'এ' গ্রেডের রেস্তোরাঁয় বাসি খাবার

বিজ্ঞাপন

রেস্তোরাঁর মান নির্ধারণে গত জানুয়ারিতে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ফকিরাপুল এলাকায় দি গাউছিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট পায় ‘এ গ্রেড’। অথচ গতকাল বুধবার ওই রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ফ্রিজে পচা-বাসি খাবার পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে রেস্তোরাঁটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০টি সূচক বিবেচনার রেস্তোরাঁর মান নির্ধারণ করা হয়। কোনো রেস্তোরাঁ ৯০ নম্বরের বেশি পেলে তা হবে ‘এ+’ ক্যাটাগরির, স্টিকারের রং হবে সবুজ। ৮০ নম্বরের ওপরে হলে রেস্তোরাঁটি গণ্য হবে ‘এ’ ক্যাটাগরির, থাকবে নীল রঙের স্টিকার। ‘এ‍+’ প্লাসের অর্থ উত্তম আর ‘এ’ মানে ভালো। এ ছাড়া গড়পড়তা বা মোটামুটি মানের রেস্তোরাঁকে ‘বি’ গ্রেড দেওয়া হয়। আর ‘সি’ গ্রেডের অর্থ হচ্ছে অনিরাপদ।

পবিত্র রমজান শুরুর পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ফকিরাপুল, মতিঝিল ও শান্তিনগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিএসটিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালানো হয় দি গাউছিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। অভিযানে ওই রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পচা-বাসি খাবার খুঁজে পান নির্বাহী হাকিম আবদুল্লাহ আল মামুন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ‘এ’ গ্রেড পাওয়া রেস্তোরাঁর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা জানান, রেস্তোরাঁর ফ্রিজে কিছু নষ্ট শিক কাবাব ও মুরগির মাংস পাওয়া গেছে। নতুন করে ভেজে বিক্রির জন্য সেগুলো ফ্রিজে রাখা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। এ ছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল স্যাঁতসেঁতে। কর্মীদের কারও হাতে গ্লাভস ছিল না।

তবে হোটেলের ব্যবস্থাপক সাহাবুদ্দিনের দাবি, হোটেলের শ্রমিকেরা খাওয়ার জন্য গতকাল শিক কাবাবগুলো ফ্রিজে রেখেছিলেন। তবে তাঁরা খেতে ভুলে যাওয়ায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।

>ভেজালবিরোধী অভিযান 
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না ও পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ
পাঁচ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা 

এর আগে একই এলাকায় নিউ আল ইমাম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও এশিয়া গার্ডেন রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পচা–বাসি খাবার পাওয়ায় নিউ আল ইমাম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার টাকা ও এশিয়া গার্ডেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রেস্তোরাঁ দুটির রান্নাঘরের অবস্থা ও ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের পরিবেশ খুবই খারাপ ছিল। রান্নাঘর এতটাই অপরিচ্ছন্ন ছিল যে তাঁরা সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি।

এরপর আরামবাগ এলাকায় ঘরোয়া রেস্তোরাঁ অ্যান্ড হোটেল লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন অভিযোগে রেস্তোরাঁটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী হাকিম আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, যেসব খাবার পরীক্ষা করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই খাবারের যোগ্য নয়, এটা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মুরাদ হোসেন স্বীকার করেছেন।

এরপর বেলা তিনটার দিকে শান্তিনগর বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার অপরাধে এবং মূল্যতালিকা না টাঙানোয় একটি মুদি দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকালের অভিযানে বিএসটিআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা শশী কান্ত দাস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন