গুলিস্তানে বিস্ফোরণ, আ.লীগের নেতাসহ চারজন আহত

রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণে আওয়ামী লীগের দুজন নেতাসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম (৪৩), বাগেরহাটের কচুয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসিরউদ্দিন (৪৪), পথচারী কার্তিক দাস (৩৬) ও আবদুর রশীদ (৩৮)। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘আহতদের জখমের স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া কাচের টুকরো দেখে মনে হয়, কাচের বোতলের মধ্যে বিস্ফোরক ছিল। এটির বিস্ফোরণ ঘটেছে।’ প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর দুইটার দিকে গোলাপ শাহ মাজারসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের সামনের রাস্তায় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে চারজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।প্রত্যক্ষদর্শী আমিরুল কবির জানান, ব্যস্ততম সড়কে আচমকা বিস্ফোরণে লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। এ সময় চারজনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের একজন রক্তাক্ত ছিলেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ককটেলের আঘাতে নজরুলের ডান কাঁধ, নাসিরউদ্দিনের কানের ডান পাশ, কার্তিক দাসের বুকের নিচে এবং রশীদের ডান হাত পুড়ে যায়। অস্ত্রোপচার কক্ষের চিকিত্সক মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তিদের জখম হওয়া স্থান থেকে কাচের টুকরো পাওয়া গেছে।আহত নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এক আত্মীয়কে দেখে তিনি ও নাসিরউদ্দিন রিকশায় গোলাপ শাহ মাজারের কাছে নামেন। সেখান থেকে তাঁরা বাগেরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ মীর শওকত আলীর সঙ্গে দেখা করার জন্য যাচ্ছিলেন। হেঁটে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে তাঁরা দুজনই পড়ে যান। পরে দেখতে পান, তাঁদের শরীর ঝলসে গেছে। কোথা থেকে, কারা বিস্ফোরক ছুড়েছে তা তাঁরা দেখেননি। হামলার কারণ সম্পর্কেও তাঁরা কিছু জানেন না। পথচারী কার্তিক দাস বলেন, তিনি জুতা মেরামত করেন। তিনি বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় বিস্ফোরণ ঘটে। সাংসদ মীর শওকত আলী হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তাঁর পরিচিত নজরুল ও নাসিরউদ্দিন রাস্তায় পড়ে আছেন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার বিষয়ে তিনি কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানান। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে কোনো আলামত পায়নি। রমনা বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার আতিকুল ইসলাম বলেন, কারা, কেন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা শনাক্ত করা যায়নি।