মধু ফল আম। আম নিয়ে আমজনতার উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। এই আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা রকমের সম্পর্ক। এর মতো আকর্ষণীয় ফল গোটা পৃথিবীতে নেই। আম সবাইকে কাছে টানে। এ ছাড়া এটি সর্বাবস্থায় ভক্ষণযোগ্য। কচি আম থেকে পাকা আম পর্যন্ত থোকায় থোকায় গাছে ঝুলে থাকা আম সবাইকে আকৃষ্ট করে। তবে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কীভাবে আম প্রচলিত হলো, তাই নিয়ে জানব আজ।
আমের জন্মস্থান নিয়ে রয়েছে নানা তর্কবিতর্ক।

ভারতবর্ষে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে আমের চাষ শুরু হয়। গবেষণা বলছে, আমের আদি নিবাস বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং আশপাশের মিয়ানমার, ত্রিপুরা ও মিজোরামে। তবে বিশারদ ও ফলবিজ্ঞানীদের মধ্যে এর জন্মস্থান নিয়ে মতবিরোধ আছে। সিংহভাগ বিশেষজ্ঞের রায়, আমের আদি জন্মভূমি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিমালয়সংলগ্ন এলাকা, মিয়ানমার, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মালয়ে। বিরোধীদের ভাষ্যে, ফলটি এসেছে ইন্দো-চায়না থেকে। অর্থাৎ ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ইন্দোনেশিয়া অঞ্চল এর আদি নিবাস।

সম্পর্ক তৈরিতে আমের জুড়ি নেই। ভারতে বন্ধুত্বের সূত্রপাতে কেবল এক ঝুড়ি আমই যথেষ্ট। এ ছাড়া ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেও নামডাক রয়েছে আমের। কিংবদন্তির গল্প অনুসারে, কোনো এক রাজ্যের সূর্য রাজকন্যাকে বশ করেছিল এক দুষ্টু জাদুবিদ্যা। যার ফলে তিনি ছাই হয়েছিলেন এবং তার ছাই থেকেই বেড়ে উঠেছিল একটি আমগাছ।

ওই রাজ্যের সম্রাট ওই আমগাছের ফুল দেখেন এবং সে ফুলের প্রেমে পড়েন। পরে ফুল থেকে ফল হয় এবং সেই আম ঝরে পড়ে মাটিতে। আমটি মাটিতে পড়ার পরে সেখান থেকে আবার সুন্দরী সূর্য রাজকন্যা পুনর্জন্ম লাভ করেন। এই সুবাদেই ভারতে আমকে বলা হয় ভালোবাসার প্রতীক এবং এক ঝুড়ি আমকে বন্ধুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করা হয়।

আপনাদের এক ঝুড়ি আম উপহার হিসেবে দিতে না পারলেও আম নিয়ে দিতে পারি কিছু মজার তথ্য।
• একটি নয়, ভারত, পাকিস্তান (গ্রীষ্মকালের জাতীয় ফল) ও ফিলিপাইন মোট তিনটি দেশের জাতীয় ফল আম।
• পেইজলে বা কল্কা প্যাটার্নটি এসেছে আমের আকার থেকেই।
• কাঁচা অবস্থায় আমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আবার পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন এ।

• সবচেয়ে প্রাচীন যে আমগাছের সন্ধান পাওয়া গেছে, তার বয়স প্রায় ৩০০ বছর। মধ্য ভারতের পূর্ব কান্দেশে গাছটির অবস্থান আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে!
• আমকে বলা হয় কাজু ও পেস্তাবাদামের আত্মীয়, কেননা এরা সবাই ড্রুপজাতীয় ফল।

• বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছে আমগাছ একটি পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত। কেননা গৌতম বুদ্ধ তাঁর সন্ন্যাসীদের সঙ্গে আমগাছের নিচেই ধ্যানমগ্ন থাকতেন।
• ওজন অনুসারে একটি পাকা আমে ১৪ শতাংশ চিনি এবং ০.৫% অ্যাসিড রয়েছে, একত্রে যার মোট অনুপাত ২৮।

• চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বাংলাদেশের আমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করান।
• রাজশাহীর বাঘার মসজিদে রয়েছে আমের টেরাকোটা ফলক।
• দেবী অম্বিকা একটি আমগাছের নিচে বসা। এটা পাথর খোদাই করে করা হয়েছে ইলোরার ৩৪ নম্বর গুহায়।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম ও উইকিপিডিয়া,