প্রাথমিক কারণ

  • মাথা ছোট হওয়ার অন্যতম কারণ জেনেটিক। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় প্রথম সাত মাসে শিশুর যদি ক্রোমোসোম বিচ্যুতি হয় বা গর্ভকালে মায়ের টক্সো, সিফিলিস, রুবেলা, হারপেস, জিকা প্রভৃতি জীবাণু সংক্রমণ হয়, তবে শিশুর মাথা ছোট হতে পারে।

  • গর্ভকালে মায়ের অ্যালকোহল, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে শিশুর মাথা ছোট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

  • গর্ভবতী মা টক্সেমিয়া, ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি ফেইলিওরের মতো রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হলে এই ঝুঁকি থাকে।

অন্যান্য কারণ

গর্ভাবস্থায় বা ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রথম দুই মাস বয়সে শিশু যদি পেরিনেটাল এসফাইয়েকশিয়া (জন্মকালীন শ্বাসরোধ), হাইপোথারমিয়া, মেনিনজাইটিস, অপুষ্টিসংক্রান্ত জটিলতায় ভোগে, তবে মাথা ছোট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা

  • রোগের ইতিহাস জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভপূর্ব, গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে মায়ের জ্বর ও র‌্যাশ, খিঁচুনি প্রভৃতি ছিল কি না—এসব তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে।

  • নবজাতকের মাত্রাতিরিক্ত জন্ডিস বা খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

  • নবজাতকের মাথার আকার নির্ণয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • শিশুর মুখমণ্ডল ও শরীরের আকার-আকৃতিসহ শারীরিক পরীক্ষা করার পর বায়োকেমিক্যাল ল্যাব টেস্ট, প্রয়োজনে মাথার সিটি স্ক্যান লাগতে পারে।

  • নির্দিষ্ট অসুখ চিহ্নিত হলে চিকিৎসা এবং জেনেটিক কাউন্সেলিং দরকার হতে পারে। এমন যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল