সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগ পরিস্থিতি খারাপ, কর্মসংস্থানও বাড়েনি

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাত্ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি খারাপ ছিল। এ সময় কর্মসংস্থান খুব বেশি না বাড়লেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। দেশের উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, বছরের শেষ প্রান্তিক অর্থাত্ অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালে মুনাফার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়বে।বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিবেশ তহবিলের (বিআইসিএফ) উদ্যোগে ‘ব্যবসায়িক আস্থা: জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের অভিজ্ঞতায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।জরিপের ফলাফল সম্পর্কে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা-পরবর্তীকালে সাধারণত বিনিয়োগ বাড়ে না। তবে এ সময় ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়তে পারে। এরপর ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং সবশেষে বাড়ে বিনিয়োগ।অন্যদিকে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম জরিপের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে। প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও কমেছে। এ অবস্থায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যবসায় মুনাফা ও বিনিয়োগ বাড়ার প্রশ্নই আসে না।গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিআইসিএফ ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিআইসিএফ ২০০৯ সালের ব্যবসায়িক জরিপের উল্লেখযোগ্য দিক: ব্যবসায়িক অনুভূতিতে প্রতিফলন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও বিআইসিএফের প্রধান জেমস ক্রিটলি। সমীক্ষাটি উপস্থাপন করেন বিআইসিএফের বিনিয়োগ নীতি কর্মকর্তা (আইপিও) আমিনুর রহমান।নির্ধারিত আলোচক ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আফতাব-উল ইসলাম, বিআইডিএসের মহাপরিচালক মুস্তাফা কামাল মুজেরি, নিউএজ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম কাসেম, আইসিবিবির ব্যাংকিংবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মামুন রশীদ, আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন খালেদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার।স্বাগত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য বেটার বিজনেস ফোরাম (বিবিবিএফ) ও নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা আরআরসিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান। এতে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসার উন্নয়নে বিশেষভাবে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া যানজট নিরসনে টঙ্গী থেকে এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ, ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রামের ছয় লেনের রাস্তা ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করে আমিনুর রহমান বলেন, দেশের সেবা খাত এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো উত্পাদনশীল খাত ও বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক সার্বিক কার্যক্রম সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তুলনায় খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীতে ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশব্যাপী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার কিছুটা মতভেদ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশে ব্যবসায়িক মুনাফা ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা মতামত দিয়েছেন।বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি পরিচালিত বিআইসিএফ ব্যবসায়-বাণিজ্যসংক্রান্ত সংস্কারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ৮০০ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে জরিপ পরিচালনা করেছে। বিআইসিএফ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে।