বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সেখান থেকে ছাপা শুরু হলো উর্দু পত্রিকা 'শাহকার'। সন ছিল ১৯৮০। এই পত্রিকা যখন ইসমত চুগতাইয়ের হাতে পৌঁছালো, উনি বিশ্বাস করতে পারলেন না যে এত সুন্দর ছাপার পত্রিকাটি বাংলাদেশ থেকে বের হয়েছে। ১৯৮৪ সালে শাহকার পাবলিকেশন্স থেকে ছেপে বের হলো আহমদ সাদি আর সাজিদের গল্প সংকলন 'দুদে চারাগে ম্যহফিল' (আসর শেষের প্রদিপের ধোঁয়া)। সেখান থেকে ১৯৮৯ সালে ছাপা হলো আহমদ সাদির গল্প সংকলন 'মিট্টি কি খুশবু' (মাটির সুগন্ধ)। সাজিদের ছাপাখানা থেকেই আমার প্রথম কবিতার বই 'আয়িনা রেযে' ছাপা হলো। এই দুটো বইয়ের প্রকাশনা উৎসব আয়োজন করল 'আলমি আদবি মরকয' (আন্তর্জাতিক সাহিত্য কেন্দ্র)। সারা বাংলাদেশ থেকে উর্দু সাহিত্যিক-কবিরা এলেন। তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সাজিদ। তাঁদের আসা-যাওয়া, আবাসসহ সব ব্যবস্থা তিনি নিজেই আয়োজন করলেন। ১৯৯৪ সালে সাজিদ আরেবকটি সাহিত্য পত্রিকা বের করলেন।

নাম 'দস্তক', মানে কড়া নাড়া। এই ছিল সাজিদের শেষ সৃজনশীল সাহিত্য-কীর্তি। ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের উর্দু ছোট গল্পের সবচাইতে উজ্জ্বল নাম সিন মিম সাজিদ।

সাজিদ খুব কম বয়সেই বাস্তব অনুসারী ছোটগল্পের আধুনিক কৌশলগুলো প্রয়োগ করা শুরু করেন। বাংলাদেশের প্রথম সারির ছোটগল্পকার হয়ে উঠতে তাঁর বেশি সময় লাগেনি। 'সলিব কে সায়ে', 'কাহানি কা কতল' বা 'পাগল'-এর মতো গল্প বাংলাদেশের বাইরে গল্পকার হিসেবে তাঁর উজ্জ্বল পরিচিতি দাঁড় করিয়েছে। যত দ্রুত তিনি গল্প লিখে নিজেকে পরিচিত করেছেন, ততই দ্রুত সরে দাঁড়ান গল্প লেখার জগত থেকে। তাঁর মতো গল্পকারের ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশ আরও অনেক দিন অপেক্ষা করবে।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন