গণমাধ্যম সরকারের আয়না হিসেবে ভূমিকা রাখছে

প্রচারমাধ্যম সরকারের আয়না হিসেবে ভূমিকা রাখছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ মন্তব্য করে বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের প্রতি প্রায় নিরানব্বই ভাগ সন্তুষ্ট। গণমাধ্যম যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটাই স্বাভাবিক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে সম্পাদকেরা সরকারের কাছে গণমাধ্যমের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে প্রচারমাধ্যমের সহযোগিতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে এই সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়াতেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আরও বেশি মতবিনিময় করা হবে।সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘সরকারের এক বছর পূর্তি হতে চলেছে। এই সময়ের মূল্যায়ন আমরা নিজেরা যেভাবে করছি, গণমাধ্যমগুলোও করবে।’ বেসরকারি চ্যানেলগুলোর টক শো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় টক শোগুলোতে একই মতামত বেশি করে প্রচার করা হচ্ছে। কোনো কোনো চ্যানেলে সরকারের মতামতের সুযোগ রাখা হয় না। যেকোনো অভিযোগের জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট টু রিপ্লাই) থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।সৈয়দ আশরাফের এই মতামতের জবাবে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, অনেক সময় সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের অনুষ্ঠানে আনতে চাইলেও পাওয়া যায় না। কথা দিয়েও অনেকে আসতে পারেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন সৈয়দ আশরাফ।দেশের বিভিন্ন স্থানে টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের যে সংবাদগুলো প্রচারিত হচ্ছে, তা সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম থেকে এসব বিষয়ে আমরা জানতে পারি, ব্যবস্থা নিতে পারি।’ বিরোধী দল সংসদে না যাওয়ায় সংবাদমাধ্যম বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সমকাল-এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ার সরকারি দলের কিছু লোকের অসহিষ্ণুতার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর পটুয়াখালীর গলাচিপা ও চুয়াডাঙ্গার সাংসদের হামলা-মামলার কথা উল্লেখ করেন। জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা ও গলাচিপার ব্যাপারে দুজন সম্পাদকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি ওই দুই এলাকার সাংসদদের ডেকে কথা বলেছি। কিছু শর্ত দিয়েছি। তবে গলাচিপার সাংসদ কথা রাখেননি। আমরা তাঁদের এই আচরণের প্রতি খেয়াল রাখছি।’সম্পাদকদের সঙ্গে খোলামেলা এ আলোচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উদ্যোগ, করণীয় গুরুত্ব পায়। ১০টি নতুন চ্যানেল অনুমোদন কোন নীতিমালায় দেওয়া হলো, কারা এগুলো পেলেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদপ্রধানেরা। সম্প্রচার নীতিমালার নামে টক শো ও টিভি চ্যানেলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে কি না, সে আশঙ্কার কথাও বলেন তাঁরা।তথ্যমন্ত্রী শুরুতে বলেন, গণমাধ্যম অতীতে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সামনেও রাখবে। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা ও খারাপ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।সভায় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক রাহাত খান, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর মাহাবুব আলম, সমকাল-এর গোলাম সারওয়ার, নিউজ টুডে-এর রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টার-এর মাহফুজ আনাম, নিউ এজ-এর নূরুল কবীর, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, মানবজমিন-এর মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের সময়-এর নাঈমুল ইসলাম খান, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও পরিচালক, বার্তা শাইখ সিরাজ, ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা সাইফুল বারী প্রমুখ। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যসচিব কামাল আবু নাসের চৌধুরী ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।