যা করতে পারেন

সকালে ঈদের নামাজের আগে হালকা নাশতা যেমন সেমাই, জর্দা খেয়ে নিতে পারেন। নামাজ থেকে ফিরে নাশতা করবেন। নাশতার সময় তেল-চর্বি, অতিরিক্ত মিষ্টি ও ঘন দুধ, কনডেন্সড মিল্কের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলবেন। তেলবিহীন সেঁকা পরোটা বা রুটি, হালকা ঝোলের মুরগির কোরমা, চপ-কাটলেট খেতে পারেন। খাবার হবে পরিমিত। অর্থাৎ একসঙ্গে অনেক খাবার খাবেন না। পাকস্থলী কিছুটা খালি রাখবেন।

উৎসব উপলক্ষে এক-দুই দিন ২৫০০-৩০০০ ক্যালরি খাবার খেতে পারেন। তবে দ্রুত পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়াই ভালো। সহজ হিসাব হলো ৯-৪-৪। চর্বি, শর্করা ও আমিষজাতীয় খাবারের প্রতি গ্রাম থেকে ৯, ৪, ৪ ক্যালরি খাদ্যশক্তি আসবে।

ডায়াবেটিস থাকুক আর না থাকুক চিনি ক্ষতিকর। অনেকের ধারণা, আমার ডায়াবেটিস নেই, তাই যত খুশি চিনিযুক্ত ডেজার্ট খেতে পারব। এই ধারণা ভুল। চিনি যকৃতে গিয়ে চর্বিতে রূপান্তরিত (৪০ শতাংশ) হয় ও জমা হয়। তাই ঈদ উপলক্ষে চিনিযুক্ত ডেজার্ট পরিমিত খাবেন।

লক্ষ করুন

ঈদে এক দিনে সব খেতে যাবেন না। কয়েক দিনে অল্প অল্প করে খান। ভূরিভোজন নয়, পরিমিত খান। হজমশক্তি ও নিজের রোগঝুঁকি বিবেচনা করে খান।

গুরুপাক খাবারের ফাঁকে আঁশযুক্ত প্রাকৃতিক খাবার যেমন সবজি, সালাদ, তাজা ফলমূল, বাদাম খেতে ভুলবেন না।

অতিরিক্ত লবণ, চিনিযুক্ত খাবার, সয়া সস, টেস্টিং সল্টযুক্ত খাবারকে না বলুন। ধূমপান কখনোই নয়।

বিকেল বা সন্ধ্যায় হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। রোজায় অনেকেই হাঁটা বন্ধ রাখেন, এক মাস পর হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম করবেন না। শুরুতে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন।

সতর্কতা

ঈদের ছুটিতে হঠাৎ বুকে ব্যথা, বুকে চাপ, অস্থিরতা, ঘাম হলে দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন। অনেকেই গ্যাস বা বদহজম ভেবে উড়িয়ে দেন, এমনটা করবেন না। মনে রাখবেন, ঈদের ছুটিতেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা থাকে।

অধ্যাপক লিয়াকত হোসেন, অধ্যাপক ও প্রধান, হৃদ্‌রোগ বিভাগ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন