ড. রিদোয়ানুল হক মনে করেন, করোনায় যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। দেশে ৯ থেকে সাড়ে ৯ কোটি লোক স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক মহামারিকালে স্কাইপে ক্লাস নিয়েছেন। তাঁর ছাত্ররাও প্রায় সবাই স্মার্টফোনে ক্লাস করেন। স্মার্টফোনের ওপর এই নির্ভরতার অনুশীলন যদি মহামারিকালের আগে থেকেই শুরু হতো, তাহলে মহামারিকালে বাধ্যতামূলক স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ অসুবিধায় পড়তে হতো না ব্যবহারকারীদের। ছাত্ররা স্মার্টফোনে কোডিং, পাইথনের মতো ভাষা শিখছেন। স্মার্টফোনে অনলাইনে শপিং করছেন। ওটিটি প্লাটফর্মের নানা কনটেন্ট উপভোগ করছেন। স্মার্টফোন কেবল শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। সেই যাত্রাটা হবে চ্যালেঞ্জের আর উচ্ছ্বাসের।

default-image

বছরে বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি মুঠোফোন বিক্রি হয়। এর মধ্যে মহামারি শুরুর আগে স্মার্টফোন (ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায় এমন ফোন) বিক্রির হার ছিল ৩০ শতাংশের কম। ভারতে এই হার ৫১ ও পাকিস্তানে ৫২ শতাংশ। তাই স্মার্টফোনের বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে, এ কথা বলাই যায়। ডিজিটাল যে ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, সেখানে এখনো স্মার্টফোনের ব্যবহারের অনেক স্কোপ রয়েছে।

আশিকুর রহমান জানান, তরুণদের কাছে স্মার্টফোন লাইফ পার্টনারের মতো। স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও তরুণদের মধ্যে বেশি। শহর–গ্রামনির্বিশেষে তরুণেরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি সেবা নেন। সব তরুণ একই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন, এটা স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সত্যি। তরুণেরা অন্যদের তুলনায় খুব দ্রুত স্মার্টফোনের ব্যবহার শিখে ফেলেন।

মুনির হাসান যোগ করেন, তিনি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী স্মার্টফোন–সম্পর্কিত যেকোনো কিছু তাঁর তরুণ ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করেন।

এ ক্ষেত্রে পল্লব মোহাইমেন যোগ করেন, শহরের তুলনায় গ্রামে ইন্টারনেটের দাম বেশি ও গতি কম। যদিও তিন বছর ধরে দেশেই মুঠোফোন তৈরি হওয়ায় দাম অনেকটা কমে এসেছে। বিষয়টা আমলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্যামসাং যখন বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি দিল, তখন সরকার একটা দুর্দান্ত পলিসি দিল যে সেখানে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকবে।

default-image

বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বাজার সাড়ে তিন কোটি। পৃথিবীর অনেক দেশেই এত জনসংখ্যা নেই। এটা একটা বড় শক্তি। বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের ভোক্তা ২৫০ কোটি। আমরা যদি নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিশ্ববাজারের ১০ শতাংশ চাহিদাও পূরণ করি, তবে আমাদের দেশেই আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ২৫ কোটি ফোন বানাতে পারব। আর লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে যাবে। তাই স্মার্টফোনের আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে এর দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিয়েতনামে কেবল স্যামসাংয়ের ফ্যাক্টরি জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মোবাইলের ফ্যাক্টরি গ্রে মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত। তারা সরকারকে কোনো রকম ভ্যাট–ট্যাক্স দেয় না। বিটিআরসিকে মোবাইলের বিশেষ নম্বরগুলো জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করাচ্ছে না। ফলে সরকার প্রতিবছর দুই হাজার কোটি টাকার শুল্ক হারাচ্ছে। এতে তারা কম দামে স্মার্টফোন সেট বিক্রি করছে। এভাবে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। মানুষ কম দামের ফোনটাই কিনছে। আর মার্কেটটা ঠিকমতো দাঁড়াচ্ছে না। বিটিআরসি যেগুলো অ্যাপ্রুভ করেনি, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আর ফোন কেনার পর সেটা এনইআইআর রেজিস্ট্রেশন করা উচিত। এতে ফোন চুরি গেলে সেটি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। টেকনো, স্যামসাং, শাওমি, যারা বাংলাদেশে অফিশিয়ালি ফোন বিক্রি করে, তাদের ইতিমধ্যে আইএমইআর নম্বর রেজিস্ট্রেশন করা থাকে।

default-image

গ্রে মার্কেট কখনোই বন্ধ হয়নি, হওয়ার সম্ভাবনাও কম। প্রোপার চ্যানেলে স্মার্টফোন কেনা উচিত। গ্রামের অভিভাবকেরা সন্তানকে ফোন দিতে চান না। কিন্তু ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে স্মার্টফোন জরুরি। সেই দোমনাকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, এর উত্তরে ড. রিদোয়ানুল হক জানান, মা–বাবা এখন অনলাইন ক্লাস ব্যাপারটা বোঝেন। আর সেটাকে গুরুত্ব দেন। শিক্ষকেরাও প্যারেন্টস ডে–তে বাবা–মায়ের সঙ্গে অনলাইনেই সাক্ষাৎ করেন। তবে এর নেতিবাচক ব্যবহার মনিটরিং করতে হবে।

স্মার্টফোন কেনার সময় কীভাবে স্মার্ট হতে হবে, এর উত্তরে আশিকুর রহমান বলেন, নিজের জন্য সেরা যেটা, সেটা না ঠকে কিনতে হবে। নারীদের টপ প্রায়োরিটি থাকে ক্যামেরা আর ডিজাইন। অন্যদিকে তরুণ ছেলেদের ফোন কেনার ক্ষেত্রে একটা ভালো প্রসেসর লাগবেই। অনেকেই দামের ভেতর কিছু অপশন দেখে কয়েকটা পছন্দ করেন। তারপর ইউটিউবে ফিডব্যাক বা রিভিউ দেখে কেনেন।

কেনাকাটা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন