বিজ্ঞাপন

শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে প্রতিমা ঘোষের যখন বিয়ে হয়, তখন প্রতিমা ছিলেন রূপ-লাবণ্যে অদ্বিতীয়া। আর শঙ্খের অবস্থা ছিল হাড়–জিরজিরে, গায়ের রংও কালো। এ নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে একটা অসন্তোষ ছিল। কিন্তু প্রতিমা ঘোষ তাঁকে খুব পছন্দ করতেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি যখন প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি গেলেন, সে সময় তাঁর শাশুড়ি তাঁকে খানিক মশকরার সুরে বললেন, ‘দেখো বাবা, একদিন আর এ রকম কালো থাকবে না, আমার মেয়ের সাথে থাকতে থাকতে দেখবে তার মতো কিছুটা ফরসা হয়ে গেছ।’ শঙ্খ ঘোষ খোঁচাটা বুঝলেন। অতঃপর মুচকি হেসে বললেন, ‘আমার সাথে থাকতে থাকতে যদি উল্টোটা হয়ে যায়! আপনার মেয়ে যদি কালো হয়ে যায়!’

পরবর্তী জীবনে শঙ্খ ঘোষের শরীর-স্বাস্থ্যের অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। বয়স হওয়ার পর প্রায়ই মজা করে বলতেন, ‘আমার হাত দেখে তো অনেকেই বলেছিল, আমার কপালে দুটি বিয়ে, কই? এখন তো মোটা হয়েছি, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের কোনো সম্ভাবনাই দেখছি না।’

একবার বইমেলায় তরুণ সঙ্গীদের নিয়ে ঘুরছিলেন শঙ্খ ঘোষ। তখন তাঁর এক সমালোচক বন্ধু এক তরুণীর কাঁধে হাত রেখে হাঁটছিলেন। প্রায়ই ওই ভদ্রলোক বিভিন্ন মেয়েবন্ধু নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। এ সময় শঙ্খবাবুর সঙ্গীরা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, নিত্যনতুন এত সুন্দরী বান্ধবী উনি জোটান কী করে?’

নিজের স্বভাবজাত নিচুকণ্ঠে শঙ্খ যা বললেন, তার মধ্যেও থইথই করছে তাঁর রসবোধ, ‘তা যদি আমি জানবই, তাহলে কি আর আমাকে তোমাদের মতো ছেলেদের সঙ্গে হেঁটে বেড়াতে হয়?’

সূত্র: সন্দীপন চক্রবর্তীর কিছু কি শিখলাম আমরা?

গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন