বেশির ভাগ হাইপোথাইরয়েডিজম দীর্ঘস্থায়ী হয়। শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণত সারা জীবন থাইরয়েডের ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন মাত্রায় লিভোথাইরক্সিন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হরমোনের তারতম্যের ওপর নির্ভর করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে হয়। ওষুধটি সকালবেলা নাশতা করার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে সেবন করতে হয়। থাইরক্সিন ওষুধের সঙ্গে অন্যান্য ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

রোজায় করণীয়

যেহেতু পবিত্র রমজান মাস চলছে; তাই অনেক সময় হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরা ওষুধ সেবনের সময় নিয়ে ঝামেলায় পড়েন। সাধারণত ইফতার ও সাহ্‌রিতে দুটি মূল খাবার গ্রহণ করা হয়। অনেকেই ইফতারের সময় ওষুধটি সেবন করে সঙ্গে সঙ্গে বা কিছুক্ষণ পর ইফতার করে ফেলেন। এতে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যেহেতু ওষুধটি খালি পেটে খেতে হয়, তাই রমজানে সাহ্‌রি খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে এটি সেবন করুন। ইচ্ছা করলে ইফতারের অন্তত তিন ঘণ্টা পরও সেবন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একটি জিনিস মনে রাখা ভালো, ওষুধটি সেবনের অন্তত এক ঘণ্টা পর খাবার খেতে হবে।

ওষুধ সেবনের এক ঘণ্টার মধ্যে উচ্চমানের আমিষযুক্ত খাবার, সয়া প্রোটিন, ফাইবারযুক্ত খাবার, অ্যান্টাসিড খাওয়া উচিত নয়। ওষুধ সেবনের পরবর্তী চার ঘণ্টার মধ্যে ক্যালসিয়াম বা আয়রন সেবন করাও ঠিক নয়।

সতর্কতা

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ওষুধ সেবন বন্ধ করবেন না। কোনো কারণে ওষুধ খেতে ভুলে গেলে পরবর্তী দিন একসঙ্গে দুই দিনের ডোজ নিতে হবে। ‌হরমোনের মাত্রা কমে বা বেড়ে গেলে ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. এ হাসনাত শাহীন, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট, ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন