বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শাহনেওয়াজ ভুইয়ার জন্ম ১৯০৩ সালে নান্দাইলে। বাবা ছাবিদ আলী ভুইয়া। সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯২৪ সালে নান্দাইল থানা কংগ্রেসের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পরে যুক্তফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা থানা সভাপতি এবং ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগের থানা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও শহীদ শাহনেওয়াজ ভুইয়া ছিলেন এ অঞ্চলের পরিচিত মুখ।

শাহনেওয়াজ ভুইয়া তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছিলেন যুদ্ধে যেতে। তাঁর ছেলে গাজী আবদুস সালাম ভুইয়াও (বীর প্রতীক, সদ্য প্রয়াত) সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে পাকিস্তানি হানাদার সেনা ও রাজাকাররা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। একাধিকবার তাঁকে স্থানীয় সেনাঘাঁটিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শাহনেওয়াজ রাজি হননি।

একাত্তরের ১৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানাসহ নান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় মুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেন। সেদিন ছিল পবিত্র শবে বরাত। মুক্তিযোদ্ধারা নান্দাইলকে শত্রুমুক্ত করার অভিযান চালান।

একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে তাঁরা নান্দাইল থানা আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের এই অভিযানের কথা শাহনেওয়াজ ভুইয়া আগে থেকেই জানতেন। উৎসাহিত হয়ে তিনি ওই দিন নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। সম্মুখযুদ্ধের একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার সেনাদের ভারী অস্ত্রের গেলাগুলির মুখে পিছু হটতে থাকেন। ইলিয়াস উদ্দিন ও শামছুল হক নামের দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এদিকে শাহনেওয়াজ ভুইয়ার বাড়িতে অবস্থানের খবর জেনে ফেলে রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটার পর সশস্ত্র রাজাকাররা সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। তিনি রোজা রেখেছিলেন। সবে ইফতারে বসেছেন। সেই অবস্থা থেকে খুনির দল তাঁকে ধরে নিয়ে বাড়ির সামনেই গুলি করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। পরে বাড়ির সামনেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়। প্রতিবছর ১৭ নভেম্বর তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম।

গ্রন্থনা: রমেশ কুমার পার্থ, নান্দাইল।

শহীদ বুদ্ধিজীবী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন