default-image

১. সেন্ট্রাল পার্কে বাংলাদেশ
নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে যে রিকশা চলে জানতাম না। তবে সেসব রিকশা কেবল ধনী ট্যুরিস্টদের জন্য, ভাড়া প্রতি মিনিটে তিন ডলার, অর্থাৎ আড়াই শ টাকা। এখানে রিকশা ছাড়াও দেখা পেয়েছিলাম বাংলাদেশের। পার্কের পশ্চিমের একটা অংশ ‘ইমাজিন’ নামে আলাদা করা, এই অংশের আরেক নাম ‘স্ট্রবেরি ফিল্ডস’। প্রায় আড়াই একর জায়গাজুড়ে সবুজ অংশটা ৭০ দশকের সাড়াজাগানো বিটলস ব্যান্ড গ্রুপের অন্যতম একজন, জন লেননের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত। লেননের ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী মনোভাব এবং কর্মকাণ্ডের জন্য নিক্সন প্রশাসন তাঁকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা করেছিল নানাভাবে। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এই ছায়া সুনিবিড় অংশটা ঘিরে কয়েকটা বেঞ্চ পাতা, পায়ে হাঁটা তিন পথের মোহনায় মোজাইকের একটা আলপনা—‘ইমাজিন’। লেননের বিখ্যাত গান ‘ইমাজিন অল দ্য পিপল লিভিং লাইফ ইন পিস’ অবলম্বনে সৃষ্ট এই অংশটায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনুমোদনের কথা উৎকীর্ণ আছে একটা পাথরের ফলকে, সেখানে ১২১টা দেশের মধ্যেই খুঁজে পাই বাংলাদেশকে। বিদেশের মাটিতে কেবল স্বদেশের নামটা দেখেই মন আর্দ্র হয়ে ওঠে।

default-image

লেনন খুন হন ১৯৮০ সালে চ্যাপম্যান নামের এক ভক্তের গুলিতে। কারণ, তিনি নিজেকে যিশুর চেয়ে জনপ্রিয় দাবি করেছিলেন। পার্কের পশ্চিম গেট দিয়ে বের হলে স্ট্রবেরি ফিল্ডসের উল্টো দিকে ৭২ স্ট্রিটে তাঁর বাসস্থান ডাকোটা অ্যাপার্টমেন্ট। এটির গেটেই তাঁকে গুলি করেন চ্যাপম্যান। রাত প্রায় ১১টার দিকে বাড়ির সামনে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে গেট পার হওয়ার সময় চ্যাপম্যান কাছে থেকে চারটা গুলি করেন লেননকে। অথচ সেদিন সন্ধ্যাবেলায় এই চ্যাপম্যানকেই লেনন তাঁর ‘ডাবল ফ্যান্টাসি’র একটা অ্যালবামে অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন। লেননের মৃত্যুর পরদিন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়োকো উনো ঘোষণা করেন যে তাঁর স্বামীর কোনো আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্য হবে না। তাঁকে দাহ করে দেহভস্ম সেন্ট্রাল পার্কের যে অংশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেখানেই পরবর্তী সময়ে ‘স্ট্রবেরি ফিল্ডস’ নামের স্মারক কর্নার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পার্কের এই অংশটা সংরক্ষণের জন্য ইয়োকো উনো ১০ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছিলেন। লেনন হত্যার মামলা শুরু হলে চ্যাপম্যান তাঁর উকিলের পরামর্শ উপেক্ষা করে আদালতে স্বাভাবিক হাজিরা না দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেন। ফলে তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়।

ডাকোটা অ্যাপার্টমেন্টের গেটে এখনো কড়া নিরাপত্তা পাহারা। ভবনটায় মেরামতের কাজ চলছে বলে পুরো ভবন আবৃত, সেখানে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে গেটের কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম।

default-image

২. কুকুরসঙ্গী নারীরা
আন্তন চেখভের একটা বিখ্যাত গল্প ‘কুকুরসঙ্গী নারী’, যেটি সম্পর্কে নবোকভ বলেছিলেন, ‘এযাবৎ লেখা সেরা গল্পগুলোর একটি।’ ম্যানহাটনের এখানে-ওখানে এ রকম কয়েকজন কুকুরসঙ্গী নারীর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। তাঁদের কেউ চেখভের গল্পের আনা সের্গেইয়েভনা নন, স্থানও রাশিয়ার ইয়ালটার সৈকত নয়। হয়তো তাঁদের অনেকেই আনার মতো অসুখী স্ত্রী নন, কিংবা অসুখী হলেও দিমিত্রি গুরভের মতো প্রেমিক জোটেনি।

এক সকালে সেন্ট্রাল পার্কে কড়া হটপ্যান্ট পরা একজন সঙ্গের কুকুরটাকে প্রাত্যহিক ব্যায়াম করাচ্ছিলেন। আমি ছবি তোলার অজুহাত ও ভূমিকা হিসেবে কুকুরটাকে চেখভের দিমিত্রির কায়দায় তোষামোদে প্রলুব্ধ করার জন্য ‘হাউ কিউট’ ইত্যাদি প্রশংসায় ভরিয়ে দিলে কুকুরটির মালকিন খুশি হয়ে আমাকে ছবি তুলতে দেন। সারমেয়টার ছবি তোলার ফাঁকে তাঁর সঙ্গে আলাপ জমাই। কুকুরটি যতই ‘কিউট’ হোক, মালকিন যেমনই সুন্দরী হোন না কেন, প্রাণীটির প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের পর তার শরীরনিঃসৃত বর্জ্য হাতে পলিথিন পেঁচিয়ে তুলে নিতে হয়, ভাবতেই মালকিনের যাবতীয় সৌন্দর্য মনের চোখ থেকে নিমেষে তিরোহিত হয়।

আরেকজনের দেখা পেয়েছিলাম নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টসের সামনে, তিনি আনার মতো ভাগ্যবতী নন যে দিমিত্রি তাঁর প্রেমে পড়েছেন। দুটি কুকুর নিয়ে ইনি নিরাশ্রয়। ‘হোমলেস হোপফুল’ লেখা কার্ডবোর্ড লাগানো একটা ট্রলিতে রাজ্যের জিনিসপত্র চাপিয়ে মিউজিয়ামের সিঁড়ির গোড়া থেকে আস্তানা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। আমি কাছে গিয়ে ‘হাই’ বলে তাঁর সঙ্গে আলাপ জমানোর পাঁয়তারা করি। কিন্তু তিনি আমার সম্ভাষণকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে কুকুর দুটোর সঙ্গে আপনমনে কথা বলতে থাকেন।

চেখভের গল্পটি যাদের পড়া নেই, তাদের জন্য বলি, দিমিত্রি গুরভের সঙ্গে আনার পরিচয় হয় ক্রিমিয়ার সৈকতে, দুজনই বিবাহিত জীবনে অসুখী, তাই সেখানে গিয়েছিলেন একা, আনার সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট পমেরিয়ান কুকুরটি। সেই পরিচয় গাঢ়তর হয়ে পরিণত হয় গভীর প্রেমে। একসময় তাঁরা ফিরে আসেন যে যাঁর শহরে, কিন্তু তাঁদের গোপন অভিসার থেমে থাকে না, কখনো মস্কোতে, কখনো সেন্ট পিটার্সবার্গে। উভয়েই একসময় বুঝতে পারেন যে তাঁরা পরস্পরকে ছেড়ে থাকতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবের সব প্রতিবন্ধক অতিক্রম করে কীভাবে তাঁরা একসঙ্গে জীবন কাটাবেন, ভেবে পান না।

চেখভের ভাষায় ‘তাঁরা দুজনে পরামর্শ করে দীর্ঘ সময় কাটান, আলাপ করেন কীভাবে গোপনীয়তা ও প্রতারণা, দীর্ঘদিনের অদর্শনে দুই ভিন্ন শহরে বাস করার আবশ্যকতাকে কাটানো যায়, কীভাবে তাঁরা অসহনীয় বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারেন?

মনে হয় খুব সহসাই সমাধান পাওয়া যাবে, তারপর শুরু হবে একটা চমৎকার জীবন; দুজনের কাছেই এটা পরিষ্কার হয় যে তাঁদের সামনে রয়েছে আরও দীর্ঘ পথ এবং তার সবচেয়ে জটিল ও কঠিন অংশটা মাত্র শুরু হলো।

উনিশ শতকের সেই নৈতিকতার যুগে চেখভ সমাজপতির ভূমিকা গ্রহণ করেননি। আনা আর দিমিত্রির গোপন প্রেম নিয়ে চেখভের কোনো তির্যক অবলোকন নেই, নিষ্কম্প হাতে তিনি কেবল এঁকে গেছেন দুই অসুখী নরনারীর পরিণতিহীন ভবিতব্যের অনিশ্চিত পথরেখা।

default-image

৩. ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কের পক্ষিমানব
ম্যানহাটনের গ্রিনিচ ভিলেজের ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কটি ঘিরে থাকা বাড়িগুলো একসময় ছিল শিল্পী-কবি-লেখকদের ডেরা। এখনো চোখে পড়ে কোনো বাড়ির দেয়ালে ভারা বেঁধে ম্যুরাল আঁকায় নিমগ্ন শিল্পী। পার্কের লাগোয়া বাড়িগুলোর বেশির ভাগই এখন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দখলে, সংস্কারের কবলে পড়ে পুরোপুরি বদলে গেছে। সেই পার্কটিতে আউলা-ঝাউলা পাগলাটে বৃদ্ধ মানুষটিকে প্রায় সব সময়ই দেখা যায়। কাঁধের ঝোলা থেকে মুঠো মুঠো শস্যদানা ছিটিয়ে দিয়ে কবুতরগুলোকে খাওয়ান। পাখিগুলোও গাছের ডালে বসার মতো স্বচ্ছন্দে লোকটির মাথায়-কাঁধে বসে থাকে নির্ভয়ে।

লোকটির নাম ল্যারি, মানুষের মুখে মুখে হয়ে গেছে ‘দ্য বার্ডম্যান’, নিউইয়র্কের বহু গৃহহীন মানুষদের একজন। ওয়াশিংটন পার্কেই ঘুমান তিনি। প্রথম দিকে এক সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে তিনি দেখতে পান তাঁর সারা গায়ে বসা একঝাঁক কবুতর। তাঁর শরীরের ওপর এবং আশপাশে ছড়িয়ে আছে ডলার আর ডাইম। বুঝতে সময় লাগে তাঁর যে গায়ে বসা কবুতরের ঝাঁক দেখে তাঁকে পক্ষিপালক মনে করে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা দিয়ে গেছেন এসব টাকা। সেই থেকে ল্যারি এখানে।

ল্যারির এই অবস্থার পেছনে আছে অতীতের এক দুঃখময় স্মৃতি। ১৯৮৬ সালে দুজন লোক তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁর স্ত্রী আর বাচ্চাদের খুন করে। ওদের ধরে ফেলে ল্যারি বাড়ির উঠোনে বেঁধে রেখে আচ্ছা করে পেটান, পায়ের গোড়ালি থেকে ঘাড় পর্যন্ত প্রবল আক্রোশে পিটিয়েই চলেন। তারপর একটা বড় ছুরি দিয়ে ওদের মাথা কেটে ফেলেন। এ কারণে ২০ বছর জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে।

default-image

দূর থেকে দেখি ঝোলা থেকে দানা বের করে পাখিগুলোকে খাওয়াচ্ছেন ল্যারি। ইউনিভার্সিটির ছাত্রীরা কলকল করে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন, কেউ কেউ মজা করেন, ছবি তোলেন। ল্যারি তাঁদের কারও হাতে দানা তুলে দিয়ে একটা কবুতর মেয়েটির হাতে চালান করে দেন, যাতে তাঁর হাত থেকে খাবার খেতে পারে। হাতের তালুতে ঠোকরানোর অনভ্যস্ত সুড়সুড়িতে মেয়েটি খিলখিল করে হাসেন। সে হাসির শব্দে কবুতরটি উড়ে গিয়ে বসে ল্যারির কাঁধে। তিনি বিড়বিড় করতে করতে হাত দিয়ে টেনে নিয়ে চুমু খান পাখিটির মাথায়। এসব দেখতে দেখতে একসময় টিপটিপ বৃষ্টি ভারী হয়ে এলে সীমাহীন ঔদাসীন্য নিয়ে ধীরপায়ে চলে যান তোবড়ানো গাল আর উষ্কখুষ্ক চুলের মানুষটি। তাঁর চুলের জঙ্গলে, সকেটের মতো চোখের কোটরে কী অবর্ণনীয় কষ্ট, আমরা তার কতটুকু জানি? এখন এই পাখিগুলোই তাঁর আশ্রয় আর ভরসার জায়গা। স্ত্রী-সন্তান হন্তাদের প্রতি যে প্রচণ্ড ক্রোধ ছিল, এখন আর লেশমাত্র নেই তাঁর আচরণে। পাখিরাই বুঝি আমূল বদলে দিয়েছে তাঁর জীবনটা।

default-image

৪. মিনি মাগনার কবি
নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টসের সামনের পেভমেন্টজুড়ে হরেক কিসিমের মানুষ, গায়ক-বাদক-পেইন্টারে সরগরম সব সময়। সেই হট্টমেলায় ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে বসা টাইপিস্টদের মতো টেবিল পেতে একখানা অলিম্পিয়া পোর্টেবল টাইপরাইটার নিয়ে বসে থাকেন কবি আলেক্সিস, সামনের বোর্ডে বড় হরফে লেখা ‘পোয়েট্রি ফর ফ্রি’। অল্প দূরত্বে বসে এক কৃষ্ণাঙ্গ প্রৌঢ় ট্রাম্পেটে তুলছেন বিষণ্ন সুর। সামনে দিয়ে এক বৃদ্ধাকে ঈশ্বরের লীলা বোঝাতে বোঝাতে হেঁটে চলেছেন গেরুয়া শাড়ি পরা মার্কিন তরুণী। এসব দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কবি আলেক্সিসের। এমন মিনি মাগনার কবির প্রতি যথারীতি নারীদের বিশেষ আকর্ষণ লক্ষ করি। তাঁরা আগ্রহ নিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলেন, পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, কেউবা অনুরোধ করেন একখানা কবিতা লিখে দিতে। আলেক্সিস বলেন, কী বিষয়ে কবিতা চান? বিষয় জেনে নেওয়ার পর বলেন, পাঁচ মিনিট সময় দিতে হবে, আশপাশেই থাকুন, ঘণ্টার শব্দ শুনলে এসে কবিতাটা নিয়ে যাবেন। তারপর একখানা সাড়ে তিন বাই আড়াই ইঞ্চি কাগজ বের করে টাইপরাইটারে চড়ান, ঈষৎ চিন্তিত মুখে চরণ হাতড়ান, একসময় সচল হয় তাঁর আঙুল। কবিতাটি টাইপ করা শেষ হলে পাশে রাখা পেতলের বাটিতে হামানদিস্তার মতো কাঠের দণ্ডটা দিয়ে হাত ঘুরিয়ে অদ্ভুত কায়দায় আঘাত করলে ঢং করে শব্দ হয়, তখন পাশে কোথাও প্রতীক্ষারত কবিতার ফরমাশকারী নারী উদয় হয়ে বিগলিত হেসে কবিতাটি গ্রহণ করেন। কেউ কেউ সম্মানী হিসেবে কবির হাতে গুঁজে দেন ডলারের দু-একটি নোট। কিছু না দিলেও কবির কোনো দাবি নেই।

কয়েকজন নারী ভক্ত বিদায় হলে কবির কাছে গিয়ে বলি, আমার জন্য একটা কবিতা লিখে দেওয়া যাবে? আলেক্সিস জানতে চান, কী বিষয়ে কবিতা চাই। বলি, নির্ঘুম নিউইয়র্ক নিয়ে যদি কয়েকটা চরণ তিনি রচনা করেন, এই নামে আমার একটা বই আছে। আমার বই আছে শুনেও তিনি কোনো মন্তব্য করেন না। সবার মতো আমাকেও বলেন ঘণ্টার শব্দ শুনলে কবিতাটা নিয়ে যেতে। আমি খানিক দূরে দাঁড়িয়ে দেখি চিরকুটের সাইজের কাগজটা টাইপরাইটারে চড়িয়ে কবি ধ্যানস্থ হন। তারপর তাঁর আঙুল চলতে শুরু করে ধীরগতিতে। একসময় পাশে রাখা ডিকশনারিতে কিছু একটা দেখে নেন। মিনিট দশেক লাগে তাঁর কাব্যরচনায়। টাইপরাইটার থেকে কাগজটা বের করে হাতের কবজি ঘুরিয়ে অদ্ভুত কায়দায় পাশে রাখা বাটিতে ঢং করে শব্দ তুললে আমি এগিয়ে যাই, তিনি নিঃশব্দে কাগজের টুকরোটা আমার হাতে তুলে দেন। আমি কবির হাতে এক ডলারের কয়েকটা নোট ধরিয়ে দিলে তিনি কোনো কথা না বলে পকেটে রেখে দেন টাকাটা। যে কবিতাটা তিনি আমার জন্য লেখেন, সেটির তরজমা করলে এ রকম হয়:

সদা নির্ঘুম এ নগর ছাড়া

সব অঙ্গরাজ্য দিয়ে যায় বয়ে মেলাটনিন,

দাঁড়ানো গাছেরা ডোপামিন হয়ে,

শহরের হৃৎপিণ্ডে সেচে দিয়ে কর্টিসল

রাজত্ব করে কংক্রিট সড়কে।

উল্লেখ্য, মেলাটনিন হচ্ছে একধরনের হরমোন, যা প্রাণিদেহের ঘুম আর জাগরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। ডোপামিন আর কর্টিসল দুটোই মানুষের মস্তিষ্ক আরœস্নায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কবি আলেক্সিসের অণুকাব্যটা পড়ে মনে হলো, বেচারা কেমিস্ট হতে না পারার ব্যর্থতায় কবি হয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0