তৈরি পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে

পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মদদদাতাদের খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মালিক, শ্রমিক, বহিরাগত—যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি লক্ষ করছি, পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে, কিন্তু আমরা কোনো অপশক্তির চক্রান্ত সফল হতে দেব না। পোশাকশিল্পে শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।’ প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের কল্যাণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো-২০০৯’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাকশিল্প মালিক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বিশেষ অতিথি ছিলেন।তিন দিনের এ প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি থাকবেন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকেরা আপনাদের জন্য তাদের শ্রম দিচ্ছে। অর্থ উত্পাদনে আপনাদের সহায়তা দিচ্ছে। তাদের জন্যও আপনারা কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিন। কারখানা ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। তারা ভালো থাকলে আপনারাও ভালো থাকবেন।’শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএর রেশনব্যবস্থা চালুর প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সব কারখানার মালিকদের প্রতি তা চালুর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গত দুই বছর পোশাকশিল্পের মালিকেরাও নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত ২৭০টি রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনঃ তফসিলীকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।দক্ষতা বাড়াতে আরও শ্রমিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন এবং বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।আবুল মাল আবদুল মুহিত পোশাকশিল্পের মালিকদের স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পোশাকশিল্প খাতে কর সবচেয়ে কম। কোনো শুল্ক নেই, করপোরেট ট্যাক্সও নেই। আরও অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। করব্যবস্থায় আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে অন্যান্য নীতি-সহায়তা দেওয়া হবে।সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নারীর ক্ষমতায়নে পোশাকশিল্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, পোশাকশিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ৪০ লাখ নারীর কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আর দেশের ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থানে নারীরা ক্ষমতায়ন হবেন।আব্দুস সালাম মুর্শেদী তৈরি পোশাকশিল্প খাতের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী।প্রদর্শনী কাল শনিবার পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মেলায় ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৬২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে স্টল রয়েছে ৮৬টি।