বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান বলছে, উপন্যাসের মধ্যে ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল স্যালি রুনির বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড, হয়্যার আর ইউ। উপন্যাসটি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে ফেরার, স্ট্রাউস অ্যান্ড গিরক্স প্রকাশনী থেকে বের হয়। প্রকাশের পর থেকে বইটি এখন পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে সেরা বিক্রি বইয়ের তালিকায় রয়েছে। অ্যালিস, ফেলিক্স, এলিন ও সাইমন—এই চার তরুণ বন্ধুর উদ্দাম জীবন যে সারা দুনিয়ার পাঠককে এতটা নাড়া দেবে, তা কি রুনি নিজেও মালুম করতে পেরেছিলেন? স্যালি রুনির বয়স মাত্র ৩০। লিখেছেন তিনটিমাত্র উপন্যাস। এর মধ্যেই পেয়েছেন ‘সানডে টাইমস ইয়ং রাইটার অব দ্য ইয়ার’-এর মতো সম্মানজনক পুরস্কার। আইরিশ এই লেখক যে নিছক ছেলেখেলা করতে সাহিত্যভুবনে পা রাখেননি তা ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’র মতোই পরিষ্কার।

পরের আলোচিত বইটির নাম দ্য বুকস অব জ্যাকব। লিখেছেন নোবেলজয়ী পোলিশ ঔপন্যাসিক ওলগা তোকারজুক। তোকারজুকের এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পোলিশ ভাষায়। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজি ভাষায় পেপারব্যাক বই হিসেবে প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর। উপন্যাসটি বাজারে এনেছে ফিটজকারালদো। প্রকাশের পর থেকেই এটি আলোচনার শীর্ষে। বইটির হার্ডকভার বাজারে আসবে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি—প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রিভারহেড বুকসের সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় পাঠকের মধ্যে উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনা আরও বেগবান হয়েছে।

বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল মার্কিন লেখক জনাথন ফ্রানজেনের উপন্যাস ক্রসরোডস। ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশের পরপরই পাঠকরা লুফে নেন উপন্যাসটি। সত্তরের দশক, ইলিনয়ের ছোট্ট এক শহর, ছোট্ট পরিবার, পরিবারের সদস্যরা ভালোবাসে সংগীত, মাদক আর যৌনতা। অন্যদিকে ভিয়েতনামের যুদ্ধ, দীর্ঘদিন ধরে যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা, সেই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে ইলিনয়ের ছোট্ট ওই পরিবারটিতে—এসব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনার এক উপন্যাস। জনাথনের ষষ্ঠ উপন্যাস এটি। ৫৯২ পৃষ্ঠার বড় এই উপন্যাসটি একমুহূর্তও পাঠককে অন্যমনস্ক হতে দেয় না।

এবার বলতে হবে ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান-এর কথা। ২০২১ সালের অন্যতম আলোচিত এ উপন্যাসের লেখক কাজুও ইশিগুরো। বিলেতনিবাসী জাপানি এ লেখক নিজ গুণেই আলোচিত। তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলেই আলোচনায় থাকেন তা নয়, বরং তাঁর উপন্যাসটি সত্যিই আলোচনার দাবিদার। ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের ২ মার্চ আলফ্রেড এ নফ থেকে। একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা, ত্যাগ আর একটি রোবটকে ভালোবাসার কথা বলতে বলতে এগিয়ে যায় যে উপন্যাস, সেই উপন্যাস পাঠকের ভালো না লেগে উপায় আছে?

২০২১ সালের আলোচিত আরেকটি উপন্যাসের নাম পালমেরস। লেখক গেল জনসন। আফ্রিকান-আমেরিকান লেখক। আজ থেকে ২০ বছর আগে উপন্যাসটি লিখেছিলেন তিনি। তারপর পাণ্ডুলিপি তুলে দিয়েছিলেন আরেক কিংবদন্তি লেখক টনি মরিসনের হাতে। টনি মরিসন সম্পাদনা করেছিলেন উপন্যাসটি। সেই উপন্যাস নতুন করে আবার বের হয় ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রকাশ করে বিকন প্রেস। তারপরই আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে বইটি। পাঠক মুড়িমুড়কির মতো কিনতে থাকেন পালমেরস। এটি এমন একটি উপন্যাস, যেখানে ধরা আছে কৃষ্ণাঙ্গ এক ক্রীতদাস বালিকার অশ্রুগাথা। তার স্বামী হারিয়ে গেছে। তাকে সারা ব্রাজিল তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ায় ওই কিশোরী। তার অশ্রু, হাহাকার, আর জীবনসংগ্রাম বর্ষার মেঘের মতো স্যাঁতসেঁতে করে তোলে পাঠকের হৃদয়।

এরপর আলোচনায় ছিল দ্য উইমেন অব ট্রয়। এ উপন্যাসটিকে বলা হচ্ছে ২০২১ সালের সেরা নারীবাদী উপন্যাস। প্যাট বার্কার এর আগেও দ্য সাইলেন্স অব দ্য গার্লস নামে নারীবাদী উপন্যাস লিখেছেন। তবে এই উপন্যাসটি সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। দ্য উইমেন অব ট্রয় সম্পর্কে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা হয়, এটি এক অভিনব গদ্যশৈলীর উপন্যাস। বার্কারের গদ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে, এর সরলতা ও সহজবোধ্যতা। উপন্যাসটি ভাষা ও বক্তব্যগুণে বিপুলসংখ্যক পাঠকের ভালোবাসা অর্জন করবে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। প্যাট বার্কারের পুরো নাম প্যাট্রিসিয়া ম্যারি ডব্লিউ বার্কার। তবে প্যাট বার্কার নামেই লেখালেখি করেন এই ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক। দ্য উইমেন অব ট্রয় প্রকাশিত হয়েছে ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট ডাবলডে থেকে।

এসব উপন্যাস ছাড়াও বছরজুড়ে কমবেশি আলোচনায় ছিল প্যাট্রিসিয়া লকউডের নো ওয়ান ইজ টকিং অ্যাবাউট দিজ, লরেন গ্রফের ম্যাট্রিক্স, কলসন হোয়াইটহেডের হার্লেম সাফল, এলিজাবেথ স্ট্রউটের ওহ উইলিয়াম, রবার্ট জনস জুনিয়রের দ্য প্রফেট, ভিয়েত থান নগুয়েনের দ্য কমিটেড, অ্যান্থনি ভিয়েসনা সোর আফটারপার্টিস ইত্যাদি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট, ফোর্বস, লিটারারি হাব, আমাজন ও গুডরিডস।

বইপত্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন