শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯—১৭ আগস্ট ২০০৬)
শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯—১৭ আগস্ট ২০০৬)

কিষানের হাতে শাণিত কাস্তে, কিষানির চোখে হাসির কুঁড়িটি ফোটে:

সোনালি ধানের সোনালিয়া শিষ কাজল মাটিতে লোটে।

ভোরের আকাশ ঝকঝকে নীল: ফসলের মাঠে নারঙ্গি রোদ কাঁপে,

কিষানির চোখ উজ্জ্বল হলো স্বপ্নের উত্তাপে।

ভোরের আকাশ ঝকঝকে নীল: ফসলের মাঠে নারঙ্গি রোদ কাঁপে।

আকাশ সেদিন ধ্বনিময় ছিল নীল সাগরের মতো—

বুনো হাঁসগুলি ডানা মেলে দিয়ে ভেসেছে ইতস্তত।

আকাশ সেদিন ধ্বনিময় ছিল নীল সাগরের মতো।

বিজ্ঞাপন

এত দিন ধরে জীবনে মোদের ছেয়ে ছিল শুধু ফাঁকি,

এত দিন ধরে দীপ্ত দিনের পরিচয় ছিল বাকি।

বিজ্ঞাপন

দিন এসে গেছে, এসে গেছে দ্যাখো শঙ্কাবিহীন দিন...

হায়েনার হাসি, ডাকিনির কেশ শূন্যে হয়েছে লীন;—

দিন এসে গেছে, এসে গেছে দ্যাখো শঙ্কাবিহীন দিন।

কিষানের হাতে শাণিত কাস্তে, কিষানির চোখে হাসির কুঁড়িটি ফোটে।

সোনালি ধানের সোনালিয়া শিষ কাজল মাটিতে লোটে।

বিশ্বেস করো: ইগলেরা সব আশ্রয় পেল, ফিরে পেল তরুলতা...

আবার সেই তো মধুমতী মাঠ আর কত রূপকথা!

ফসলের মাঠে কাক ওড়ে নাকো, ইঁদুরের নেই চিন:

দিন এসে গেছে, এসে গেছে দ্যাখো শঙ্কাবিহীন দিন!

বিজ্ঞাপন

নয় কভু নয়, এ কথা সত্য নয়...

বর্গির ছায়া মিলায়নি আজও, এখনো পৃথিবীময়

তাদের ঘোড়ার খুরের আঘাতে ফসল ধ্বংস হয়!

ফসলের মাঠে কাক ওড়ে নাকো, ইঁদুরের নেই চিন:

নয় কভু নয়, এ কথা সত্য নয়...

নতুন যুগের নতুন মানুষ সাবধান! সাবধান!

এখনো তোমার সোনার ফসল, তোমার খেতের ধান

রাতের ছায়ায় দূর বন্দরে চলে যায় অবিরাম...

তাই তো আমরা হন্যে হয়েছি: ফসলের মাঠে তাই জাগে সংগ্রাম!

নতুন যুগের নতুন মানুষ সাবধান! সাবধান!

এখনো তোমার সোনার ফসল, তোমাদের সন্তান

জোতদার আর দস্যুর হাতে বন্দিজীবন যাপে...

তোমার প্রিয়ার চোখে নেই ঘুম: নরম চোখেরা বেদনার অভিঘাতে

শঙ্কায় শুধু কাঁপে!

বিজ্ঞাপন

নতুন যুগের নতুন মানুষ সাবধান! সাবধান!

তোমার মাঠের কাজল মাটির পৌষালি অবদান

দস্যুরা যেন কেড়ে নাহি লয় আরবার কোনোমতে;—

নতুন যুগের নতুন মানুষ সাবধান! সাবধান!

শপথ–গড়ানো দিন এসে গেছে ধূসর ধূলির পথে...

কৃষানের হাতে শাণিত কাস্তে কৃষানির চোখে হাসির কুঁড়িটি ফোটে;

সোনালি ধানের সোনালিয়া শিষ কাজল মাটিতে লোটে।

কাফেলা (ফাল্গুন ও চৈত্র ১৩৫৬) বঙ্গাব্দ [১৯৫০] থেকে

মন্তব্য পড়ুন 0