বইপড়ুয়াদের ‘বুক ক্লাব’

করোনার সময় প্রযুক্তি কাজে লাগিেয় বিশ্বজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডিজিটাল বুক ক্লাব

দল বেঁধে সিনেমা দেখা, কনসার্ট অথবা শিল্প প্রদর্শনী—সবকিছুতেই এক নীরব স্থবিরতা এনে দিয়েছে করোনা মহামারি। তারপরও দুনিয়াজুড়ে বইপিপাসুরা নিজেদের মেলে ধরেছেন নতুন রূপে। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই অতিমারিতেও বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা অসংখ্য ডিজিটাল বুক ক্লাবের পাঁচটি সম্পর্কে জানাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল মাহাদী

১. তলস্তয় টুগেদার

মহামারির শুরুতে লিও তলস্তয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিস পড়া শুরু করেন লেখক ইয়ুন। ১ হাজার ২০০ পাতার এই বই পড়ার জন্য ৫ থেকে ১০ জনের বেশি কেউ আগ্রহী হবেন না বলে ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই বুক ক্লাবের ভার্চ্যুয়াল সেশনে এবং ১৫ পৃষ্ঠা করে পড়েন সবাই। এরপর চলে বইসম্পর্কিত আলোচনা ও সমালোচনা। পাকিস্তান, ব্রাজিল, নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বইপড়ুয়ারা অংশগ্রহণ করেন এই গ্রুপে।

২. কোয়ারেন্টিন বুক ক্লাব

করোনায় নিজেদের কাজের সুযোগ একদমই কমে আসায় সান ফ্রান্সিসকোয় বসবাসকারী দুই ডিজাইনার মাইক মন্টেইরো ও এরিকা হল মিলে শুরু করেন কোয়ারেন্টিন বুক ক্লাব। গত ১৬ মার্চের পর থেকে প্রতিদিন দুটি করে ভার্চ্যুয়াল আলাপচারিতার আয়োজন করেন তাঁরা। মাইরিয়াম গুবরা, কোরে ডক্টরো, হিদার বি আর্মস্ট্রংসহ অনেক লেখক এই আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন।

৩. সাইলেন্ট বুক ক্লাব

গিনিভের দে লা মের ও লরা গ্লুহানিচ এই বুক ক্লাব শুরু করেন ২০১২ সালে। ৩১টি দেশের ২৬০টি স্থানে ক্লাবটির কার্যক্রম রয়েছে। করোনায় এটি ভার্চ্যুয়াল বুক ক্লাবে রূপান্তরিত হয় এবং ভার্চ্যুয়াল মিটআপের আয়োজন শুরু করে। প্রতিষ্ঠাতা দে লা মের বলেন, এই ক্লাব নিঃসঙ্গতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহস জোগায়। করোনায় ইতালির বেশ কিছু স্থানে এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ হতে দেখা গেছে।

৪. কোয়ারেন্টিনি

লিঙ্গ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ইতিহাসবিদ এরিক সারভিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজে এই বুক ক্লাব শুরু করেন। তাঁর ভিডিওগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ দেখেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। বই ছাড়া সিনেমাবিষয়ক আলোচনাও করেন তিনি।

৫. লেজ বুক ক্লাব

আড়াই বছর ধরে লন্ডনের একটি পাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল মাত্র ১২ জনের এই ক্লাব। ১২ জনই নারী। করোনায় ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রম শুরু করে ক্লাবটি। এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়েনোর প্রাতোসি বলেন, ভার্চ্যুয়াল বুক ক্লাবে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন না থাকায় বিশ্বব্যাপী নারীরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। ফলে একজন আরেকজনের চিন্তাভাবনা ও বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কে জানতে পারছেন।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন