বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উন্নত ডিজাইন ও ডিসপ্লের সমন্বয়

default-image

ডিভাইস দুটিই প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন। দুটি ডিভাইসই ফোল্ডেবল ব্যবহারকারীদের জন্য চমৎকার কারিগরি ও ফ্ল্যাগশিপ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে বা হুট করে পানি পড়ে মোবাইল ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে মোবাইল দুটিতেই রয়েছে আইপিএক্সএইট ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স প্রযুক্তি। অর্থাৎ ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানিতে ডুবলেও মোবাইল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

এ ছাড়া গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী আর্মর অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা এ দুই ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে। স্ক্র্যাচেবল পিইটি দ্বারা তৈরি নতুন প্রটেক্টিভ ফিল্ম ও অপটিমাইজড ডিসপ্লে প্যানেল স্তর মোবাইল দুটির মূল স্ক্রিনকে আগের ডিভাইসগুলোর চেয়ে ৮০ শতাংশ বেশি টেকসই করে তুলবে। ব্যুরো ভেরিটাসের দুই লাখবার ফোল্ডিং করার টেস্টের মাধ্যমে ডিভাইস দুটি তাদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে।

গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩ মোবাইলটি ব্যবহারকারীদের অত্যাধুনিক ট্যাব ও দুর্দান্ত ফিচারের ডিভাইসের সমন্বয়।

ট্যাব সাইজের ডিভাইস ভাঁজ করে পকেটে নিয়ে স্বচ্ছন্দে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে ৭.৬ ইঞ্চির ইনফিনিটি ফ্লেক্স ডিসপ্লে–সমৃদ্ধ গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩ ডিভাইসে। নিজের ইচ্ছেমতো ভাঁজ খুলে ও বন্ধ করে অত্যাধুনিক ট্যাব ও দুর্দান্ত ফিচারের সমন্বয় উপভোগের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। দুটো স্ক্রিন ভাঁজ করে রাখলেও আকারে যথেষ্ট চিকন করে তৈরি করা হয়েছে। এর ইকো২ ডিসপ্লে প্রযুক্তি কম এনার্জিতে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ব্রাইটনেস প্রদান করে। স্মুথ ও দ্রুত স্ক্রল অভিজ্ঞতার জন্য এ ফোনের মূল স্ক্রিন ও কভার স্ক্রিন দুটোতেই রয়েছে ১২০ হার্জ অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট।

ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩ মোবাইলটি স্যামসাংয়ের জি সিরিজের প্রথম ডিভাইস, যেটি ‘এস পেন’ সাপোর্ট করে। এ সিরিজের মোবাইলগুলোর জন্য স্যামসাং বিশেষ ‘ফোল্ড এডিশন’ এস পেন তৈরি করেছে। মাল্টিটাস্কিং সুবিধাসমৃদ্ধ এ ডিভাইসে ‘এস পেন’ ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করা যাবে। ভিডিও কল ও মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ডিভাইসটি অর্ধেক ভাঁজ করে ল্যাপটপের মতো চমৎকারভাবে ব্যবহার করা যাবে। ঝকঝকে, আগের চেয়ে চিকন ও স্টাইলিশ ডিজাইনের এ ডিভাইসগুলো পাওয়া যাবে ফ্যান্টম ব্ল্যাক ও ফ্যান্টম গ্রিন কালারে।

অন্যদিকে গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ৩ ডিভাইসটি স্যামসাংয়ের আগের বাটন ফ্লিপ ফোনগুলোর আদলে স্মার্টফোন আকারে তৈরি করা হয়েছে। এ ডিভাইস ব্যবহারে নস্টালজিক একটি অনুভূতি পাওয়া যায়। বোল্ড কালার অপশন, স্লিক ডিজাইন ও প্রিমিয়ার ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি এ মোবাইল পাওয়া যাবে ক্রিম, গ্রিন ও ফ্যান্টম ব্ল্যাকের মতো চমৎকার সব কালারে। এর কভার স্ক্রিন আগের চেয়ে ৪ গুণ বড়, ফলে ভাঁজ করা অবস্থায় খুব সহজে স্ক্রিনে নোটিফিকেশন, মেসেজ, আবহাওয়া ইত্যাদি দেখা যাবে এবং গান শোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ভাঁজ করা অবস্থায় কল এলে ভাঁজ না খুলে কভার স্ক্রিনে স্পর্শ করেই কথা বলা যাবে।

এ ছাড়া ফোল্ডিং করা অবস্থাতেই কভার স্ক্রিনে ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি তোলা ও ভিডিও করা যাবে। এর স্ক্রিন ৬.৭ ইঞ্চি, কিন্তু ডিভাইসটি অর্ধেক ভাঁজ করে খুব স্বচ্ছন্দে পকেটে নিয়ে চলা যায়। এতে রয়েছে ১০৮০ পিক্সেল ওয়াইড ওলেড ডিসপ্লে, ফলে এটি আগের ধরনগুলোর চেয়ে দেবে আরও বেশি চমৎকার স্ক্রলিং অভিজ্ঞতা। এর মূল স্ক্রিনে রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ, তাই স্মুথ ব্যবহার করা যাবে। এর ৯:২২ অনুপাতের আকার অন্যান্য স্মার্টফোনের চেয়ে বড় হলেও আধুনিক স্মার্টফোনের মতোই কাজ করে।

পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি

default-image

অ্যান্ড্রয়েড–১১–সমৃদ্ধ দুটি ডিভাইসেই রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ প্রসেসর; ফলে এ ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস দুটিতে ব্যবহারকারীরা স্মুথ ও সাবলীল ব্যবহারের অনুভূতি পাবেন। ১২ জিবি র‍্যামসহ গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩ পাওয়া যাবে ২৫৬ জিবি স্টোরেজে এবং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ৩ হলো পাওয়া যাবে ৮জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজে। পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও র‍্যাম ডিভাইস দুটিকে স্বচ্ছন্দে ব্যবহারযোগ্য করে তুলেছে।

গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩–এ আছে ৪৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি এবং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ৩–এ আছে ৩৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি। গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩ মোবাইলটি ২৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে এবং এর ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জিং ১১ ওয়াট ও রিভার্স ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জিং ৪.৫ ওয়াট। অন্যদিকে স্যামসাং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ৩ ফোন ১৫ ওয়াট পর্যন্ত ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে।

ফ্ল্যাগশিপ ফোল্ডিং হ্যান্ডসেটের জগতে ইতিহাস তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, এমন দুর্দান্ত চিপসেট ও ফিচারের এ ডিভাইস দুটি সংযোজনের মাধ্যমে ফোল্ডিং ডিভাইসের বিকাশে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে, যা তাদের বাজারে শীর্ষস্থানীয় করে রাখতে সহায়তা করবে।

ক্যামেরা ও অন্যান্য

default-image

স্যামসাং গ্যালাক্সি জি ফোল্ড৩–এ আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরার সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যাবে না যে এখানে ক্যামেরা আছে। আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরাটি ৪ মেগাপিক্সেল। এর মূল ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল, যা দিয়ে দুর্দান্ত ছবি তোলা যাবে। এ ছাড়া বিস্তৃত আকারে স্পষ্ট ও নিখুঁত ছবি তুলতে মূল ক্যামেরার সঙ্গে আরও আছে ১২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো ও ১২ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। সঙ্গে আছে প্যানারোমা, এইচডিআর ও এলইডি লাইট ফিচার। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরার সঙ্গে আছে ১০ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে আপলোড দেওয়ার জন্য চমৎকার ছবি তোলা যাবে এতে।

অন্যদিকে স্যামসাং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ৩–এ আছে ১২ মেগাপিক্সেল স্ট্যান্ডার্ড ওয়াইড ক্যামেরা ও ১২ মেগা পিক্সেল আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। এ ছাড়া সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরার সঙ্গে আছে ১০ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ভাঁজ করা ও ভাঁজ খোলা, উভয় অবস্থাতেই এ ফোনে ছবি তোলা ও ভিডিও করা যাবে।
সর্বোপরি, উদ্ভাবনী মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং বরাবরই বিশ্ববাজারে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়ে আসছে। ফোল্ডিং মোবাইল খাতে তাদের ধারাবাহিক পণ্য উৎপাদন ইতিমধ্যে তাদের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে পৌছে দিয়েছে।

গ্যালক্সি জি ফোল্ডিং৩ ও গ্যালক্সি জি ফ্লিপ৩ বাজারে আনার মধ্য দিয়ে এ খাতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, ভিন্নধর্মী গঠন, নতুনত্ব—সবকিছু মিলিয়ে স্মার্ট ও রুচিশীল ব্যবহারকারীদের জন্য পছন্দসই ও মানানসই ডিভাইস হতে পারে এ স্মার্টফোন দুটি। আগ্রহীরা কিনতে চাইলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে স্যামসাংয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ অথবা samsung.com ভিজিট করুন।

কেনাকাটা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন