default-image

স্বদেশি আন্দোলন করার দায়ে লেখক শিবরাম চক্রবর্তী তখন পুলিশের নজরদারিতে। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর পিছু নিয়েছেন। তিনি যেখানে যান, পুলিশও সেখানেই যান। কিন্তু শিবরামের তো খাওয়াদাওয়া ছাড়া চলে না। ফলে ব্যাটা পুলিশ পড়লেন বিপদে। শিবরামের ওপর নজর রাখতে গিয়ে তাঁকেও প্রচুর খেতে হচ্ছে। তা–ও আবার ভাজাপোড়া। এদিকে শিবরাম বুঝে ফেলেছিলেন যে লোকটি পুলিশ কর্মকর্তা এবং তাঁর ওপর নজরদারি করছেন। তখন তিনি নিলেন অভিনব এক কৌশল। উল্টো খাতির জমিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে খাওয়া শুরু করলেন শিবরাম। এভাবেই চলতে থাকল তাঁদের ভূরিভোজ আর লুকোচুরি খেলা। কিন্তু এ রকম করে আর কত দিন! শেষে একদিন বাধ্য হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিবরামকে বলেই ফেললেন, ‘মশাই, আপনাকে ফলো করতে গিয়ে আমি তো মুটিয়ে গেছি।’ শিবরামও কম যান না। তিনি দিলেন রসাল এক জবাব, ‘কই! আমি তো নাতিদীর্ঘই রইলাম, আপনি হাতিদীর্ঘ হলেন কেন?’

শেষমেশ অবশ্য স্বদেশি আন্দোলন করার দায়ে জেলে যেতে হয়েছিল শিবরামকে। তবে শিবরামের জন্য তা ভালো বৈ মন্দ ছিল না। আটক করে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল বহরমপুর জেলে। সেখানে গিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। নজরুল যেমন ভালো পাচক ছিলেন, শিবরাম তেমনই ছিলেন মহাখাদক। নজরুলের হাতের খাবার খেয়েই নাকি তিনি মোটা হয়েছিলেন। নিজের কলমে শিবরাম লিখেছেন, ‘আহা! আমি তো বহরমপুর জেলে যাওয়ার আগপর্যন্ত টিঙটিঙে রোগা ছিলাম। তারপর দুই বেলা কাজীর (কাজী নজরুল ইসলাম) খানা খেয়ে এমন মোগলাই চেহারা নিয়ে বের হলাম যে আর রোগা হলাম না। জেলখানায় আর জেলের খানায় গড়া চেহারাটি এতটুকু টসকায়নি।’

সূত্র: শিবরাম চক্রবর্তীর বই ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা আনন্দবাজার পত্রিকা

গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন

বিজ্ঞাপন
অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন