বিজ্ঞাপন

১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক নিরামিষ দিবস। উত্তর আমেরিকার নিরামিষভোজী সংস্থা ১৯৭৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করে আসছে। এই বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের সব ভালো গুণ, মানসিকতা, নৈতিকতা, কর্তব্যবিষয়ক সব ভাবনা প্রচারের উদ্দেশ্যে এই দিবস। মজার ব্যাপার হলো, বাঙালি হিসেবে এই বিশেষ দিন নিয়ে ভাবতে বা এই ধারার পাশে দাঁড়াতে সামগ্রিকভাবে আমাদের নিজেদের অবস্থানকে খুব বেশি পরিবর্তনের কিন্তু প্রয়োজন নেই। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ২০০৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিরামিষভোজী দেশ।

default-image

বাংলাদেশের এই অবস্থানের একটি কারণ হয়তো আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য। কিন্তু ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান এবং তার সঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস বিবেচনা করলে শাকাহারী জীবনদর্শন কতটা অভ্যাসে জড়ানো, তা খুঁজে পাওয়া যায় অনায়াসেই। বর্ষাকালনির্ভর বাঙালির উঠানজুড়ে শাক-লতা-পাতা-সবজির বাহার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতিদিনকার ভোজের অংশ।

তাহলে এই খাদ্যাভ্যাস বা এই জীবনদর্শন নিয়ে আমাদের জ্ঞাত অবস্থান কী হওয়া উচিত? নিরামিষভোজী মানুষ কি নিজেকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখতে চায়? বৈশ্বিক ভাবনায় কী কল্যাণ বয়ে আনতে পারে নিরামিষভোজীরা? এই সব প্রশ্ন ও ভাবনা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কোনো আবেগের জায়গায় স্থান করে নেবে কি না, সেটা অবশ্য আপেক্ষিক অথবা ব্যক্তিগত অভিমত। কিন্তু সামষ্টিক মুক্তচিন্তার বিচারে এবং বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য বিচারে, নিরামিষভোজীরা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অধিকারী হয়। আর প্রাণীজ উৎস থেকে আসা খাবার থেকে আমাদের অনেক কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগতে হয়।

জাতিসংঘের ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে খাদ্য হিসেবে পশুসম্পদের উৎপাদন শিল্প পরিবেশের ওপর বেশ বড় মাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ আসছে এই খাত থেকে।

বিশ্বায়নের একটি অন্ধকার দিক হলো, ব্যাপক উৎপাদনের অজুহাতে আমরা আমাদের মনুষ্যত্ব অনেক ক্ষেত্রেই জলাঞ্জলি দিচ্ছি। আর অনেকাংশে এটি করা হচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে। শিল্পকারখানার আদলে করা পশু খামারগুলো দুনিয়াজুড়েই জীবন্ত পশুদের প্রতি অমানবিক আচরণ করে থাকে। অর্থনীতির সরবরাহ ও জোগানের সমীকরণের বলি হয় হাজার হাজার জীবন। জাতিসংঘের ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে খাদ্য হিসেবে পশুসম্পদের উৎপাদন শিল্প পরিবেশের ওপর বেশ বড় মাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ আসছে এই খাত থেকে।

পশুসম্পদ উৎপাদনের প্রভাবের আরও দিক আছে। পানিসম্পদের মূল্য আমাদের সবার জানা। আর এই সম্পদের জোগান সীমিত। তাহলে আসুন দেখি, পশুসম্পদ উৎপাদন তথা বিশ্বজুড়ে মাংস এবং প্রাণীজ খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ এই প্রাণিসম্পদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। একটি সহজ তুলনা এই বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে। এক কেজি সবজি ফলাতে যেখানে ৩০০ লিটারের কিছু বেশি পানির প্রয়োজন হয়, এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদনে পানির প্রয়োজন সেখানে ১৫ হাজার লিটারের বেশি। এক কেজি মুরগির মাংস উৎপাদনে লেগে যায় ৪ হাজার লিটারের বেশি পানি। এমনভাবেই আমাদের পশুভিত্তিক খাদ্যের চাহিদাগুলো আমাদের সম্পদ এবং পরিবেশের ওপর অনেক বড় চাপের কারণ হয়ে থাকছে।

এক কেজি সবজি ফলাতে যেখানে ৩০০ লিটারের কিছু বেশি পানির প্রয়োজন হয়, এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদনে পানির প্রয়োজন সেখানে ১৫ হাজার লিটারের বেশি। এক কেজি মুরগির মাংস উৎপাদনে লেগে যায় ৪ হাজার লিটারের বেশি পানি।

ধর্মীয় অথবা দেশীয় ঐতিহ্য, এমন অনেকগুলো বিবেচনার জায়গায় বিশ্বজুড়েই নানা ভিন্নমত, মতবিরোধ লক্ষ করা যায়। মতবিরোধ পৃথিবীর যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই বিদ্যমান থাকতে পারে। কেবল বৈজ্ঞানিক যুক্তি, ঐতিহাসিক সমীক্ষা যদি আপনার অভিমতকে অথবা আপনার পছন্দকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়, তবে ধরে নিতে হবে, আপনি কিংবা ওই মানুষগুলো কোনো ভুল পথে এগোচ্ছে না। ঐতিহ্য ও পরম্পরার দোহাই অনেক সময়ই নতুন পাওয়া তথ্য বা জ্ঞানের ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে আসে। কিন্তু অতীতের যে সময়ের দিকে তাকিয়ে, যে ইতিহাসের দোহাই দিয়ে আমরা বর্তমানে রসনাবিলাসে মগ্ন হই, তখন পশুসম্পদ শিল্প এত নিষ্ঠুর ছিল না, আর পরিবেশের ওপর প্রাণিজ উৎসের খাদ্য উৎপাদনের এত প্রভাবও আমাদের জানা ছিল না।

নিরামিষভোজী মানুষ প্রকৃতির সব উপাদান, যা কিছু ভোজনযোগ্য, শরীর–স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তার সঙ্গে যুক্ত হয়। পৃথিবীর ভালো থাকার কারণ, যেকোনো বিবেকবান মানুষ সেই কল্যাণ্যের জন্য সপ্তাহে অথবা মাসে এক দিন অথবা কালেভদ্রে এক দিন প্রাকৃতিক নির্যাস অথবা উদ্ভিজ্জ আমিষ খেয়ে নিজেকে পৃথিবীর কল্যাণের শরিক হিসেবে দেখতে পারেন।

একটি ঘোষিত দিবস মানুষের জানার অনেক দ্বার উন্মুক্ত করে। ওয়ার্ল্ড ভেজিটেরিয়ান ডে পালিত হচ্ছে, এই বিষয় নিয়ে চর্চা বাড়ছে, বিজ্ঞান প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে। পৃথিবী ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে, এভাবে যদি ভাবনা কাজ করে, তবে পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার দায় এই মানব সম্প্রদায়ের। আর এই বাঁচিয়ে রাখার জন্য পদক্ষেপ ও সচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই। ব্রহ্মাণ্ড বেঁচে যাবে আপনার, আমার ছোট ছোট অবদান দিয়ে, এই চিন্তাধারার চর্চা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

আপনি কোনো কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে যদি আর কোনো অকল্যাণ না ঘটে, তবে অবশ্যই সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত থাকা বা সম্মতি দেওয়া দায়িত্ববান মানবিক অবস্থান।

হলুদ ফুলভাজি

default-image

হলুদের ফুল বাজারে কিনতে পাওয়া যায় মাঝেমধ্যে। কিন্তু এর ব্যবহার মূলত অন্য রান্নার অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা যায়। হলুদের ফুলের আসল ভেষজ স্বাদ উপভোগ করার জন্য আমরা সহজ প্রণালিটি উপস্থাপন করছি। এভাবে তৈরি করলে হলুদ ফুলের প্রাকৃতিক স্বাদটুকু পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।

default-image

উপকরণ

হলুদের ফুল ৬টি, মাঝারি পেঁয়াজ ১টি, রসুন কোয়া ২টি, কাঁচা মরিচ ৩টি, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, লবণ আধা চা–চামচ কিংবা স্বাদমতো।

প্রণালি

default-image

প্রথমে হলুদ ফুলের পাপড়ি বেছে আলাদা করে ধুয়ে কুচি করে নিতে হবে। এরপর পেঁয়াজ, রসুন মিহি করে কেটে, মরিচগুলো ফালি করে রাখতে হবে। কড়াইয়ে তেলটুকু দিয়ে আধো আঁচে তেল গরম করে নিন। এবার পেঁয়াজটুকু দিয়ে অল্প ভেজে নিন। তারপর কড়াইয়ে রসুনকুচি দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হলুদের ফুলের কুচি আর লবণ দিয়ে যত্ন করে নেড়ে দিন। হলুদের ফুল খুব সেদ্ধ করে না খেলেও একরকম মজা হয়। একটু নরম করতে চাইলে এই পর্যায়ে কিছুক্ষণ ঢেকে দিতে পারেন।

৮-১০ মিনিট রান্না হলে কাঁচা মরিচের ফালিগুলো দিয়ে আবার একটু নেড়ে দিন। আর মিনিট দুয়েক পরেই নামিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। হলুদ ফুলের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে ধনেপাতা বা অন্য কিছু না যোগ করলেই ভালো।


লেখক:

পাভেল হক: আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ, উন্নয়ন এবং টেকসই সচেতন উদ্যোক্তা, পরিবেশবান্ধব খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফিউশন টার্মিনালের প্রতিষ্ঠাতা এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা, সঞ্চয়িতা

ফায়জা আহমেদ: ডিজাইনার, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠাতা: মানাস ও সহপ্রতিষ্ঠাতা, সঞ্চয়িতা

রসনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন