বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেখানেও তো স্বপ্নের হাতছানি, পায়চারি।
রংধনুর ঝিকিমিকি।
রোদ-বৃষ্টি-মেঘ; খ্যাঁকশিয়ালের বিবাহসভা। স্বপ্নের বর্ণিল আলপনা। আমার গায়ে তো বাহারি ধূলিকণা। এই সব ময়লা–মোহর নিয়ে আপাতত চলে যাই আর্ট গ্যালারিতে।
কী সুনসান-নিস্তব্ধ! একজন দর্শকও নেই দেখছি।

default-image

তাতে কী! ভ্যান গঘ তো আছেন।
একটা ছবি৷ গমখেতে কাক। দেখি। নিমগ্ন চক্ষুলুণ্ঠন। ঢুকে পড়ি। একি শস্যমঞ্জরি নাকি রঙের ভুবনবাটি! এতকালের নিরঞ্জন বেঁচেবর্তে থাকার নিকুচি করে রঙের রেখাপথে জরুরি স্নান সারতে সারতে সামনে চলি। পাহাড়, ফসলি মাঠ, জলাধার মাড়িয়ে শূন্য ক্যানভাস হাতে চলি।
একটা ঘর। খালি।
সামনে একটা লোক।
একি ভ্যান গঘ?
কী জানি!

আমার কৌতূহলের মুখেও সে কেমন নির্বিকার।
এটা কি কোনো গ্রাম?
হয়তোবা।
গ্রামবাসী কই?
আছে হয়তো, হয়তো নেই।
নাম কী গ্রামের?
গ্রামই কেবল। কী দরকার নামের!

জলকলের গ্রাম বলা যেতে পারে। আগুনের আসবাব যেহেতু আজকাল মানুষের হৃদয়ঘরে।
বিদ্যুৎ নেই, বাতি নেই!
প্রয়োজন কি খুব! আর বাতি থাকলে নক্ষত্র দেখার অসুবিধা খুব।
মানুষ আজ সেই সত্য বিস্মৃত যে, সে প্রকৃতিরই অবিভাজ্য অংশ।
জল আর হাওয়ার দূষণ তার হৃদয়কেও দূষিত করে ফেলেছে।
তার বোধ হয়ে পড়েছে অন্তর্বাতিহীন।

default-image

আমি কোথায় পাব সেই ভেতরবাতির দেখা, আলোর রেখা!
যাও, দূরে সরো। আমি নই প্রশ্নোত্তরের কারবারি কিংবা করি না আলো–আঁধারের সওদাপাতি।
আমি স্বপ্নের প্যালেটটা খুঁজছি।
ওই, মনে হয় ওই সে নদীর ধারে।
যাই৷
সূর্য ডুবছে নাকি উঠছে!
ঠাহর না হয়। দরকারও নেই৷
ঢুকে পড়ি স্বপ্নের সীমান্তে।
কে গুলি তাক করছে?

তোমার বাস্তবের সীমান্তরক্ষী—চোখ নিশ্চয়ই।
সংখ্যাতীত কাকের কান্না নাকি উড়ন্ত হাসির কা কা ফোয়ারা!
আমি পা হড়কে পড়ে যাই শূন্যদর্শক গ্যালারিতে।
ও আমার স্বপ্ন,
তোমার চোট লাগেনি তো?

অন্য আলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন