লক্ষ্যে করুন। দুই বাহু দেহের দুই পাশে ঝুলিয়ে রাখুন। বাহু দ্বয় মাথার ওপরে বা পেছনে উঁচিয়ে ধরুন। দুই হাত কোমরে চাপ দিয়ে দাঁড়াতে হবে, যাতে বুকের মাংসপেশি টান টান হয়। স্তনবৃন্ত হালকা করে একটু চাপ দিয়ে দেখতে হবে কোনো রস বের হয় কি না। লক্ষ্য করুন, স্তনের আকার, আকৃতি ও রঙের কোনো পরিবর্তন, দুই স্তনের কোনো তারতম্য, স্তনের ত্বকের কোনো পরিবর্তন, স্তনবৃন্ত ভেতরে দেবে গেছে কি না, বৃন্ত সংলগ্ন এলাকায় ত্বকের অস্বাভাবিকতা আছে কি না এবং স্তনবৃন্ত থেকে নির্গত তরলের রং।

দ্বিতীয়ত, হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিছানায় শুয়ে ডান হাত দিয়ে বাঁ স্তন এবং বাঁ হাত দিয়ে ডান স্তনে হাত দিয়ে দেখুন। যে পাশের পরীক্ষা করতে হবে, সে পাশের হাত মাথার ওপরে রাখতে হবে, কাঁধের নিচে ছোট বালিশ বা তোয়ালে ভাঁজ করে দিতে হবে, যাতে বুক ও স্তন একই সমান্তরালে থাকে। অন্য পাশে অল্প কাত হয়ে শুতে হবে। এবার তিন আঙুলের প্যাড দিয়ে প্রথমে একটু হালকা চাপ, পরে আরও ভারী চাপ, এরপর আরও চাপ দিয়ে স্তন সীমানার পুরো এলাকা অনুভব করতে হবে। গোসলের সময় দাঁড়িয়ে, শরীরে সাবান মেখে একই ভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

তবে মনে রাখা দরকার, সেল্ফ এক্সামিনেশন কখনই মেডিকেল চেক আপের বিকল্প নয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসককে দিয়ে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি তিন বছরে একবার এবং ৪০ বছর পার হলে প্রতিবছর একবার স্তন পরীক্ষা করানো উচিত।

এর বাইরে চিকিৎসকের পরামর্শে ম্যামোগ্রাফি এবং রেডিওলজি ও ইমেজিং পরীক্ষা (আলট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই) করা যেতে পারে। এসব পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে এফএনএসি অথবা কোর বায়োপসি করে রোগ শনাক্ত করা হয়।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন