বাবাকে নিয়ে চার বই

বাবাদের দেখে কী মনে হয়? বুদ্ধিমান, শক্তিশালী, একেবারে সুপারহিরোদের মতো! কিন্তু বাবারাও তো ছোট ছিলেন। আর কেউ কেউ ছিলেন বোকার হদ্দ। আবার কোনো বাবা প্রাণ দিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। কোনো বাবা সুযোগ পেলেই লাপাত্তা হয়ে যান। আবার কোনো বাবা সঙ্গী হন দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চারে। বাবাকে নিয়ে লেখা এমনই কিছু দারুণ বইয়ের হদিস দেওয়া হলো এখানে...

বাবা যখন ছোটো

ছবি: গোল্লাছুট

বাবাও তাহলে ছোট ছিলেন! বিচিত্র সব কাণ্ড ঘটাতেন, আর করতেন অদ্ভুত সব বোকামি! দুষ্টামি তো ছিলই। বিশ্বাস হয়, বলো? এর জন্য আবার শাস্তিও পেতেন বেচারা বাবা। রুশ লেখক আলেক্সান্দর রাস্কিন তাঁর ছেলেবেলার এমন অদ্ভুত মিষ্টি সব গল্প শুনিয়েছিলেন ছোট্ট মেয়ে সাশাকে। বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন ননী ভৌমিক। বাবাকে নিয়ে এত ভালো বইয়ের তুলনা হয় না।

একাত্তর এবং আমার বাবা

ছবি: গোল্লাছুট

জানো হয়তো, হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ। ১৯৭১ সালে ডায়েরির মতো করে লিখে একটি পাণ্ডুলিপি দাঁড় করান হুমায়ূন আহমেদ। ওতে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর সময়, পরিবার, বিশেষ করে বাবার কথা। বাবার শহীদ হওয়ার ভীষণ কষ্টের ঘটনা লিখে পাণ্ডুলিপিটি শেষ করেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

মন্টির বাবা

ছবি: গোল্লাছুট

‘আজ তিন দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি। সারা দিন বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই। আর আজ ঠিক তিন দিন হলো মন্টির বাবা বাড়ি থেকে উধাও।’ আনোয়ারা সৈয়দ হক এভাবেই শুরু করেছেন বইটা। বুঝতেই পারছ, বাবাকে নিয়ে কতটা ভুগতে হচ্ছে ছোট্ট মন্টিকে! ওর আবার দুই মা। ভাগ্যিস, তাদের মধ্যে দারুণ মিল। আর মন্টিরা ভাইবোন সব মিলে পাঁচজন। কিন্তু বাবাটা গেল কোথায়? দারুণ এক বই এটা!

বুবুনের বাবা

ছবি: গোল্লাছুট

বুবুন যখন ছোট, তখন ওর বাবার মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। ভুলে যেতে থাকে সবকিছু। একসময় বাবা হারিয়ে যায়। বাবাকে ছাড়াই বেড়ে উঠতে থাকে বুবুন। মায়ের সঙ্গে নতুন জায়গায় যাওয়ার পর হঠাৎ করে ফিরে আসে বাবা! কিন্তু বাবা তো কিছুই মনে করতে পারে না। বুবুন আর ওর বন্ধুদের উদ্যোগে বাবা কি শেষে স্মৃতিশক্তি ফিরে পেল? পড়েই দেখো মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই বই।