বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩.

তাঁর নির্বাচিত কবিতার (জার্নিম্যান: ফেব্রুয়ারি, ২০১৭) ‘আত্মকথনে’ মাহমুদ আল জামান পাঠকদের জানিয়েছিলেন, ‘হৃদয়, মন, মস্তিষ্ক, কখনো-সখনো দিন যাপনের দুঃখ, বেদনা কষ্ট, গ্লানি, আনন্দ’ এই সব তাঁকে কবিতা লিখতে প্রেরণা দেয়। তার মানে তিনি যে প্রেরণাবাদী ছিলেন, সেটি অকপটে মাহমুদ আল জামান স্বীকার করে গিয়েছেন। সে কারণেই হয়তো ‘কখনো অঙ্গীকারের তাগিদে, কখনো ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে’ তিনি কবিতাচর্চায় মনোনিবেশ করেছিলেন। তারই নমুনা হিসেবে জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক কাব্যের প্রথম কবিতাতেই তিনি বলেন, ‘সূর্যোদয় দেখে ফিরে যায়।/ দাঁড়িয়ে থাকে চোখের পাতায়/ এই রং, নিসর্গ/ আর পুণ্য প্রাণ লাবণ্য।’ মাহমুদ আল জামানের প্রথম কাব্যের মূল সুরই হচ্ছে প্রাণের এই লাবণ্যের সুর। তার মধ্যে আনন্দ আছে, বিষাদ আছে, আছে আলো-অন্ধকারের সমাহার। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে ‘আনন্দবসন্তসমাগমে’ যে পূর্ণ প্রাণের সন্ধান পেয়েছিলেন, তাকেই যেন নিজের অস্তিত্বে নিজস্ব রূপ দিতে চেয়েছিলেন মাহমুদ আল জামান। একজন কবির প্রথম কাব্যের মধ্যে যেসব ত্রুটি সাধারণত দেখতে পাওয়া যায়, এই কাব্যটি সেসব থেকে বেশ দূরে অবস্থান করেছে একেবারে নিজস্ব ভঙ্গিতে।

৪.

কোনো একদিন ভুবনডাঙায় আর ভুবনডাঙার মেঘ ও নধর কালো বেড়াল দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ হলেও এই দুটি একত্রে মূলত কবির একই মনোগত অভীপ্সার বিচিত্র বিস্তারের সাক্ষী। সেখানে আবেগ যেমন আছে, তেমনই আছে স্মৃতির কথন আর বর্তমানের আর্ত হাহাকার। শেষ কাব্যের সর্বশেষ কবিতায় পাচ্ছি, ‘জ্যোৎস্নেন্দু, ঘুমের মধ্যে দেখতে থাকি শৈশবস্মৃতি/ গ্রাম আসে গ্রাম যায়/ ভীরু মেয়ে নিকানো উঠোনে দৌড়ায়...’। সব মিলিয়ে এই সব সুর আর ব্যক্তি-বিহ্বলতা নিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর কাব্যসৌধ।

কবিতাসমগ্র

মাহমুদ আল জামান

প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ, প্রকাশক: অনন্যা, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল ২০২১

২৭১ পৃষ্ঠা, দাম: ৪৫০ টাকা।

৫.

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘সম্পাদনায় হাসনাত ছিলেন নৈর্ব্যক্তিক, কিন্তু কবিতায় ছিলেন তার বিপরীত। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, আবেগ, মান-অভিমান জায়গা করে নিত।...তাঁকে আরও ব্যাপকভাবে খুঁজে পাওয়া যেত কবিতায়।’ কেন সেটি পাওয়া যায়, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জীবনানন্দ বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক মনীষারই একটি বিশেষ প্রতিভা থাকে—নিজের রাজ্যেই সে সিদ্ধ।’ মাহমুদ আল জামানের ‘শেষ লেখা’য় আমরা দেখি এক বিনয়ী কবি আর্তস্বরে বলছেন, ‘আমার রোদ্দুর ঢেকে যাচ্ছে/ কালো মেঘে/ হায় ছায়াবৃতা দাও, আমাকে দাও/ সজীব সবুজ উজ্জ্বলতা।’

তাঁর কবিতাসমগ্র পড়লে রুচিস্নিগ্ধ এক কবির দেখা পাই।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন