default-image

তাই সকালের নাশতায় ফ্রোজেন ফুড বেশি জনপ্রিয়। বিকেলেও ফ্রোজেন ফুডের নানা পদ দিয়ে টেবিল সাজানো যেতে পারে।

আইজি ফুডস লিমিটেডের অপারেটিভ ডিরেক্টর (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) নুরুল মোর্শেদ খান বলেন, ‘২০০৭ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত আমরা প্রায় ২৬ ধরনের হিমায়িত খাবার বাজারে এনেছি। হিমায়িত খাবারের প্রতি মানুষের আস্থা এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে করোনার পর হিমায়িত খাবারের চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে। কর্মজীবি পরিবারে নাশতা ও শিশুদের টিফিন হিসেবে হিমায়িত খাবারের জুড়ি নেই।’

হিমায়িত খাবারের মধ্যে পরোটা ও চিকেন নাগেট বেশি চলে বলে জানালেন নুরুল মোর্শেদ খান।

দেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই হিমায়িত খাবার তৈরি করছে। তাদের মধ্যে আইজি ফুড, গোল্ডেন হারভেস্ট, কাজী ফার্মস, ব্র্যাক চিকেন, বেঙ্গল মিট, স্বপ্ন, আফতাব ফুডস, সিপি, রিচ ফুড ইত্যাদি।

সকাল–বিকেলে নাশতায়

সকালের নাশতায় প্রাণিজ প্রোটিন রাখা যেতে পারে। চিকেন নাগেটস, চিকেন সসেজ, চিকেন বল, মিট বল—এসব খাবার সকালের নাশতায় বেশ জনপ্রিয়। এসব খাবার বাসায় থাকলে চটজলদি খুব কম সময়ে তৈরি করে নেওয়া যায়। শিশুদের টিফিনেও কোনো কোনো দিন ফ্রোজেন খাবার দিতে পারেন। চিকেন নাগেটস বা চিকেন বলের মতো খাবার শিশুরা খেতে চায় আগ্রহ নিয়ে। সসেজ ভেজে ছোট ছোট টুকরা করে শিশুর পছন্দমতো সাজিয়ে দেওয়া যায় চটজলদি। তা ছাড়া টিফিনে থাকতে পারে চিকেন সমুচা, স্প্রিং রোল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি। শিশুদের জন্য নানা রকম হিমায়িত খাবার কম ঝাল দিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

বিকেলের নাশতার ঝক্কিও অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে হিমায়িত খাবার। হিমায়িত খাবার থেকে বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে শিঙাড়া, সমুচা, কাবাব, রুটি, পরোটা, পুরি, রোল, ফ্রায়েড চিকেন, চিকেন চিপস, চিকেন পটেটো চপ, চিকেন ললিপপ, চিকেন পপকর্ন, চিকেন অনিয়ন সসেজ, চিকেন কিমা পরোটা—এগুলো রাখা যেতে পারে। চায়ের সঙ্গে একেক দিন একেক ধরনের আইটেম রাখতে পারেন।

ঠিকমতো সংরক্ষণ করছেন তো

ফ্রোজেন ফুডের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করাটা খুব জরুরি, জানালেন প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের পুষ্টিবিদ ফারজানা কান্তা। আমরা অনেক সময় দিনের পর দিন সবজি হিমায়িত করে রাখি। সবজির ক্ষেত্রে খুব সহজে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তবে প্রোটিন–জাতীয় হিমায়িত খাবার অনেক দিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবারে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করলে শরীরের জন্য সেটা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই খাবারগুলো হিমায়িত করার সময় যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, কেনার আগে বিবেচনা করে দেখতে হবে। তবে ফ্রোজেন খাবার বাড়িতে তৈরি করা হলে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

ফ্রোজেন খাবার সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করাটা খুব জরুরি। বাজার থেকে কিনে এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলে ফেলুন। যেখানে হিমায়িত খাবার সংরক্ষণ করবেন, সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে রাখতে হবে। অনেকে প্যাকেটের পুরো খাবার ব্যবহার না হলে, বাকিটা চটজলদি স্ট্যাপল করে রেখে দেয়। এটা করা যাবে না। খাবারের প্যাকেটে ধাতব বস্তু ব্যবহার করা উচিত নয়। অব্যবহৃত অংশটুকু বায়ুনিরোধোক বক্স, জিপার ব্যাগ, ফয়েল পেপারে রাখা যেতে পারে।

আমরা অনেক সময় ফ্রোজেন ফুড রান্না কিংবা ভাজার অনেক আগে বের করে চুলার পাশে রেখে দিই, এটা করা যাবে না। রান্নার আগে ডিপ ফ্রিজ থেকে আগেই নরমাল ফ্রিজে বের করে রাখতে হবে। সাধারণ তাপমাত্রায় এলেই তবে রান্নার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

রসনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন