বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁদের এই দলকে খুব স্নেহ করতেন সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। ফলে এই দলের সদস্যরাও সুযোগটা কাজে লাগাতেন। অধিকাংশ সময়ে দুপুরের খাবারটা সওগাত সম্পাদকের ওপরেই চালিয়ে দিতেন। তো নাসিরউদ্দীন সাহেব এই ফ্রি খাওয়াটাকে কন্ট্রোল করতে অভিনব এক নিয়ম তৈরি করলেন, লাঞ্চ আর চায়ের টাকা দেওয়া হবে বটে, তবে তার বিস্তারিত কারণ দর্শিয়ে দরখাস্ত দিতে হবে।

তখন সৈয়দ শামসুল হক ও তাঁর বন্ধুরা মিলে নাসিরউদ্দীন বরাবর এই মর্মে দরখাস্ত লিখলেন: আমরা কয়েকজন অনাহারী সাহিত্যিক আপনার পাশের গুদামঘরে বসে আছি। দুপুরে খাওয়াতে হবে।

দরখাস্তে দুপুরের খাবার তো জোগাড় হলো। এখন সিগারেট খাওয়ার পয়সা পাওয়া যাবে কোথায়? এ সময় হাসান হাফিজুর বুদ্ধি খাটিয়ে ওই দরখাস্তে আরেকটি লাইন যুক্ত করলেন, ‘“বাজে খরচে’র জন্য লাগবে আট আনা।’

কিন্তু নাসিরউদ্দীন সাহেব সেই দরখাস্ত ফেরত পাঠালেন। বললেন, ‘বাজে খরচ’টা পরিষ্কার করে লিখতে হবে।

বোঝা যাচ্ছে, সে সময়ের তরুণ কবি–সাহিত্যিকদের তুলনায় বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পাদক নাসিরউদ্দীনও কম রসিক ছিলেন না।

সূত্র: সৈয়দ শামসুল হকের তিন পয়সার জ্যোছনা

গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন