কীভাবে নেবেন ফ্রিজের যত্ন

ফ্রিজ কেনার সময় ওয়ারেন্টি নীতি সম্পর্কে জানতে হবে। মডেল: হৃদি ও সাজ্জাদ
ছবি: কবির হোসেন, কৃতজ্ঞতা: মিনিস্টার

ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার সময় যতটা যাচাই-বাছাই আমরা করি, যত্ন-আত্তির বেলায় তার সিকিভাগও অনেক সময় আমরা করি না। অথচ একটু যত্ন নিলে, রক্ষণাবেক্ষণ করলেই দৈনন্দিন ব্যবহার্য যন্ত্রটি টেকে আরও বেশি দিন। কীভাবে ফ্রিজের যত্ন নেব, নষ্ট হলে কী করব, কোন প্রতিষ্ঠানের ওয়ারেন্টি নীতি কেমন, চলুন একটু খোঁজখবর জানা যাক।

দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্যই সাধারণত আমরা ফ্রিজ কিনি। কীভাবে যত্ন নিলে যন্ত্রটি টেকসই হবে, জানতে চেয়েছিলাম ওরিয়ন গ্রুপে কর্মরত প্রকৌশলী মোরশেদুল আরেফিনের কাছে। তিনি বলেন, ‘ফ্রিজ বাসায় নেওয়ার পর প্রথম কাজ হলো, এটিকে সমতল জায়গায় রাখা। অসমান জায়গায় বসালে ফ্রিজ থেকে শব্দ হতে পারে এবং ধীরে ধীরে কমপ্রেসরের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া ফ্রিজের নরমাল অংশে একটা ড্রেন পাইপ থাকে, যা ভেতরে জমা জলীয় বাষ্পকে শোষণ করে বাইরে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। শাকসবজি রাখার কারণে অনেক সময় এই ড্রেন পাইপের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাই মাঝেমধ্যেই এটি পরিষ্কার করা উচিত। ছোট কাঠি দিয়ে করা যেতে পারে। ফ্রিজের দরজা ঠিকভাবে লাগানো হচ্ছে কি না, এটাও গুরুত্বপূর্ণ। খাবার বা পানীয় ঠান্ডা না হওয়ার যে অভিযোগটি অনেকেই করেন, সেটা ভালোভাবে দরজা না লাগানোর কারণেও হতে পারে। কম জিনিস ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের তাপমাত্রা যেমনটা রাখা উচিত, হঠাৎ করে বেশি পণ্য রাখলে তাপমাত্রাও সেই অনুসারে কমিয়ে নেওয়া উচিত। আবার ধোঁয়া ওঠা গরম খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজের সঙ্গে দেওয়া নির্দেশিকা বইটি এগুলো বুঝতে ব্যবহারকারীকে সাহায্য করবে। যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে নরমাল ও ডিপ ফ্রিজের (ফ্রিজার) নিয়ম প্রায় একই।’

যত্নের অভাবে যেমন ফ্রিজ নষ্ট হতে পারে, তেমনি উৎপাদনগত ত্রুটিও (ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট) থাকতে পারে। যেকোনো সমস্যা হলেই তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের যা মাথায় আসে তা হলো কোথায় মেরামত করব, ওয়ারেন্টি আছে কি না? ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার আনিসুর রহমান বললেন, ‘ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। আমরা যেহেতু শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ফ্রিজ সরবরাহ করি, তাই আমাদের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন রকম। গ্রামের দিকে অনেকে ঠিকমতো যত্ন নিতে পারেন না। তাঁদের শেখানোর দায়িত্বও আমাদেরই এবং আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ওয়ারেন্টির সুবিধা কীভাবে নিতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক ওয়ারেন্টি দাবি করতে পারবেন, গ্রাহকের এটা নিয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। আমাদের ফ্রিজের ক্ষেত্রে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, আমরা বিভিন্নভাবে গ্রাহককে সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের যেকোনো ফ্রিজ কেনার পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বিনা মূল্যে সার্ভিস দেওয়া হয়। এ ছাড়া কমপ্রেসরের ওপর থাকে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি।’

ওয়ালটন ফ্রিজগুলোতে ওয়ারেন্টি নীতি দুইভাবে কাজ করে। বাসায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, একই পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেগুলো কমে আসে। ওয়ালটনের যেকোনো ফ্রিজের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়া যাবে। কনকা ফ্রিজের ক্ষেত্রে বিক্রির পর বিনা মূল্যে পাঁচ বছরের সেবা দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকছে ১০ বছরের কমপ্রেসর ওয়ারেন্টি। দেশীয় ব্র্যান্ড যমুনাও দিচ্ছে একই রকম সেবা। আরএফএল ইলেকট্রনিকসের ভিশন ও স্যামসাং ফ্রিজের সঙ্গে মিলছে ১০ বছরের কমপ্রেসর ওয়ারেন্টি। ওরিয়ন ফ্রিজের সঙ্গে আছে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধাসহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্ভিসের নিশ্চয়তা।