জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ প্রায় শেষের পথে। প্রতিযোগিতার শুরুতে সৃষ্ট আমেজ এখন উত্তেজনার চরমে। বাছাইপর্বের বিজয়ী সেরা ২৪ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সিজনে এখন টিকে আছেন মাত্র চারজন। লড়াই চলছে শীর্ষ তিন আসনের জন্য। ৫৭তম পর্বে প্রতিযোগিতার হঠাৎ মোড় ঘুরে যায় শীর্ষ ৬ থেকে শক্তিশালী দুই প্রতিযোগী লিন্ডা ডালরিম্পল ও  সাবিনা নিউটন বাদ পড়ে যাওয়ায়।

মঙ্গলবারের পর্বে বাকি ৪ জনের ১ জন সরাসরি গ্র্যান্ড ফিনালেতে উন্নীত হয়েছেন। এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরী গ্র্যান্ড ফিনালেতে চলে যাওয়ার টিকিট প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। এদিনের প্রথম পর্বে তিনি রুবি চিকেন রেঁধে তাক লাগিয়েছিলেন বিচারকদের; কিন্তু পরের পর্বের চ্যালেঞ্জে জিতে চূড়ান্তপর্বে জায়গা করে নেন পিট ক্যামবেল। গ্র্যান্ড ফিনালের বাকি দুই আসনের জন্য জাস্টিন নারায়ণ আর অ্যালিস পুলব্রুকের সঙ্গে এখন লড়তে হবে কিশোয়ারকে।

এ জন্যই আগামী রোববারের পর্বটি হতে যাচ্ছে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার এবারের আসরের একই সঙ্গে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক অথবা হতাশাজনক পর্ব। কারণ, কিশোয়ার সবাইকে আশান্বিত করে চূড়ান্তপর্বে যাবেন বাঙালি, বাংলাদেশসহ অসংখ্য ভক্তকুলকে সঙ্গে নিয়ে, নাকি বাদ পড়বেন—এবারের আসর থেকে সেটাই নির্ধারিত হবে এই পর্বে।

এরপর ১২ ও ১৩ জুলাই দুই দিনে মোট ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের গ্র্যান্ড ফিনালে পর্বের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র ত্রয়োদশ সিজনের। ফলে অনুষ্ঠানের ভক্ত আর অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখ এখন এদিকে। প্রতিযোগিতার একদম শেষে এসেও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছেন কিশোয়ার। কিন্তু জয়ের মুকুট কার মাথায় শোভা পাবে, এ নিয়ে গুঞ্জন আর বিশ্লেষণের শেষ নেই। যতটুকু জানা গেছে, আগেই ধারণকৃত অনুষ্ঠানটির বিজয়ীর নাম ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কারণ, নির্মাতারা সাধারণত একাধিক জনকে আলাদাভাবে বিজয়ী হিসেবে পর্ব ধারণ করে রাখেন। এর মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম অনলাইন বাজির আসরে সেরা ৩-এ রয়েছে কিশোয়ারের নাম। একই ভাবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমগুলোরও ধারণা, সেরা তিনে আছেন কিশোয়ার। এদিকে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনের মতে, বিজয়ী হতে পারেন জাস্টিন নারায়ণ। আর বাজিগরদের বাজির দর বলছে, দ্বিতীয় হবেন পিট ক্যামবেল। কোনো সন্দেহ নেই, আসল ফলাফল শেষ পর্বেই নিশ্চিত হতে হবে। অবশ্য কিশোয়ার চূড়ান্ত বিজয়ী হবেন কি না, এ প্রশ্ন আপাতত তোলা থাকলেও আগামী পর্বে কিশোয়ারের রান্নায় যে চমক থাকবে, এটা নিশ্চিত।

‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’য় কিশোয়ারের জয় কাম্য বাংলাদেশিসহ তাঁর লাখো ভক্তের। বাংলাদেশি খাবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে আসার তাঁর ইতিবাচক ইচ্ছা আর পরিশ্রম পুরোটাই দর্শক আর বিচারকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাস্টারশেফের মঞ্চে খিচুড়ি বা বেগুন ভর্তার মতো দেশীয় খাবার যেমন তিনি পরিবেশন করেছেন, রেঁধেছেন মাছের ঝোল, খাসির রেজালাও। সম্প্রতি বলেওছেন, তিনি লিখতে চান বাঙালি খাবার নিয়ে বিশ্বমানের একটি বই। অবশ্য শেষটা যেমনই হোক, বাংলাদেশ আর বাঙালি খাবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসার যে উষ্ণতা এরই মধ্যে বিশ্বময় ছড়িয়েছেন, তার জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদাহ্য হবেন।