এমনই বহে ধারা

অসম্পূর্ণতার বেদনা স্বয়ং শিল্পী বহন করেন অধিক। তবু সংবেদী কেউ থাকেন ব্যতিক্রম, কোনো অসমাপ্ত লেখা বা লেখা শেষ না করে গত হওয়া মানুষটির সঙ্গে আত্মিকতার টান যাঁকে স্পর্শ করে। তখন পূর্বসূরির কাজটুকু তিনি এগিয়ে নিতে চান। এ ঘটনা ঘটেছিল বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে, ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ উপন্যাসের মাধ্যমে। অন্যের লেখা এই অসমাপ্ত উপন্যাস তিনি শেষ করেছিলেন। পরে বিভূতিভূষণের মৃত্যুর পর তাঁর অসমাপ্ত লেখা নিয়ে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে, তাঁর দুই অসমাপ্ত উপন্যাস ‘কাজল’ আর ‘অনশ্বর’ শেষ করেছেন অন্যেরা। এ যেন এক চক্রপূরণের খেলা।


উত্তর ২৪ পরগণার মুরাতিপুরে সংস্কৃত পণ্ডিত দরিদ্র বাবা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে জন্ম হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতার ১৩ নম্বর ওয়েলিংটন স্ট্রিট থেকে তখন প্রকাশিত হচ্ছে শিশুসাহিত্য পত্রিকা ‘সখা ও সাথী’। একই সময়ে বনগাঁয়ের মেঠোপথে পাঠশালায় যেতে যেতে দোলানো মালঞ্চলতার মুগ্ধতা বা ঘেঁটুফুলের তেতো গন্ধ আবিষ্ট করছে তখন শিশু বিভূতিকে। মাটিতে দাগ দিয়ে হচ্ছে অক্ষরপরিচয়। তাঁর জীবনে তখন সাহিত্যপর্বের বীজ বপন করছে প্রকৃতি ।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে ‘সখা ও সাথী’ নামের কিশোর পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ নামে ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস। উপন্যাসটি বিভূতিভূষণ শেষ করেছিলেন বটে, তবে এটি কে লেখা শুরু করেছিলেন, তা নিয়ে অবশ্য দ্বিমত রয়েছে। বিভূতিভূষণের পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, উপন্যাসের শুরু ভুবনমোহনের হাতে। ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ সম্পূর্ণরূপে প্রথম প্রকাশের সময় ১৯৫২ সালের ১৫ অক্টোবর রাজশেখর বসু লিখলেন উপন্যাসের বিষয় নিয়ে। আর ‘বিভূতি রচনাবলী’র নির্বাহী সম্পাদক বারিদবরণ ঘোষ ১৪০৩ সালে সমগ্র প্রকাশের সময় উল্লেখ করলেন, অনুসন্ধান করে পূর্বে প্রকাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্বয়ং বিভূতিভূষণের হাতে লেখা আছে কৃতজ্ঞতাপত্র, ‘শেষ দিকের কয়েকটি অধ্যায় লিখিয়া দিয়া এই পুস্তকের সুন্দর গল্পটি সমাপ্ত করিবার ভার আমার উপর ন্যস্ত হইয়াছিল।’


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টির মধ্যে কম আলোচিত এবং কোনো কোনো পাঠকের কাছে সবচেয়ে ‘দুর্বল’ এই লেখার পেছনে আছে এক উজ্জ্বল গল্প।


বিভূতিভূষণের সমবয়সী পত্রিকা ‘সখা ও সাথী’র সম্পাদক তখন ভুবনমোহন রায়। ১৮৮৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রমদাচরণ সেনের সম্পাদনায় প্রথম ছোটদের পূর্ণাঙ্গ মাসিক পত্রিকা ‘সখা’ আত্মপ্রকাশ করে। স্বল্পায়ুর এই শিশুসাহিত্যিক জীবনের সবকিছু পণ করে শুরু করেছিলেন পত্রিকা প্রকাশ। মোটে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশের পর মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তখনকার কথাসাহিত্যিকদের ভাষ্যে, ‘সখা’কে সচল রাখতেই নিজের শরীরের ওপর যে নির্যাতন করেছিলেন প্রমদাচরণ, তার ফলেই অকালমৃত্যু। এ সময় ‘সখা’ প্রকাশে এগিয়ে আসেন প্রমদাচরণের সতীর্থরা। হাত ঘুরে ঘুরে ‘সখা’ পৌঁছাল ভুবনমোহন রায়ের হাতে। তিনি প্রমদাচরণের ঘনিষ্ঠই শুধু ছিলেন না, ‘সখা’র লেখক এবং সম্পাদকের আত্মীয়ও ছিলেন। ১৮৯৩ সালে ভুবনমোহন রায় শুরু করলেন আরেকটি পত্রিকা, তার নাম ‘সাথী’। ‘সখা’র মূল্য ১৬ আনা আর ‘সাথী’র তখন দাম ১৪ আনা। কিন্তু প্রমদাচরণের পত্রিকাটিকে নিজেরটির সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার সময় তিনি ‘সখা’কেই আগে স্থান দিলেন। কেননা, সেটিই বয়োজ্যেষ্ঠ। অকালপ্রয়াত শিশুসাহিত্যিক প্রমদাচরণের প্রতি এভাবে শ্রদ্ধা জানালেন ভুবনমোহন।

default-image

১৮৯৫ সালে ‘সখা ও সাথী’তে প্রকাশিত শুরু হলো ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ নামের ধারাবাহিক উপন্যাস। তবে আগেই বলা হয়েছে, অসমাপ্ত ছিল সেই লেখা। অতঃপর ১৯৫০ সালে ওই উপন্যাস শেষ হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। সাহিত্যে এই প্যাস্টিশ ধারা নতুন নয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রফেসর শঙ্কু’র দুটি অসমাপ্ত কাহিনি ‘ইনটেলেকট্রন’ আর ‘ড্রেক্সেল আইল্যান্ডের ঘটনা’ ২৮ বছর পর শেষ করেছিলেন সুদীপ দেব। প্রেমেন্দ্র মিত্রর ‘হট্টমালার দেশে’ শেষ করেছেন লীলা মজুমদার। তবে সময়ের হিসাবে ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ বোধ হয় সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতিতে শেষ করা কাজ, ৫৫ বছর পর।


তবে এ উপন্যাস দুজনের লেখা বলে এর কাহিনিতে রয়েছে অসামঞ্জস্যতা, গল্প বলার ধরন, কাঠামোবিন্যাস এবং চরিত্র তৈরির দিকেও তা–ই।

মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’। কিশোরমনকে অভিযানে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল ছেড়ে না দেওয়ার কথা বলতে চেয়েছেন লেখক।


মেলা দেখতে গিয়ে ডাকাত দলের আক্রমণে সব হারিয়ে নীলুর আশ্রয় হয় মগ ডাকাত দলের সর্দারের বাড়িতে। ডাকাতের ছেলে মউংনুর (মনু) খেলার সাথি হয়ে যায় নীলু। আর সেই বাড়ি জনমানবহীন সুন্দরবনের গভীরে। গল্প হলো শুরু। এরপর কখনো বাঘের আক্রমণ, কখনো সাপের কামড়, কখনোবা অপরিচিতা নারীর স্নেহে মাতৃস্নেহ খুঁজে পাওয়ার বর্ণনা। সঙ্গে অপরিচিত গাছপালার রূপ-রস, নদীতে হাঙরের আক্রমণ—এসব ছাপিয়ে তিন কিশোরের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ও নানা অভিযানের গল্পে টইটুম্বুর এই উপাখ্যান। সবশেষে আসে সেই অবাক করা চরিত্রটি, তার কথা বলা হবে যথাস্থানে। তবে সচেতন বিভূতি–পাঠকের চোখে শুরুতেই খটকা লাগবে বর্ণনামূলক রচনায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

বালক ডাকাত দলের হাতে পড়ার পর থেকে আড়াই পৃষ্ঠায় পাঁচটি বাঘ উপস্থিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাঘ বেশ নাটকীয়ভাবে চলে গেল কুমিরের পেটে। বালক পানিতে পা পিছলে পড়ল আবার সঙ্গে বাঘটি লাফ দিল। ওদিকে কুমিরও ছিল ওত পেতে। ফলে কুমিরটি বালকবধে ব্যর্থ হয়ে বাঘটিকে গিলে ফেলল। বিভূতিভূষণের ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসে যেখানে আফ্রিকার রেলস্টেশনে রাতের বেলা এক জানালায় সিংহের মুখ দেখা গিয়েছিল, সেখানেও তিনি এভাবে অতিরঞ্জন করেননি। ‘চাঁদের পাহাড়’ ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ প্রকাশেরও ১৩ বছর আগে প্রকাশিত কিশোর উপন্যাস।


‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’-এর বালক আবার বেশ বিত্তবান, যে দাদামশায়ের সঙ্গে মাঘ মাসের মকরসংক্রান্তি উপলক্ষে সাগরদ্বীপে মেলা দেখতে গিয়েছিল বজরায় করে। বিভূতিভূষণ উত্তম পুরুষে যেসব উপন্যাস বা ছোটগল্প লিখেছেন, কোনটিতে শৈশবে বিত্তের পরিচয় পাওয়া যায় না। বরং বারবার নিরন্নতার পাশাপাশি উঠে এসেছে জগৎ সম্পর্কে মুগ্ধতার কথা।


আবার এই উপন্যাস হঠাৎ করেই বর্ণনামূলক থেকে চরিত্রনির্ভর হয়ে উঠেছে। চরিত্রনির্ভরতার ধারায় বিভূতিভূষণ স্বতন্ত্র। অনেক চরিত্র নয়, বরং কয়েকটি চরিত্রের ভেতর দিয়ে গল্পের মূল আদর্শটি প্রকাশ করা, প্রধানত তাঁর লেখার শৈলীর অংশ। কিন্তু এই আখ্যানের শুরুতে আছে অনেক চরিত্র, যা ঠিক স্পষ্ট রূপ পায় না। আরেকটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে প্রসঙ্গান্তর। শুরুর যে মগ ডাকাত দলের বর্ণনা, তা ১৯৫০-এর দিকে সুন্দরবনে অনুপস্থিত। কিন্তু ১৮৯৫-এর কথা ভাবলে তা সংগতিপূর্ণ। তবে বাংলা সাহিত্যের মহান এই কথাসাহিত্যিক অত্যন্ত যত্নে শেষ করেছেন লেখাটি। তিনি অ্যাডভেঞ্চারমূলক গল্পকে নিয়ে গিয়েছেন এক মহান আদর্শের দিকে, যেখানে এসেছে বৃদ্ধ কালীবর নামের এক অসাধারণ চরিত্র, যে বারবার উপদেশ দেয়, সময় নষ্ট কোরো না।
সময় নষ্টের হিসাবটা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন। তবু দিনভর বসে থাকা এক মানুষের মুখ থেকে বারবার সময় নষ্ট না করার উপদেশ পাঠকের মনে খানিকটা সংশয় তৈরি করে বৈকি।

কাছিমখালি দ্বীপের বুড়ো কালীবর রায় সারা দিন মুগ্ধ হয়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি দেখত। তবে তার দাবি এমন, কাছিমকে চিত করে দিয়ে মাংস কাটার মতো কাজ বা বালুর চর থেকে ঝিনুক কুড়োনো অনেক পরিশ্রমের। কালীবর রায়ের শখ মুক্তা জমানো। বহু মূল্যবান মুক্তা সংগ্রহে থাকলেও সে নিজে থাকত এক বনের পেছনে পাতালতার কুটিরে। আর ২৬টি মূল্যবান মুক্তা রেখেছিল কাপড়ের পুঁটলিতে। তার জীবিকা ছিল কচ্ছপের খোল বিক্রি। এই যাপনের মাধ্যমে সময় নষ্টের হিসাবটাকে কিশোরদের দেখাতে চেয়েছে চরিত্রটি, জীবনের গভীর বোধ সংযুক্ত করে।
default-image

কাছিমখালি দ্বীপের বুড়ো কালীবর রায় সারা দিন মুগ্ধ হয়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি দেখত। তবে তার দাবি এমন, কাছিমকে চিত করে দিয়ে মাংস কাটার মতো কাজ বা বালুর চর থেকে ঝিনুক কুড়োনো অনেক পরিশ্রমের। কালীবর রায়ের শখ মুক্তা জমানো। বহু মূল্যবান মুক্তা সংগ্রহে থাকলেও সে নিজে থাকত এক বনের পেছনে পাতালতার কুটিরে। আর মূল্যবান ২৬টি মুক্তা রেখেছিল কাপড়ের পুঁটলিতে। তার জীবিকা ছিল কচ্ছপের খোল বিক্রি। এই যাপনের মাধ্যমে সময় নষ্টের হিসাবটাকে কিশোরদের দেখাতে চেয়েছে চরিত্রটি, জীবনের গভীর বোধ সংযুক্ত করে।


এই উপন্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, চারপাশে যা রয়েছে, তাই ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা হলো সময়কে ঠিকঠাক ব্যবহারের শামিল। কেননা, বুড়ো কালীবর বারবার বলছে, সে বিরক্ত হয় না এই জনমানবহীন দ্বীপে। দিনে-রাতে বদলে যাওয়া বিশ্বরূপ তার কাছে ধরা দেয় নিত্যনতুন রূপে।

বিজ্ঞাপন

‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ নামের কিশোর উপন্যাসে এ চরিত্রটি এসেছে সবশেষে। আর বলা বাহুল্য, এ চরিত্রের স্রষ্টা বিভূতিভূষণই।
একটি লেখা বহুভাবে উতরে যায়। আবার অনেক আদর্শ লেখা হারিয়েও যায় স্বল্প সময়ে। এমনও হতে পারে, সম্পূর্ণ অগোছালো লেখার ভেতরের এমন কোনো একটি বাক্যের জন্য ‘বিশেষ’ হয়ে রয়ে গেছে সেই রচনা। তাই বলা যেতে পারে, ‘সফল’ সাহিত্যের সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই, প্রচলিত নিয়মও নেই। এখানেই সাহিত্যের অন্তর্নিহিত স্বাধীনতা। সম্পূর্ণই অস্পষ্ট, তবু পাঠকের মনে রইল, সে-ও তো বড় সাফল্য।


বিভূতিভূষণের আলোচ্য লেখায় স্থান পেয়েছে মানবজীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে এক গভীর উপলব্ধির কথা, ‘তোমার আত্মা বিজর, বিমৃত্যু, বিশোক—যা গিয়েচে, কোনো দূর ভবিষ্যতে তার স্বাদ তুমি আবার গ্রহণ করবে, জগতের বর্ণ, গন্ধ, রস, রূপে তোমার নিত্য নবীন কোথায় কোন আত্মা নতুন জীবনের প্রভাতে আবার অভ্যর্থিত হবে, জগতের অফুরন্ত আনন্দভান্ডার স্বাদ বারবার গ্রহণ করার তুমি অধিকারী—
‘এ অমৃত তোমার সম্পদ—কোথায় যাবে এরা? আবার আসবে, আবার যাবে।’


নশ্বর জীবনেই পাওয়া আত্মাটির অবিনশ্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন বিভূতিভূষণ। তাঁর উপন্যাস ‘দেবযান’ সেটি প্রমাণ করে। তরুণ প্রমদাচরণের কাজটুকু তাঁর মৃত্যুর পর সম্পন্ন করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ভুবনমোহন রায়। সেই ভুবনমোহনের অসমাপ্ত লেখা সম্পন্ন করলেন বিভূতিভূষণ। আর বিভূতিভূষণের পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পিতার অসমাপ্ত লেখা ‘কাজল’ ও ‘অনশ্বর’ নিয়ে বলেন, ‘“কাজল” আগাগোড়াই আমাকে লিখতে হয়েছিল, খেই ধরবার মতো কোনো সূত্রই তিনি রেখে যাননি।’


‘অনশ্বর’ শেষ হয়েছিল বিভূতিভূষণের মৃত্যুর ২২ বছর পর ১৯৭২ সালে। ‘অনশ্বর’-এর কিছুটা তিনি লিখে গিয়েছিলেন এবং তা অধুনালুপ্ত ‘বাঙলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল। পরে অসমাপ্ত এই লেখা হাতে তুলে নেন সাহিত্যিক গজেন্দ্রকুমার মিত্র । তিনিও শেষ করতে পারেননি। পরে ‘অনশ্বর’-এর অষ্টম অধ্যায় থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটি সম্পন্ন করেছেন তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুবনমোহন রায়ের অসমাপ্ত ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’কে সম্পূর্ণ করে বিভূতিভূষণ যে তোমাতে-আমাতে মিলেই এ ধারার গান শোনালেন পাঠককে, সেই সুর স্পর্শ করল তাঁর সন্তানকে। তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে জানালেন...এমনই বহে ধারা।


অন্যআলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: info@onnoalo.com

মন্তব্য করুন