শিল্পের সৌন্দর্যসন্ধান

কলকাতা আর্ট স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে তিনি শিক্ষকতার যে আদর্শ দেখেছেন, সেটাই তাঁর তপস্যাস্নিগ্ধ দৃঢ় ব্যক্তিত্বময় মনোগঠনে সহায়ক হয়েছে। মুকুল দে, রমেন চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পী ভারতের ছাপচিত্রকে বিশ শতকের ত্রিশের দশকে যে উন্নত শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেন, সফিউদ্দিন আহমেদকে তা আকৃষ্ট করে। তিনিও গভীর নিষ্ঠা নিয়ে শিক্ষকদের আদর্শ অনুসরণ করে ছাপচিত্রকে পৌঁছে দেন শিল্পের উন্নত মহিমায়। ফলে সমগ্র ভারতের আধুনিক ছাপচিত্রের অগ্রণী শিল্পীদের তালিকায় তাঁর নামও অনিবার্যভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।

পারিবারিক শিক্ষাও ছিল তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তমূলক পাথেয়। বেড়ে উঠেছিলেন সম্পূর্ণ নাগরিক পরিসরে। তাঁর স্থায়ী আবাস ছিল কলকাতার অভিজাত অঞ্চলে। পরিবারবলয়ে তিনি পেয়েছিলেন উন্নত সাংস্কৃতিক পরিবেশ। পারিবারিক পরিসরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এমনতরো পরিবেশের প্রভাবেই তাঁর সত্তা হয়েছিল পরিমার্জিত ও পরিশুদ্ধ; তাঁর মধ্যে গড়ে উঠেছিল নাগরিক বৈদগ্ধ্য, সততাস্নিগ্ধ উন্নত অভিরুচি ও পরিচ্ছন্নতার বোধ।

জীবনের শুরু থেকেই ছবি আঁকার ক্ষেত্রে সততা বা আন্তরিকতার কোনো অভাব ঘটতে দেননি সফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি আঁকার সঙ্গে আবিষ্কার করেছেন নিজ মনের বিপুল আনন্দের এক গভীর সম্পর্ক। নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তাঁর ছবিতে এসেছে বিরচন-কৌশলের দক্ষতা; এসেছে উন্নত পরিপ্রেক্ষিতের বোধ। নিজ সবলতা-দুর্বলতা নিয়েও ছিলেন সচেতন। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে এতটুকু বাড়িয়ে বলার কোনো প্রবণতা তাঁর মধ্যে ছিল না। অসাধারণভাবে ছিলেন বিনয়ী। কী বর্ণাঢ্য তাঁর জীবন! অথচ এ নিয়ে ছিল না সামান্যতম অহংবোধ। সর্বদাই প্রচারবিমুখ; নিভৃতপরায়ণতাই ছিল তাঁর স্বভাবের আসল বৈশিষ্ট্য। কখনো ছোটেননি অর্থ বা খ্যাতির পেছনে।

শিল্পচর্চাকেই সার্বক্ষণিক ধ্যানের বস্তু করে তুলেছিলেন। তাঁর প্রতিটি শিল্পকর্মের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকত গভীর চিন্তা, পরিকল্পনা, আবেগ, মমতা, ভালোবাসা আর উৎকর্ষ সাধনের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা।

অর্থ নয়, কীর্তি নয়...

default-image

এসব দেখে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কথাই মনে পড়ে। তৃণাঙ্কুর নামক দিনলিপিগ্রন্থে তিনি লিখেছেন, জীবনের সার্থকতা অর্থ উপার্জনে নয়, খ্যাতি প্রতিপত্তিতে নয়, লোকের মুখের সাধুবাদে নয়, ভোগে নয়—সে সার্থকতা শুধু আছে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার ভেতর, বিশ্বের রহস্যকে উপলব্ধি করার আনন্দের মধ্যে। সফিউদ্দিন আহমেদও একইভাবে জীবনের সার্থকতা অর্থ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি, জনপ্রিয়তা কিংবা ভোগের মধ্যে খোঁজেননি; খুঁজেছেন শিল্পকে, শিল্পের রহস্যকে গভীর থেকে গভীরতরভাবে উপলব্ধি করার ভেতর। এ ক্ষেত্রে স্মরণীয় জীবনানন্দের এই বিখ্যাত উক্তিটিও—‘অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়/ আরও-এক বিপন্ন বিস্ময়/ আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে/ খেলা করে;’। এই বিপন্ন বিস্ময়ই সফিউদ্দিনকেও শিল্পের রহস্য ও সৌন্দর্য সন্ধানে জীবনভর ব্যাপৃত রেখেছে।

এ কারণেই প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করে যাওয়ার নিরন্তর প্রয়াসই হয়ে উঠেছিল তাঁর শিল্পযাত্রার মূলকথা।

সফিউদ্দিন আহমেদের শিল্পীসত্তার গভীরে লালিত ছিল এক সূক্ষ্ম অতৃপ্তির বোধ। একটি ছবি এঁকে তাঁর কখনো মনে হয়নি যে তিনি ভালো কিছু এঁকে ফেলেছেন। এ রকম অপূর্ণতা নিয়েই সব সময় কাজ করার ফলে কোনো এক বৃত্তে তাঁকে আবদ্ধ হয়ে থাকতে হয়নি। সব সময় যুগের পরিবর্তনের ধারাকে নিজের ছবিতে অঙ্গীকার করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সব সময়ই সচেষ্ট হয়েছেন চিত্রের জমিনে নতুন কিছু যোগ করার। মূলত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই আয়ত্ত করতে চেয়েছেন যুগের পরিবর্তনশীলতার দাবি। ফলে একাধিক মাধ্যমেই সফিউদ্দিন আহমেদ অর্জন করেন শিখরস্পর্শী কৃতিত্ব। স্বল্পভাষী, কোমল স্বভাবের অধিকারী এই শিল্পীর মনে সর্বদাই ছিল এক গভীর প্রশান্তির ভাব, যা তাঁর চিত্রের জমিনকেও দিয়েছে অসামান্য প্রশান্তির ব্যঞ্জনা।

দুমকায় প্রকৃতিপাঠ

কলকাতা আর্ট স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী বহির্দৃশ্য অনুশীলনের সূত্রে তিনি যেতেন কলকাতার শহরতলিসহ আশপাশের গ্রামাঞ্চলে। চিত্রে প্রকৃতির রূপ-রসকে ফুটিয়ে তোলার আগ্রহে প্রতিবছরই পূজার ছুটিতে কলকাতার বাইরে যেতেন। এভাবে গিয়েছেন বিহারের মধুপুর, দেওঘর, জেসিডি, গিরিডি, চাইবাসা, ঝাঝা ও দুমকায়। দুমকার নিসর্গ ও জীবন অবলম্বনে তাঁর মতো এত ছবি অখণ্ড বাংলার শিল্পীদের মধ্যে আর কেউ আঁকেননি। প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর নিবিড় বোধও গড়ে ওঠে দুমকায়। অনুধাবন করেন প্রকৃতির আত্মাকে। ছবির ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে বিশালত্বের যে ব্যঞ্জনা তিনি সৃষ্টি করেছেন, তাতে এই প্রকৃতিচেতনা স্পষ্ট।

দুমকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, তার শালবন, ময়ূরাক্ষী নদী, সাঁওতাল রমণীর দেহবল্লরীসহ তাদের সামগ্রিক জীবনকোলাহল তাঁর শিল্পবোধকে যেমন জাগ্রত করে, তেমনি তাঁর চিত্রের জমিনকেও করে তোলে চিত্রগুণে সমৃদ্ধ। ১৯৪৫-৪৭ পর্বে চার-চারটি পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালেই পঁচিশ বছর বয়সী সফিউদ্দিন আহমেদ সর্বভারতীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় এক শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

দেশভাগে উন্মূলিত

দেশভাগ সফিউদ্দিন আহমেদের জীবনে নিয়ে আসে এক গভীর পরিবর্তন। জন্মভূমি কলকাতার স্থায়ী আবাস থেকে উন্মূলিত হয়ে তাঁকে নতুন বসতি নির্মাণ করতে হয় ঢাকায়। এ ঘটনা তাঁর কাজের ধারায়ও আনে পরিবর্তন। ১৯৫৪-১৯৫৫ সালে পরপর দুবছর ঢাকাসহ সারা দেশ বন্যায় প্লাবিত হলে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেন। কলকাতায় এমন বন্যার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। বন্যার স্বচ্ছ পানির মধ্যে দেখেছেন মাছের খেলা; পানির ওপর দেখেছেন বৃষ্টিপতনের এক ছন্দময় রূপ আর ধ্বনিমাধুর্য। ফলে তাঁর পরবর্তী চিত্রধারায় অনিবার্যভাবেই বিষয় হিসেবে এসেছে বন্যা, মাছ, জাল, নৌকা ও পানির বৈচিত্র্য। এ ছাড়া দুই বাংলার প্রাকৃতিক স্বাতন্ত্র্যও ধরা পড়ে তাঁর কাছে। ওখানকার প্রকৃতিতে ছিল ধূসরতা, এখানে দেখেন নীলাভ সবুজের ছড়াছড়ি। দীর্ঘ অভিনিবেশের ফলে নীল ও সবুজকে মিশিয়ে ছবিতে আকাঙ্ক্ষিত আবেদন সৃষ্টিতে সমর্থ্য হন।

লন্ডনের শিক্ষায় আত্মবিশ্বাস

১৯৫৬ সালে তিনি লন্ডনে গিয়ে এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে ডিস্টিংশনসহ উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরিদর্শন করেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ নানা জাদুঘর। লন্ডনের স্কুলে তাঁর শিক্ষক মেলুয়িন ইভানস ছিলেন আধুনিক ছাপচিত্রের জনক স্ট্যানলি হেটারের বন্ধু। লন্ডনের শিক্ষা, শিক্ষকদের প্রশংসা এবং ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘর ও গ্যালারি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তাঁর মনে যে আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করে, তা তাঁর পরবর্তী সৃষ্টিধারাকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করে। টেকনিকের সূক্ষ্ম কারুকাজের বাইরে তাঁর ছবিতে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে অবয়বের প্রস্থান।

মুক্তিযুদ্ধের অনুভব

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকার স্বামীবাগে নিজ বাড়িতে তিনি একপ্রকার অবরুদ্ধ ও আতঙ্কগ্রস্ত জীবন যাপন করেন। নিজের চোখে দেখেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীসৃষ্ট মৃত্যুপুরীর বীভৎস রূপ। এই চোখই তাঁর পরবর্তীকালের চিত্রে মোটিফ হিসেবে অন্বিষ্ট হয়ে রূপক-প্রতীকের সুগভীর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। আনে দুঃখ ও বিষাদের অনুভূতি। সেই সঙ্গে তাঁর বহু ছবিতে ব্যবহৃত হয় সূর্যের মোটিফ, যা হয়ে ওঠে আশাবাদের প্রতীক।

কালোর সৌন্দর্য অনুশীলন

ছাত্রাবস্থা থেকেই কালোর প্রতি একধরনের দুর্বলতা ছিল সফিউদ্দিন আহমেদের মনে। কালো তাঁর কাছে বিবেচিত হয় রঙের রাজা হিসেবে। কালো রং অনুশীলনের জন্য ছাত্রজীবনেই বহুবার রাতের বেলায় গেছেন কলকাতার শিয়ালদা রেলস্টেশনে। উড এনগ্রেভিং মাধ্যমে চিত্র রচনার সময় এই রঙের সমৃদ্ধি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেন তিনি। লন্ডনেও শিক্ষকদের কাছ থেকে কালো রং আয়ত্ত করার কৌশল শেখার চেষ্টা করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কালোর বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার করেন এচিং-অ্যাকুয়াটিন্ট মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকে এসে তিন বছর ধরে এ শিল্পী নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাপৃত হন একগুচ্ছ রেখাচিত্র রচনায়, যেসব চিত্রে কালোর বিচিত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তিনি একপ্রকার সিদ্ধি লাভ করেন, পরিতুষ্ট হন।

default-image

সফিউদ্দিন আহমেদের সৃষ্টিকর্মে শৈলীগত ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও তা টেকনিকসর্বস্ব নয়, বিষয়ের বৈচিত্র্যে ও সৃজনশীলতায় সমান সমৃদ্ধ। তাঁর সব ছবির ভেতরই স্পষ্ট হোক, অস্পষ্ট হোক—বিষয়বস্তুর উপস্থিতি লক্ষণীয়। তাঁর চিত্র-পরিকল্পনার মধ্যেই আছে এই বিষয়গত বৈভব। বিষয় আহরণে সব সময় দেশের আত্মাকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন তিনি। কলকাতা পর্বে যেমন এসেছে সেখানকার বস্তিজীবনের পারাবত, বিহারের বিভিন্ন অঞ্চলের নিসর্গ, দুমকার প্রকৃতি ও সাঁওতালজীবন; তেমনি ঢাকা পর্বে তাঁর ছবির উপজীব্য হয়েছে এখানকার প্রকৃতি এবং শ্রমজীবী মানুষ: ঢাকা মহানগরীর শরবত বিক্রেতা, বাদাম বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতা, ছাদ-পেটানো মজুরসহ বাংলাদেশের কৃষক, জেলে, মাঝি, ছুতার ও কুমোর। আর সংগ্রামশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে এসেছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।

দেশের আত্মাসন্ধান

ছবিতে তিনি সব সময়ই দেশের স্বরূপসহ পুরো জাতির যন্ত্রণাকে তার আবেগসহ তুলে ধরতে চেয়েছেন। ‘একুশে স্মরণে’ শিরোনামে ছবিতে যেমন আছে শহীদদের উদ্দেশে কান্না, তেমনি ‘একাত্তরের’ ছবিতে আছে কান্নার পাশাপাশি নারীর বিষাদময় চোখের ব্যবহার। সুতরাং বোঝাই যায়, দেশাত্মবোধ তাঁকে স্লোগানমুখর করে না, জীবনের গভীর মর্মমূলে তা আবেদন সৃষ্টি করে। কারণ, বিষয়বৈভবের সঙ্গে সব সময়ই সমৃদ্ধ শৈলীর একটা অসামান্য সমন্বয় ঘটাতে তিনি চেষ্টা করেছেন। প্রাচ্যের বিষয় ও পাশ্চাত্যের করণকৌশল—এ দুইয়ের সার্থক সমন্বয় সাধনের প্রয়াসই তাঁর শিল্পচর্চার মূলকথা।

জন্মশতবর্ষে এই সাধক শিল্পীর প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর নির্লোভ জীবনাদর্শ, শিল্পবৈশিষ্ট্য ও পরিশুদ্ধতাকামী সৃষ্টিগুণকে অনুসরণ করলেই তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।

একনজরে

default-image

সফিউদ্দিন আহমেদ, চিত্রকর

জন্ম: ২৩ জুন ১৯২২, ভবানীপুর, কলকাতা

মৃত্যু: ১৯ মে ২০১২, ঢাকা, বাংলাদেশ

শিক্ষা ও কর্মজীবন

১৯৩৬: কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে শিক্ষালাভ

১৯৪৬: সরকারি আর্ট স্কুলের শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগ থেকে শিক্ষালাভ

১৯৪৭: ফেব্রুয়ারি মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সমকালীন ভারতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ। এখানে তাঁর ‘দুমকা’ ও ‘পারাবত’ প্রশংসিত হয়

১৯৪৭: ১৪ আগস্ট কলকাতা থেকে ঢাকায় আগমন; ১৫ আগস্ট ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে ড্রইংশিক্ষক হিসেবে যোগদান

১৯৪৮: জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ঢাকায় আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ; ঢাকায় গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

১৯৪৮: বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের প্রধান

১৯৫৮: লন্ডনের সেন্ট্রাল স্কুল অব ক্রাফট থেকে এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে ডিপ্লোমা

১৯৫৯: লন্ডনের নিউ ভিশন সেন্টার আর্ট গ্যালারিতে প্রথম একক প্রদর্শনী

১৯৭৯: চারুকলা ইনস্টিটিউটে চাকরি থেকে অবসর

উল্লেখযোগ্য ছবি

‘বনপথে দুই সাঁওতাল নারী’, ‘দুমকা চিত্রমালা’, ‘ময়ূরাক্ষীর ধারে’, ‘সাঁওতাল মেয়ে’, ‘শরবতের দোকান’, ‘মাছ ধরার সময়’, ‘নগ্নিকা’, ‘জড়জীবন’, ‘প্যারিসে বইয়ের দোকান’, ‘মাছ ধরার জাল’, ‘চোখ’, ‘কালো মাছ’, ‘বন্যা’, ‘কালো চিত্রমালা’।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননা

১৯৪৫: ভারতের একাডেমি অব ফাইন আর্ট থেকে একাডেমি প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক

১৯৬৩: তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পদক

১৯৭৮: চারুকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক

১৯৯৬: চারুকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতা পুরস্কার

সূত্র: মাহমুদ আল জামান সম্পাদিত সফিউদ্দিন আহমেদ সফিউদ্দিন আহমেদ ডটকম

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন