দাগঅ কধা ফেলা ন যায়

চাকমা প্রবাদ \ নন্দলাল শর্মা \ প্রকাশক: দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা \ প্রচ্ছদ: ধ্রুবএষ \ ৬৪ পৃষ্ঠা \ ৬০ টাকালোকসাহিত্যের প্রাচীন শাখা প্রবাদ। আবহমানকাল থেকে দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রবাদের জন্ম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কোনো একজন তাঁর সৃজনশীল চিন্তা খাটিয়ে একটি চমত্কার ভাব শ্রুতিমধুরভাবে প্রকাশ করল, বাক্যটি যারা শুনল, তাদের মনে গেঁথে গেল। তারপর উপযুক্ত ক্ষেত্রে সবাই তা প্রয়োগ করতে থাকল। এভাবেই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে প্রবাদ প্রতিষ্ঠালাভ করে।যিশুখ্রিষ্টের জন্মেরও সাড়ে চার হাজার বছর আগে, ঋগ্বেদের যুগে প্রবাদবাক্যের প্রচলন ছিল। অন্যান্য বেদ, পঞ্চতন্ত্র প্রভৃতিতেও প্রবাদের ব্যবহার লক্ষণীয়। প্রথম প্রবাদ সংগ্রাহক হিসেবে ধরা হয় গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে (৩৮৪-৩২২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।যে জাতির ইতিহাস যত বেশি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ, তার লোকসাহিত্যের ভাণ্ডারও তত বিশাল। চাকমা জাতির লোকসংস্কৃতির সব দিকই সমৃদ্ধ। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে আমাদের দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করছে। তারও আগে ছিল মিয়ানমার, আসাম, ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চলে। সুতরাং তাদের সমাজে প্রচলিত প্রবাদবাক্যের অভাব নেই। প্রবাদ-প্রবচনকে চাকমারা বলে ‘দাগ কধা’ অর্থাত্ ডাকের কথা। এ ‘দাগ কধা’গুলোর বেশির ভাগই নিখুঁত চাকমা ভাষার, কিছু এসেছে বাংলা ভাষা থেকেও। প্রায় ৫০০ ‘দাগ কধা’ নিয়ে নন্দলাল শর্মার বই চাকমা প্রবাদ। পাঠকের সুবিধার্থে চাকমা ভাষার মূল প্রবাদের পর তার সহজ বঙ্গানুবাদ, প্রয়োজনে ব্র্যাকেটবন্দী করে তুলনীয় বাংলা প্রবাদ কিংবা আঞ্চলিক প্রবচনের উল্লেখও করা হয়েছে। যেমন, ‘দাগঅ কধা পেলা ন যায়’ প্রবাদটির পর অর্থ বলে দেওয়া হয়েছে ‘ডাকের বচন ফেলা যায় না’।তবে একটা ব্যাপারে পাঠক হোঁচট খেতে পারেন। প্রুফ দেখা হয়নি ঠিকমতো। কিছু ইংরেজি শব্দ বাংলা ফন্টে রূপান্তরিত হয়ে কিম্ভুতকিমাকার হয়ে গেছে। যেমন, ‘ইংরেজিতে প্রবাদকে বলে চত্ড়াবত্ন, এই শব্দটি ল্যাটিন চত্ড়াবত্নরঁস শব্দটি থেকে এসেছে’ (পৃষ্ঠা. ১২)। এ রকম নজির আরও আছে।