রুটি-রুজির প্রশ্নেই ‘সিপাহি বিদ্রোহ’

ইতিহাসের কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়ের মধ্যে পঁচাত্তরের নভেম্বর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অবমুক্ত করা ওই সময়ের কিছু গোপন দলিল ও নথিপত্রের ভিত্তিতে তৈরি ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুর্থ কিস্তি আজমূলত রুটি-রুজির প্রশ্নেই পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ ঘটেছিল। এতে বাঙালির মনোবল ভেঙে যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবমুক্ত করা গোপন দলিলে এভাবেই ওই ঘটনার মূল্যায়ন করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার। মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান ছিলেন আরভিং জি. চেসল। তিনিও বিষয়টি সেভাবেই দেখেছেন।বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। অথচ মার্কিন দলিল থেকে দেখা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরের ১১ ও ২৩ নভেম্বর দুটি বেতার ভাষণ দেন। এতে তিনি ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব বলে দাবি করেননি। বরং তিনি ওই দিন সেনাবাহিনীতে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির জন্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) দায়ী করেছিলেন।১১ নভেম্বর বোস্টার লিখেছেন, দূতাবাসের বাঙালি সহকারী কর্মকর্তা আজ প্রায় তিন ঘণ্টা সেনানিবাসে কাটান। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়, দৃশ্যত শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। বেশির ভাগ সৈনিক কাজে যোগ দিয়েছেন। কর্মকর্তারা উর্দি ও ব্যাজ পরেছেন। যেসব কর্মকর্তা ও সিপাহির সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেন, গত তিন দিনে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি ঘটেছে। রাজনৈতিক সহকারী লক্ষ করেন, যা নিয়ে এত কাণ্ড, তার মূলে রয়েছে রুটি-রুজির (ব্রেড অ্যান্ড বাটার) প্রশ্ন। এর সুরাহা কীভাবে সম্ভব, তা ভেবে কর্মকর্তারা বিভক্ত। তবে এ লক্ষ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন আছে। তাঁর সূত্রগুলো বলেছে, কিছু সমস্যা দূর করতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তা ও সিপাহিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উভয়ের মধ্যে এই যে ব্যবধান, সেটাকেই পুঁজি করতে চেয়েছে জাসদ, যার ফলাফল ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে।রাজনৈতিক সহকারী যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা তাঁদের এই ধারণা দিয়েছেন যে জাসদের কর্মীরা সংখ্যায় কম হলেও তাঁরা সিপাহিদের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। কারণ সেনা কর্মকর্তারা তিন বছর ধরে নিজেদের লোকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।১১ নভেম্বর বোস্টার আরও লিখেছেন, সেনানিবাসের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কর্মকর্তারা সুবেদার মেজর, হাবিলদার প্রভৃতির সঙ্গে জুনিয়র কমিশন অফিসার (জেসিও) ও নন-কমিশন অফিসারদের (এনসিও) ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কর্মকর্তারা তাঁদের বোঝান, ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বরের ঘটনায় সিপাহিরা যেহেতু শুধু কমিশন অফিসারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এবার তারা জেসিও ও এনসিওদের টার্গেট করেছে। আজ (১১ নভেম্বর) জেসিও ও এনসিওদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিকল্পনা করেন, তাঁরা বিশৃঙ্খলার অবসানে তাঁদের লোকদের রাজি করাবেন। আমাদের এ কথাও বলা হয়েছে যে ‘বিনা অনুমতিতে’ যেসব লোক তাদের সীমা অতিক্রম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সেনানিবাসে অভিযান সহজ হবে। এবং এটা জাসদের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও পরিচালিত হবে। এদিকে সামরিক যানগুলো নগরে টহল দিয়েছে। দূতাবাসের এক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ করেন, একজন কর্মকর্তা রাস্তায় একজন সিপাহিকে দেখতে পেয়ে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছেন। রাজনীতিক নন, সৈনিক: আজ সকাল ছয়টা (১১ নভেম্বর) পর্যন্ত সংখ্যাগত বিচারে ৮০ শতাংশ অস্ত্র জমা পড়েছে। হয়তো দিনশেষে আরেকটু বাড়তে পারে। ডিসিএমএলএ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় বেতারে দেওয়া ভাষণে ‘জনগণের ঐক্য’ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ঐক্য এবং জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে সম্প্রীতির আহ্বান জানান। বোস্টার এ বিষয়ে ১২ নভেম্বর বিশ্লেষণ পাঠান। জিয়া তাঁর ভাষণে বলেন, তিনি একজন সৈনিক, রাজনীতিক নন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সামরিক আইন তুলে নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর ভাষায়, এ সরকার ‘সম্পূর্ণরূপে নির্দলীয় ও অরাজনৈতিক। যারা তাঁর নামে প্রচারণা চালায়, তাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন। জিয়া তাঁর এ ভাষণে জাসদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। ‘আমরা রাজনীতিক নই’—জিয়ার এ উক্তি সম্পর্কে বোস্টারের মন্তব্য, এ কথা তিনি জাসদকে উদ্দেশ করেই বলেন এবং নির্দিষ্টভাবে ‘যারা সামরিক বাহিনীকে বিভক্ত করতে চায়’ বলে জাসদকেই সতর্ক করে দেন।সবচেয়ে মর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব: ৭ নভেম্বর যে কোনোভাবেই তথাকথিত ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হয়নি, সে বিতর্ক তখন ওঠেনি। কিন্তু বোস্টার জিয়ার ভাষণসহ অন্য যেসব বিষয় বিশ্লেষণ করেন, তাতে তিনি বা মার্কিন দূতাবাসের অন্য কারও প্রতিবেদনে ৭ নভেম্বরের ঘটনার সঙ্গে জনতার কোনো সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করা হয়নি। বোষ্টার তাঁর ওই তারবার্তার তৃতীয় অনুচ্ছেদে লিখেছেন, ‘৭ নভেম্বরে সিপাহিদের বঞ্চনার তীব্র বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। তাদের ওই বঞ্চনাই তাতে বস্তুগত অবদান রাখে।’ বোস্টার তাই লিখেছেন, সেদিকে লক্ষ রেখে জিয়া তাঁর বেতার ভাষণে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীতে তাঁর সহকর্মীদের’ প্রাথমিক কাজ হলো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা ও তাঁদের কল্যাণের দিকে নজর দেওয়া।’ জিয়া পরোক্ষভাবে এ জন্য মুজিব সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘তাদের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা স্বাধীনতা অর্জন থেকে যে সরকার দেশ শাসন করেছে, তাদের অবহেলার ফল। এই অবহেলার প্রতিকারের জন্য তিনি অঙ্গীকার করেন। বোস্টারের মূল্যায়ন, ‘ওই মুহূর্তে জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব।’ এখানে মনে রাখতে হবে, ওই সময় জিয়া ধারণা দিচ্ছিলেন, তিনি রাজনীতিক নন, সৈনিক। নির্বাচন দিয়ে দ্রুত ব্যারাকে যাবেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, তিনি তাঁর কথা রাখেননি।নগরে টহল যে কারণে: তবে যেটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হলো, শুধু ৭ নভেম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে অর্ধশতাধিক তারবার্তার কোথাও সিপাহি-জনতার বিপ্লব বলে ৭ নভেম্বরকে ছিটেফোঁটাও মহিমান্বিত করা হয়নি। ৭ নভেম্বরের পরে জিয়া প্রথম ১১ নভেম্বর রাতে বেতার ভাষণ দেন। জিয়া তাঁর ভাষণের কোথাও ‘সিপাহি-জনতার’ বিপ্লব দূরে থাকুক, এমনকি সিপাহি বিপ্লব বলেও দাবি করেননি। বোস্টার ওই তারবার্তায় লিখেছেন, ‘জিয়া ওই সময় জনগণের আস্থা পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হন। আজ ১২ নভেম্বরেও নগরে সাঁজোয়া যান টহল দিয়েছে। এর অর্থ হলো, জিয়া নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, চূড়ান্ত কর্তৃত্বটা এখন সামরিক বাহিনীর হাতে। যদিও খোদ সেনাবাহিনীতেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটা এখনো প্রক্রিয়াধীন।’জিয়া এর ১২ দিন পর বেতারে দ্বিতীয় ভাষণ দেন। ওই সময় বোস্টার হয়তো ছুটিতে ছিলেন। সে কারণে ওই ভাষণের তাত্পর্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তারবার্তা পাঠান মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) চেসল। তিনি ২৪ নভেম্বর লিখেছেন, ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যে ভাষণ দেন, তাতে তাঁর প্রথম বেতার ভাষণই প্রতিধ্বনিত হয়। এতে তিনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন ধরন, সেনাবাহিনীর অরাজনৈতিক প্রকৃতি এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।চেসল মন্তব্য করেন, জিয়ার এদিনের ভাষণের মূল আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল জাসদ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে অজ্ঞাতনামা সূত্রে প্রকাশিত এমন অনেক লিফলেট পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে জাসদের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মকভাবে সামরিক আইন প্রশাসন এবং নির্বাচন বিষয়ে বক্তব্য রাখা হয়েছে। সিপাহি বিদ্রোহ: বোস্টার ১১ নভেম্বরের তারবার্তায় জিয়ার প্রথম বেতার ভাষণ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, “সিপাহিদের মনে শৃঙ্খলা পুনরুজ্জীবন কেবল সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই প্রয়োজন ছিল না। বরং নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ অধিকাংশ বাঙালি মধ্যবিক্ত শ্রেণীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। এই আতঙ্ক দূর করতে ওই পুনরুজ্জীবন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” লক্ষণীয় যে, বোস্টার এখানে, ‘সিপাহি মিউটিনি’ বলেছেন এবং তাও উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে। অর্থাত্ ওটা সিপাহি মিউটিনি ছিল কি না, সে বিষয়েও হয়তো তাঁর দ্বন্দ্ব ছিল।১৯৭১—৭৫ পর্বের ঘটনাবলি বাঙালি মধ্যবিত্তের ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল, তার বিশ্লেষণ করেছেন বোস্টার। তাঁর কথায়, “পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর পরে মধ্যবিত্তকে এই আতঙ্কে পেয়ে বসেছিল যে, আরও ভয়ঙ্কর কিছু একটা হয়তো ঘটতে যাচ্ছে। কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি, শেখ মুজিবের শাসন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে তাঁদের মনোবল সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গিয়েছিল। এরপর ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ ছিল মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। আতঙ্ক তাঁদের গ্রাস করেছিল। আর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরাই সরকার ও ব্যবসায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ। যতক্ষণ না তাদের আস্থার পুনরুজ্জীবন ঘটে, ততক্ষণ বাংলাদেশের সামনে উন্নয়নের আশা সীমিত থাকতে বাধ্য।”মধ্যবিত্তের মনোবল চূর্ণ: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার ১৭ নভেম্বর ‘সিপাহি বিপ্লবের’ স্বরূপ অন্বেষণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারের কাছে সাত পৃষ্ঠার দীর্ঘ একটি তারবার্তা পাঠান। এর সারসংক্ষেপের সূচনায় বোস্টার বলেন, “মোশতাক আহমদের অপসারণ, সামরিক আইন প্রশাসনের উত্থান এবং সেই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে ‘বিদ্রোহ’ বাংলাদেশের বেসামরিক সরকারের কর্তৃত্বকে খাটো করে দিয়েছে।” লক্ষণীয়, বোস্টার এদিনও অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কারণ ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ মধ্যবিত্তের মনোবল চুরমার করেছে। আর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওই মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই উঠে এসেছেন।”এখানে লক্ষণীয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টার লিখেছেন, ‘৭ নভেম্বর জিয়া যেভাবে সিপাহিদের নিজের সমর্থনে চালিত করতে পেরেছিলেন, তাতে দৃশ্যপটে এখন তাঁরই কর্তৃত্ব প্রত্যাশিত।’ বোস্টার বিষয়টি এভাবে দেখলেও পঁচাত্তরে কর্নেল শাফায়াত জামিল জিয়াকে মূল্যায়ন করেছিলেন এভাবে: ‘৬ নভেম্বর রাত তিনটার দিকে জিয়া ফোন করলেন আমাকে। বললেন, এখন ক্ষমা ও ভুলে যাওয়ার সময়। আসুন, এখন সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করি। আমি রূঢ়ভাবেই বলি, আপনি সৈনিকদের দিয়ে বিদ্রোহ করিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। যা করার আপনি অফিসারদের দিয়ে করাতে পারতেন, সৈনিকদের নিয়ে কেন?’ (ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, সাহিত্য প্রকাশ, পৃ. ১৪৫, ১৯৯৮)বোস্টার লিখেছেন, এখন দৃশ্যপটে জিয়ার কর্তৃত্ব বাঞ্ছনীয় হলেও তিনি যে অন্যান্য বড় ইস্যুর দিকে স্বাধীনভাবে মনোযোগী হবেন, সে সুযোগ এখন যথেষ্ট সংকুচিত। কারণ অফিসারদের বিরুদ্ধে চালিত ‘সিপাহি বিদ্রোহের’ কারণে তা মারাত্মকভাবে ম্লান হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেনা শৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠা না করা যাবে, ততক্ষণ সেনাবাহিনী একটি ‘অবিশ্বস্ত হাতিয়ার’ হিসেবেই গণ্য হবে।সুবর্ণ সুযোগ: বোস্টার ওই সময়ে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে ওই তারবার্তায় বলেন, বামপন্থীদের মধ্যে যাঁরা ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভয়ের চোখে দেখেন, তাঁদের পরোক্ষ সমর্থন পাচ্ছে বর্তমান সরকার। মওলানা ভাসানীর ন্যাপ কিংবা মোহাম্মদ তোহার সাম্যবাদী দল ও অন্যরা ‘সিপাহী বিদ্রোহ’কে একটা সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন। তাঁরা ভাবেন, এত বড় সুযোগ অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার বিষয়টিকে ধূর্ততার সঙ্গে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে জাসদের কাণ্ডকীর্তি সবচেয়ে নাটকীয় ও ভয়ঙ্কর ঘটনা।মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক। [email protected]