একটি ব্যর্থ রাজ্য
জনপ্রিয় ও বিখ্যাত লেখক হারুকি মুরাকামির জন্ম জাপানের কিয়োটো শহরে, ১৯৪৯ সালের ১২ জানুয়ারি। মূলত উপন্যাস আর গল্পের মধ্য দিয়ে কল্পনার জাদু ছড়িয়ে সারা বিশ্বের পাঠকের মন জয় করে নিয়েছেন মুরাকামি। ‘দ্য কিংডম দ্যাট ফেইলড’ নামের গল্পটি ‘দ্য নিউইয়র্কার’-এর শিল্পসাহিত্য বিভাগে ফ্ল্যাশ-ফিকশন পাতায় প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের ১৩ আগস্ট। সপ্তাহ দুই আগে প্রকাশিত গল্পটি এখনো গ্রন্থভুক্ত হয়নি। এই গল্পে প্রধান চরিত্র আর তার বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, সময়ের পরিক্রমায় যে বন্ধুত্ব নিঃশেষ হয়ে গেছে। একটা বিশাল রাজ্য যেমন একটা সময়ে এসে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, বন্ধুত্বও তেমন একদিন ক্ষয়ে যেতে পারে। ‘একটি ব্যর্থ রাজ্য’ শিরোনামে ইংরেজি থেকে গল্পটির ভাষান্তর করেছেন ফারহানা আনন্দময়ী

ছোট্ট একটা মায়াবী নদী বয়ে যায় ব্যর্থ হয়ে যাওয়া রাজ্যটার পেছন দিয়ে। স্বচ্ছ জলের স্রোতোধারায় অনেক রঙের মাছ ভেসে বেড়ায়, সে নদীতে ছোট ছোট গুল্মলতাও জন্মায় আর মাছেদের আহার সেগুলো। ওদের ভাবনায় একবারও আসে না, রাজ্যটি জয়ী নাকি ব্যর্থ; সেটি রাজ্য নাকি রাষ্ট্র! ওরা তো ভোট দেয় না কিংবা কোনো করও দেয় না, তাই রাজ্য-রাষ্ট্রের পার্থক্যে সেই মাছেদের কিছু যায়-আসে না।

সেই নদীর জলে আমি পা ধুয়ে নিলাম আর নদীর বরফশীতল জল পায়ের যেটুকু ভেজাল, সেটুকু লাল রঙে রাঙিয়ে দিল। ঢেউয়ের মধ্যে সেই ব্যর্থ রাজ্যের প্রাসাদের মিনার আর দেয়ালগুলো দেখতে পাওয়া যায়। মিনারের মাথায় এখনো দুরঙা পতাকা বাতাসে উড়তে দেখা যায়। এই নদীর কিনার দিয়ে এখনো যারা যায়, তারা উড়ন্ত পতাকার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, দেখো, এ হলো সেই ব্যর্থ রাজ্যের নিশান!

কিউ আর আমি দুজনে বন্ধু; বরং বলা যায় আমরা বন্ধু ছিলাম। ছিলাম এ কারণেই বলছি, গত ১০ বছরে আমরা দুজন এমন কিছু করিনি, যা বন্ধুরা একসঙ্গে করে। তাই আমি অতীত টেনেই বললাম। যা হোক, আমরা দুজন বন্ধুই ছিলাম।

আমি যখনই কারও কাছে আমার বন্ধুর পরিচয় বলতে চাই একজন মানুষ হিসেবে, ততবারই অসহায় বোধ করি। এমনিতেই আমি কোনো কিছু ঠিকঠাক ব্যাখ্যা করতে পারি না; আর সেখানে ওর সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে সত্যিই আমি একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাই। এবং চেষ্টাটা যত বেশি করতে যাই, তখনই আরও সমস্যায় পড়ি। তার চেয়ে বরং সাদাসিধা উচ্চারণে তাকে পরিচিত করানো সহজ।

কিউ আর আমি সমবয়সী। তবে সে আমার চেয়ে দেখতে-শুনতে ৫৭০ গুণ বেশি সুদর্শন। দারুণ এক ব্যক্তিত্ব রয়েছে তার। কখনোই রেগে যেতে বা উদ্ধত হতে দেখিনি ওকে, এমনকি আকস্মিকভাবে কেউ যখন ওকে আঘাত করে বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তখনো না। কী নির্লিপ্ততা নিয়ে বলে, ‘ঠিক আছে, আমি হলেও হয়তো এমন আচরণই করতাম!’ কিন্তু আমি কখনো শুনিনি, ও কারও প্রতি মন্দ আচরণ করেছে।

ওর ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠাটাও খুব গোছাল, সুন্দর। ওর বাবা ছিলেন চিকিৎসক। তাঁর নিজের একটা চেম্বার ছিল শিকোকোতে। কিউকে কখনো পকেট খরচার জন্য আলাদা করে টাকাপয়সা চাইতে হয়নি, আবার এমনো নয়, ও খুব বিলাসিতা দেখিয়ে চলত! সে খুব আকর্ষণীয় ও অভিজাত পোশাক-আশাক পরত, স্কুলে খুব ভালো টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে নাম করেছিল। সপ্তাহে সে অন্তত দুদিন সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতেও যেত। এসবের বাইরে তার চিন্তা-চেতনায় এক উদার রাজনৈতিক মতাদর্শ কাজ করত। পড়ালেখায় খুব যে ভালো ছাত্র ছিল তা নয়, তবে মাঝামাঝি মানের ছিল। পরীক্ষার সময়ে তাকে কখনোই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত হতে দেখিনি, আবার কখনো পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে, এমনটাও হয়নি। শিক্ষকদের বক্তৃতা সে মনোযোগ দিয়ে শুনত, এটা দেখেছি।

বিজ্ঞাপন

পিয়ানো বাজানোতে ওর প্রতিভা আর দখল ছিল বিস্ময়কর। আর ওর কাছে ছিল বিল ইভান্স ও মোজার্টের বাজনার রেকর্ডের ঋদ্ধ সংগ্রহ। সে ফরাসি লেখকদের সাহিত্য পড়তে পছন্দ করত, বিশেষ করে বালজাক ও মোঁপাসা। মাঝেমধ্যে সে কেনজাবুরো বা অন্য কারও উপন্যাসও আগ্রহ নিয়ে পড়ত। পাঠের পরে এসব বিষয়ে তাঁর সমালোচনাও ছিল একেবারে সুনির্দিষ্ট।

নারীদের মধ্যে সে খুব জনপ্রিয় ছিল, এটা স্বাভাবিক স্বাভাবগতভাবেই। তবে এই জনপ্রিয়তাকে সে এমনভাবে জাহির করত না যে মন চাইলেই আমি যাকে খুশি হাতের নাগালে পেতে পারি! ওর একজন বিশেষ নারী বন্ধু ছিল, সুন্দরী, অল্পবয়সী তরুণী ও শহরের নামকরা কলেজের ছাত্রী সে। প্রতি রোববারই ওরা দুজন বাইরে বেড়াতে যেত। যা হোক, এটাই হলো কলেজজীবনে আমার দেখা কিউ, যাকে এক কথায় ভালো চরিত্রের একজন মানুষ বলা যায়।

পেছনের ওই দিনগুলোতে আমরা পাশাপাশি দুটো বাসায় বাস করতাম; লবণদানি বা সালাদের ড্রেসিংয়ের জন্য কিছু টান পড়লে যখন-তখন দেওয়া-নেওয়া করা যায়, এমন পাশাপাশি ঘর যাকে বলে। কিছুদিন পর এমন হলো, দিনের বেশির ভাগ সময় আমরা একে অপরের ঘরে বসেই কাটাতাম, ওর রেকর্ডগুলো বাজিয়ে শুনতাম, বিয়ার খেতাম। একবার আমার মেয়ে বন্ধুসহ কিউয়ের বান্ধবীকে নিয়ে আমরা কামাকুরা সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়েছিলাম, মনে পড়ছে, খুব আনন্দও করেছিলাম আমরা সেই সময়টাতে। এরপরের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আমি ওখান থেকে চলে এলাম, তখন বোধ হয় আমি কলেজের শেষ পর্বের ছাত্র। কিউয়ের সঙ্গে সেই পর্বের সংযোগ এই পর্যন্তই।
এর পরেরবার যখন আমার সঙ্গে কিউয়ের দেখা হলো, তা প্রায় এক দশক পরে। আকালাস্কায় সুন্দর একটা হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে আমি বই পড়ছিলাম। আর এর খানিকটা দূরেই একটা ডেকচেয়ারে কিউ বসে ছিল, পাশে সাঁতারের পোশাকে খুব সুন্দরী একজন নারীও বসা ছিল।

আমি দূর থেকে দেখেই নিশ্চিত হলাম, এটা কিউই। সেই আগের মতোই সুদর্শন আছে, বরং এই ত্রিশছোঁয়া বয়সে ওর চেহারায় একটা আভিজাত্যের ছাপ পড়েছে। সেই তরুণীটি ওর পাশে হেঁটে যেতে যেতে ওর দিকেই তাকাচ্ছিল বারবার।
কিউ কিন্তু ওখানে বসে আমাকে খেয়াল করেনি। না করাই স্বাভাবিক, আমিও এমন কিছু আকর্ষণীয় নই, চোখে পড়ার মতো; তার ওপর আমার চোখে রোদচশমা ছিল। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, এগিয়ে গিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলা উচিত হবে কি না! তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম, কথা বলব না। ওই তরুণীটির সঙ্গে ও গভীর আলাপে মগ্ন ছিল, এ রকম একটা সময়ে ওখানে গিয়ে ওদের বিরক্ত করতেও আগ্রহ হচ্ছিল না। আর আলাপ শুরু করার মতোও অনেক স্মৃতি আমাদের দুজনের ছিল না। ‘এই আমি তোমার লবণদানিটি ধার চেয়ে এনেছিলাম’ বা ‘মনে আছে, সালাদের ড্রেসিং শেষ হওয়াতে তোমার কাছে চাইতে গিয়েছিলাম।’... এ রকম কিছু হালকা কথাবার্তার পরে আলাপটা আর এগোবে না, বুঝতে পারলাম। তাই এগিয়ে গিয়ে কথা বলার চেয়ে, চুপচাপ বসে বইটা পড়তে থাকলাম।

নারীদের মধ্যে সে খুব জনপ্রিয় ছিল, এটা স্বাভাবিক স্বাভাবগতভাবেই। তবে এই জনপ্রিয়তাকে সে এমনভাবে জাহির করত না যে মন চাইলেই আমি যাকে খুশি হাতের নাগালে পেতে পারি! ওর একজন বিশেষ নারী বন্ধু ছিল, সুন্দরী, অল্পবয়সী তরুণী ও শহরের নামকরা কলেজের ছাত্রী সে। প্রতি রোববারই ওরা দুজন বাইরে বেড়াতে যেত। যা হোক, এটাই হলো কলেজজীবনে আমার দেখা কিউ, যাকে এক কথায় ভালো চরিত্রের একজন মানুষ বলা যায়।

কিন্তু কী হলো, খানিকটা দূরে বসেও ওদের দুজনের আলাপচারিতা শোনার লোভ সামলাতে পারলাম না। যদিও এটা করা উচিত নয়, তবে বুঝতে পারছিলাম একটা জটিল বিষয় নিয়ে ওরা কথা বলছে। এটা করা আমার ঠিক হচ্ছে না জেনেও, আমি বইপড়া বন্ধ রেখে তাদের কথা শোনার দিকেই মনোযোগ দিলাম।

‘না, এটা হতেই পারে না। তুমি নিশ্চয়ই মজা করছ!’ নারীটি বলল।
‘আমি জানি, আমি জানি তুমি কী বলতে চাইছ। কিন্তু আমার দিক থেকে একবার ভেবে দেখো। আমি এটা করছি না, কারণ এটা চাই আমি।’ কিউ বলল, ‘এটা ওপরের তলার যারা আছে, ওদের সিদ্ধান্ত; আমি শুধু সেটা তোমাকে জানালাম। আমার দিকে এভাবে তাকিয়ো না।’

নারীটি বলল, ‘ওহ! ঠিক বলেছ।’
কিউ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
ওদের কথোপকথন শুনে মোটামুটি যে ধারণা আমার হলো, তা হলো, কিউ একটা টিভি স্টেশন বা ও রকম কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আর নারীটি বেশ পরিচিতি পাওয়া একজন সংগীতশিল্পী বা অভিনেত্রী। কিউয়ের এখানে যে প্রকল্পে ওই নারী কাজ করছে সেখানে হয়তো কোনো সমস্যা বা স্ক্যান্ডালের ঘটনা ঘটেছে; এবং সেই কারণে সে কাজটি ছাড়তে চাইছে। আর কিউ খুব সম্ভব এখানে নারীটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, তাই ওকে বলেই সে কাজ ছাড়তে চাইছে। আমি যদিও এসব মিডিয়া জগতের সঙ্গে জড়িত নই, তাই খুব বেশি সূক্ষ্ম বিষয়ে কিছু জানি না; কিন্তু এমনো নয় যে এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না।

ওদের এ পর্যন্ত আলাপ শুনে এটুকু বোঝা গেল, এ রকম একটা সমস্যার মাঝখানে কিউ বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্বটা হস্তান্তর করতে চাইছে। ‘আমরা কোনো পৃষ্ঠপোষক ছাড়া কাজটি আর এগিয়ে নিতে পারব না। তুমি তো এই ব্যবসা ভালোই বোঝো।’ কিউ বলল।

‘তো, তুমি এখন বলছ এই বিষয়ে তোমার কোনো দায়িত্ব নেই, তোমার কিছুই বলার নেই?’ নারীটি জিজ্ঞাসা করল।
কিউ বলল, ‘না, আমি তা বলছি না। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু করার সাধ্য আমার খুবই সীমিত।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ওদের কথোপকথন ধীরে ধীরে একটা অন্ধগলির মুখে এসে যেন থেমে যেতে চাইছে, আটকে যাচ্ছে। নারীটি অধৈর্য হয়ে বুঝতে চাইল, কিউ তার পক্ষ হয়ে ঠিক কত দূর পর্যন্ত করতে পারে। কিউ তাকে প্রাণপণ বোঝাতে চাইল, তার পক্ষে যা করার সবটুকুই সে করেছে। এর প্রমাণ সে দেখাতে পারছে না, তাই হয়তো নারীটি সেটা বিশ্বাসও করতে চাইছে না। আমি নিজেও কিউকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। সে যতই নিজের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে চাইছে, ততই যে ধোঁয়াশার মতো সব ঢেকে যাচ্ছে। তবে এটা কিউয়ের দোষ নয়, কারোরই দোষ নয়। তাই আলাপচারিতা কোনো সমাধানেই পৌঁছাতে পারছে না।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, নারীটি কিউকে খুব পছন্দ করত, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দুজনের মাঝখানে এই ব্যবসা বিষয়টি না এসেছে। আর ব্যবসার এই জটিলতাই নারীটিকে ক্রুদ্ধ করেছে কিউয়ের প্রতি, যদিও এখনো ওই নারী তাকে ত্যাগ করেনি।
‘আচ্ছা। এটাই হওয়ার ছিল আমার সঙ্গে। যা হোক, একটা কোক খাওয়াতে পারো?’ নারীটি অন্যমনস্ক হয়ে বলল।

এটা শোনার পরে কিউ যেন একটু আশ্বস্ত হলো, সে এগিয়ে গেল পানীয়র স্ট্যান্ডের কাছে। নারীটি তখন ওর রোদচশমাটা চোখে পরে সোজা তাকিয়ে রইল। এই সময়ের মধ্যে আমি হাতের বইটির যে পাতাটি খোলা ছিল, সেই একই পাতায় যেন শতবার চোখ বুলিয়ে ফেলেছি।

কিছুক্ষণের মধ্যে বড় দুটো কাগজের কাপে পানীয় নিয়ে ফিরে এল কিউ। একটা কাপ নারীর দিকে এগিয়ে দিয়ে অন্যটি নিয়ে নিচু হয়ে বসল সে। বলল, ‘তুমি এটা নিয়ে এত বেশি বিষণ্ন হোয়ো না। যেকোনো দিন আবার তুমি...’

কিন্তু কিউয়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই নারীটি কোকাকোলা-ভর্তি ওর হাতের কাপ কিউয়ের মুখের দিকে ছুড়ে মারল। কিউয়ের পুরো মুখ কোকাকোলায় ভিজে গেল আর সামান্য অংশ আমার মুখেও এসে পড়ল। কোনো কথা না বলেই, আর এক মুহূর্ত নষ্ট না করে নারীটি উঠে দাঁড়িয়ে, বিকিনির পেছনটা টেনে সোজা হেঁটে বেরিয়ে গেল ওখান থেকে; একবারের জন্যও আর পেছন ফিরে তাকাল না। কিউ আর আমি অবাক আর বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। সুইমিংপুলের আশপাশে আরও যারা ছিল, তারাও হতবাক হয়ে রইল এমন একটি ঘটনার আকস্মিকতায়।
ঘটনার আকস্মিকতা খানিকটা কাটিয়ে কিউই আমার দিকে এগিয়ে এসে, একটা তোয়ালে হাতে দিয়ে বলল, ‘দুঃখিত।’

বললাম, ‘না, না কোনো সমস্যা নেই। আমি এখনই স্নান করে নেব।’
খানিকটা বিরক্ত হয়ে তোয়ালেটা ফিরিয়ে নিয়ে নিজের গা মুছতে লাগল কিউ।
তোয়ালে হাতেই সে আবার বলে উঠল, ‘আচ্ছা, তাহলে অন্তত বইয়ের দামটা আমাকে দিতে দিন।’

এটা সত্য যে আমার বইটা পুরোটাই ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু এটা ছিল সস্তা পেপারব্যাক একটা বই, আর খুব যে আগ্রহ নিয়ে পড়ার মতো বই, তা-ও নয়। কেউ বইটা ভিজিয়ে দিয়ে বরং বইটা পড়া থেকে আমাকে বাঁচাল যেন। আর কথাটা কিউকে বলতেই সে যেন স্বস্তি পেল। সেই পুরোনো দিনের চিরচেনা হাসিটি হেসে ওখান থেকে চলে গেল সে।

যাওয়ার পথে আবার পেছন ফিরে আমার কাছে ক্ষমা চাইল। পুরো ঘটনার শেষে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, কিউ কিন্তু আমাকে চিনতেই পারল না।
আমি গল্পটার নাম ‘একটি ব্যর্থ রাজ্য’ দেওয়ার কারণ হলো, আজকের সান্ধ্য পত্রিকায় আমি পড়ছিলাম, আফ্রিকায় একটা রাজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি দ্বিতীয় শ্রেণির রাষ্ট্র ব্যর্থ হতে দেখার চেয়ে একটি বিশাল রাজ্য ধ্বংস হওয়া দেখাটা অনেক বেশি মনোবেদনার।

অন্য আলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন