default-image

স্বনামধন্য সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর রসবোধ ছিল দুর্দান্ত। তাঁর উপস্থিতিতে মশগুল হয়ে উঠত আড্ডার আসর। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী। কোনো বিষয়ে অনর্গল বলে যেতে পারতেন। এ অসাধারণ বাগ্মিতা কোথায় পেয়েছিলেন তিনি?

সে কথা বলে গেছেন তিনি নিজেই। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক মহম্মদ আবদুল ওয়ালী লিখেছেন, তাঁর সঙ্গে মুজতবা আলীর প্রথম সাক্ষাৎ যখন হয়, তখন টানা তিন দিন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এরপর মুজতবা আলী নিজেই বলেন, এই যে তিনি এত বকবক করেন, তার জন্য তিনি দায়ী নন। এর পেছনে একটা ইতিহাস আছে।

উৎসাহ দেখালেন আবদুল ওয়ালী। মুজতবা বলেন, ছেলেবেলায় তিনি যে পাড়ায় থাকতেন, সে পাড়ায় বাচ্চাদের যিনি টিকা দিতেন, তাঁকে মুজতবার মা বলেছিলেন ছুটির দিনে বাড়ি আসতে।

বিজ্ঞাপন

পরদিন টিকাদানকারী এলেন। মা জানতে চাইলেন, টিকা দেওয়ার সব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে কি না। টিকাদানকারী বললেন, সিরিঞ্জ আনতে ভুলে গিয়েছেন।

মা বললেন, চিন্তা নেই, ব্যবস্থা আছে। কিছুক্ষণ পরে তিনি হিজ মাস্টার্স ভয়েসের গ্রামোফোনের পিন নিয়ে এলেন! টিকাদানকারীকে বললেন, এই পিন স্পিরিটে পুড়িয়ে টিকা দিয়ে দিন।

মুজতবা আলী ডাক্তারকে বললেন,
তাঁকে যে রেকর্ডপিন দিয়ে টিকা দেওয়া হলো, সেই থেকে তিনি হিজ মাস্টার্স ভয়েসের বিশ্বস্ত সেবকের মতো জীবনভর বকে চলেছেন।

সূত্র: তাপস ভৌমিকের মজলিসী মুজতবা

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন