আমেরিকার দুই প্রেসিডেন্ট নবনির্বাচিত জো বাইডেন আর সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকার দুই প্রেসিডেন্ট নবনির্বাচিত জো বাইডেন আর সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: রয়টার্স ও পেকজেলসডটকম

কোথাও পাবেন না এর প্রমাণ। শুধু অনুভব করতে পারবেন। সেই যে কথায় আছে না, সাউন্ড হবে না, শুধু মার হবে! ব্যাপারটা সে রকমই। নারকেল তেল মাথায় দিলে যদি মাথা ঠান্ডা থাকতে পারে, তাহলে সত্যিকারের ঠান্ডা ঠান্ডা আইসক্রিম খেলে মাথা ঠান্ডা থাকবে না কেন?

default-image

এবার প্রমাণ দিই। আমেরিকার সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জনাব জো বাইডেন আর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহেবের কথা তো জানেন আপনারা। এই দুজনের একজন দারুণ পছন্দ করেন ঠান্ডা ঠান্ডা আইসক্রিম। আর একজন পছন্দ করেন ফাস্ট ফুড। যিনি আইসক্রিম পছন্দ করেন সেই বাইডেন সাহেব কিন্তু এবার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগেই বলেছিলেন, আইসক্রিমপ্রেমী বাইডেন সাহেব এইবার জিতবেনই জিতবেন। এ ঘটনা থেকে কী প্রমাণিত হয়? আইসক্রিম খেলে মাথা ঠান্ডা থাকে। নির্বাচনেও জেতা যায়! নইলে ট্রাম্প সাহেব নির্বাচনের আগে এত উত্তেজিত করার পরেও জনাব বাইডেন মাথা এত্ত কুল রাখলেন কীভাবে!

বিজ্ঞাপন

তবে হ্যাঁ, শর্ত প্রযোজ্য। একটা-আধটা করে খেলে হবে না। আবার টাকা দিয়ে কিনে খেলেও নির্বাচনে জিততে পারবেন না। কিনতে হবে ডলার খরচ করে। আপনাদের জানিয়ে রাখি, জনাব বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় জেনি’স কোম্পানির আইসক্রিমের জন্য প্রায় ১০ হাজার আমেরিকান ডলার খরচ করা হয়েছিল! বুঝতেই পারছেন, টাকায় কাজ হবে না। আর খেতেও হবে কিন্তু সিরাম লেভেলে। জনাব বাইডেন ২০১৬ সালে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন নিজের আইসক্রিম প্রেম বিষয়ে। তাঁর কথাকে সোজা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘আমি এক বসায় তিনজন মানুষের চেয়ে বেশি আইসক্রিম খাই।’ প্রমাণ পেলেন তো! তা কোন স্বাদের আইসক্রিম তিনি পছন্দ করেন? পুরোনো চকলেট চিপ স্বাদের আইসক্রিম মিস্টার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পছন্দ বলে জানা যায়।

default-image

শুধু আইসক্রিমই অবশ্য নয়। মিস্টার প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ধরেনর মিল্কশেক এবং ফ্রোজেন কাস্টার্ডও পছন্দ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ধরেনর ডেজার্ট পছন্দ করেন বলে জানিয়েছে বিশ্বের নামকরা সংবাদপত্রগুলো। তাঁর ডেজার্টের পছন্দের তালিকায় থাকে কুকিজ, রাইস পুডিং, পিস পাই, কাস্টার্ড পাই, চিজ কেক এবং কোকোনাট ক্রিম পাই।

এসব ছাড়া আর কী খেতে পছন্দ করেন মিস্টার প্রেসিডেন্ট? পাস্তা। ইতালিয়ান পাস্তা। এটি নাকি তাঁর ভীষণ পছন্দের খাবার। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, জো বাইডেন লাল সস দিয়ে পাস্তা খেয়েই জিতবেন নির্বাচন। বারাক ওবামার সে ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্য ফলে গেছে।

default-image

তবে তাঁর খাবারের তালিকা দেখে কিছুটা দুঃখই পাবেন ভেজিটারিয়ানেরা। প্রেসিডেন্ট সাহেব নাকি সবজি খুব একটা পছন্দ করেন না। কালেভদ্রে তিনি সালাদ খান। তাও তাঁর পছন্দের সালাদ হচ্ছে টুনার সালাদ। কখনো কখনো এভোকোডার সালাদ। আর সবজির মধ্যে তাঁর ভীষণ পছন্দ হলো ভেজিটেবল বিফ স্যুপ। ঘন ঝোলের এই বিফ স্যুপ তিনি নাকি মজা করেই খান।

সম্ভবত বাইডেন সাহেবের পুরো পরিবারই ফুডি মানে খাদ্যরসিক। নইলে তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন কি আর বলেন, ‘ফুড ইজ লাভ!’ শুধু তা-ই নয়, জিল আরও বলেছিলেন, ‘ডিনার ইজ নট ডিনার উইদাউট ক্যান্ডেল।’ সোজা কথায়, মোমবাতি ছাড়া ডিনার আসলে জমে না। কী রোমান্টিক!

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট পদটিকে নিজের মতো বানিয়ে ফেলা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী খেতেন, সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক। আপনার-আমার খাবারের সঙ্গে ট্রাম্প সাহেবের কিছুটা মিল আছে। আপনি কী খেতে পছন্দ করেন? ম্যাকডোনাল্ড, কেএফসির চিকেন আর ফ্রেঞ্চফ্রাইজ, ডায়েট কোক, বার্গার, মিটলোফ, পিৎজা? তাই তো? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কিন্তু এগুলো খেতেই ভালোবাসতেন। এবং অদ্ভুত তথ্য হলো, পৃথিবীতে ক্রেজি প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প সাহেব কিন্তু মদ্যপান করতেন না। যা-ই হোক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবার জন্য ফাস্ট ফুড ব্যাপারটিকে পছন্দ করতেন। বলতেনও সেসব খেতে। তবে কাউকে ফাস্ট ফুড খেতে বাধ্য করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি!

default-image

ফ্রেঞ্চফ্রাইজ কতটা পছন্দ ছিল ট্রাম্প সাহেবের, সেটা একটু ভাবারই বিষয়। বাইডেন সাহেব যেমন আইসক্রিম ফ্রিক, ট্রাম্প সাহেব তেমনি ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ফ্রিক। তিনি মনে করেন, তাঁর চুলের গোপন রহস্য ফ্রেঞ্চফ্রাইজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

একটা প্রবাদ আছে খানাখাদ্য নিয়ে। সেটা হলো, আপনি যেমন আপনার খাবারও তেমনি। আমরা জানি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খানিক উত্তেজিত ধরনের মানুষ। কথায় কথায় উত্তেজিত হওয়ার, মানুষের দিকে তেড়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে তাঁর। উল্টো দিকে বাইডেন সাহেব নাকি বেশ ঠান্ডা মাথার মানুষ। ভেবেচিন্তে, সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করে তবেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ভালোবাসেন।

এবার ভাবুন, আপনি আইসক্রিম খেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে প্রেসিডেন্ট হতে চান, নাকি গরম-গরম খাবার খেয়ে ট্রাম্প সাহেবের মতোই ভোটে হেরে যেতে চান।

মন্তব্য করুন